রাজধানীতে মার্কেট অথবা শপিংমলে কেনাকাটা করতে ক্রেতাকে তার নিজ নিজ পরিচয়পত্র বহন করতে হবে। একই সঙ্গে দুই কিলোমিটারের মধ্যে অবস্থিত কোনো এলাকার বাসিন্দারা অন্য এলাকায় গিয়ে কেনাকাটা করতে পারবেন না। করোনাকালীন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের আওতাধীন এলাকাসমূহে শপিংমল ও মার্কেট খোলা রাখার ব্যাপারে এমন নির্দেশনা দিয়েছে ডিএমপি। ডিএমপি কমিশনার মোহা. শফিকুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে কেনাকাটার ক্ষেত্রে এসব নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
নির্দেশনায় বলা হয়েছে—সরকার ঘোষিত নির্ধারিত সময় সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত শপিংমল ও দোকান খোলা রাখা যাবে। তবে ফুটপাতে বা প্রকাশ্য স্থানে হকার, ফেরিওয়ালা, অস্থায়ী দোকানপাট বসতে দেওয়া যাবে না। বিজ্ঞপ্তিতে আরো বলা হয়, করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে ক্রেতারা তাদের নিজ নিজ এলাকার দুই কিলোমিটারের মধ্যে অবস্থিত শপিংমলে ঘোষিত সময়ের মধ্যে কেনাকাটা করতে পারবেন। তবে এক এলাকার ক্রেতা অন্য এলাকায় অবস্থিত শপিংমলে কেনাকাটা করতে যেতে পারবেন না। কেনাকাটার সময় বসবাসের এলাকা সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়ার জন্য প্রত্যেক ক্রেতা তার নিজ নিজ পরিচয়পত্র (যেমন :ব্যক্তিগত আইডি কার্ড অথবা পাসপোর্ট, ড্রাইভিং লাইসেন্স, বিদ্যুত্-গ্যাস-পানির বিলের মূল কপি ইত্যাদি) বহন করবেন এবং তা প্রবেশমুখে প্রদর্শন করবেন।
প্রত্যেক শপিংমলের প্রবেশমুখে স্বয়ংক্রিয় জীবাণুনাশক টানেল বা চেম্বার স্থাপন করতে হবে এবং তাপমাত্রা মাপার জন্য থার্মাল স্ক্যানারের ব্যবস্থা রাখতে হবে। এছাড়াও প্রত্যেক দোকানে পৃথকভাবে তাপমাত্রা মাপার ব্যবস্থা রাখতে হবে। প্রতিটি শপিংমলে প্রবেশের ক্ষেত্রে হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহারসহ স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় ঘোষিত স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করতে হবে। মাস্ক পরিধান ব্যতীত কোনো ক্রেতা দোকানে প্রবেশ করতে পারবে না। সব বিক্রেতা ও দোকান কর্মচারীকে মাস্ক ও হ্যান্ড গ্লাভস পরিধান করতে হবে।
প্রতিটি শপিংমল-বিপণি বিতানের সামনে সতর্কবাণী ‘স্বাস্থ্যবিধি না মানলে, মৃত্যু ঝুঁকি আছে’ সংবলিত ব্যানার টানাতে হবে। প্রতিটি শপিংমলে প্রবেশ, বাহির ও কেনাকাটার সময় ক্রেতা-বিক্রেতাকে কমপক্ষে এক মিটার দূরত্ব বজায় রাখতে হবে। এই নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে দোকানে যতজন ক্রেতা অবস্থান করতে পারেন তার বেশি ক্রেতাকে প্রবেশ করতে দেওয়া যাবে না। সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার জন্য প্রত্যেক দোকানের সামনে দূরত্ব মেপে মার্কিং করতে হবে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরো বলা হয়, শপিংমলগুলোতে বয়স্ক, শিশু ও অসুস্থদের (হূদেরাগ, ডায়াবেটিস ও অন্যান্য) গমনাগমনে নিরুত্সাহিত করতে হবে। কেনাকাটা শেষে মার্কেটে ভিড় সৃষ্টি করা যাবে না। প্রবেশ ও বাহিরের আলাদা পথ নির্ধারণ করে দিতে হবে।
প্রত্যেক শপিংমলের পার্কিং এলাকায় গাড়ি জীবাণুমুক্তকরণের ব্যবস্থা থাকতে হবে। গাড়ির চালকরা একত্রিত হয়ে আড্ডা না দেওয়া এবং নিজ নিজ গাড়িতে অবস্থান করে সে বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে। যাতায়াতের জন্য সীমিত পরিসরে সাধারণ রিকশা ও সিএনজি চালু থাকবে। তবে সিএনজিতে দুই জনের অতিরিক্ত যাত্রী পরিবহন করতে নিষেধ করা হয়েছে। প্রতিটি যাত্রী এবং চালককে অবশ্যই মাস্ক পরতে হবে।
