সালথায় আওয়ামী লীগের দুই পক্ষে সংঘর্ষ, আহত ১৭

আপডেট : ০৭ মে ২০২০, ২২:২৬

সালথা উপজেলায় আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপের আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে ইউপি সদস্যসহ ১৭ জন আহত হয়েছেন। এসময় বাড়িঘর ভাঙচুর ও লুটপাটও করা হয়। গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার দিকে যদুনন্দী ইউনিয়নের খারদিয়া-উজিরপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। আহতদের ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, নগরকান্দা স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও বোয়ালমারী স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ভর্তি করা হয়েছে। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, যদুনন্দী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক খারদিয়া গ্রামের বাসিন্দা আলমগীর হোসেন মিয়ার সঙ্গে একই গ্রামের আওয়ামী লীগ সমর্থিত রফিকুল মোল্যার মধ্যে আধিপত্য নিয়ে বিরোধ চলে আসছে। এরই সূত্র ধরে গতকাল আলমগীর মিয়ার লোকজনের বাড়িঘরে হামলা চালায় রফিকুলের সমর্থকরা। এসময় আলমগীর মিয়ার লোকজন হামলা ঠেকাতে গেলে সংঘর্ষের সৃষ্টি হয়। খবর পেয়ে সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার এফ এম মহিউদ্দিন ও সালথা থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল ফাঁকা গুলি ও টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। দুই ঘণ্টাব্যাপী চলা এ সংঘর্ষে ২০টি বসতঘর ভাঙচুর ও লুটপাট করা হয়।

এ বিষয়ে রফিকুল মোল্যা বলেন, ‘আমি বাড়িতে নাই, দুই দিন আগে গোপালগঞ্জ এসেছি। তবে শুনেছি, গত বুধবার আমার দলের লোক উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতা নুরুজ্জামান টুকু ঠাকুরের ছেলে ডালিমের ওপর আলমগীর মিয়ার লোকজন হামলা করেন। এরই সূত্র ধরে সকালে সংঘর্ষ বাধে। এ সময় তেহারুন নেছা, সাজ্জাদ শেখ, বক্কার শেখ, আছাদ শেখ ও ইদ্রিস ফকিরসহ আট জন আহত হয়েছেন।’ তবে আলমগীর হোসেন মিয়া বলেন, ‘রফিকুল ইসলামের লোকজন দীর্ঘদিন ধরে আমার লোকজনকে হুমকি-ধামকি দিয়ে আসছেন। গতকাল উজিরপুর গ্রামে আমার সমর্থকদের ১৪/১৫টি বাড়িতে অতর্কিত হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও লুটপাট করেন রফিকের নেতৃত্বে তার সমর্থকরা। সেখান থেকে এসে আমার ইটের ভাটা ও আমার বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও লুটপাট করে নিয়ে যায়। এ সময় হামলা ঠেকাতে গেলে ইউপি সদস্য সিরাজ বিশ্বাস, মানোয়ার হোসেন মিয়া, পান্নু মোল্যা, সাদি মোল্যা, রুবি বেগম, সিরাজ শেখসহ ৯ জন আহত হন।’ সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার এফ এম মহিউদ্দীন বলেন, ‘এলাকা শান্ত রাখতে পুলিশ মোতায়েন আছে।’