স্পোর্টস রিপোর্টার
গত মাসেই মুশফিকুর রহিম ঘোষণা দিয়েছিলেন প্রথম ডাবল সেঞ্চুরির ব্যাটটা নিলামে তুলবেন। করোনা ভাইরাসে ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় ব্যয় হবে ব্যাট বিক্রির অর্থ। করোনায় দুর্গত মানুষের সাহায্যে দাঁড়ানোর অভিপ্রায়ে নিজের প্রিয় ও ঐতিহাসিক ব্যাটটি নিলামে তুলছেন তিনি। অবশেষে আজই নিলামে উঠছে মুশফিকের ব্যাট।
দেশীয় ই-কমার্স সাইট পিকাবুর মাধ্যমে অনুষ্ঠিত হবে নিলাম। এই নিলাম চলবে টানা পাঁচ দিন। আগামী বুধবার ১৪ মে রাত ১০টায় শেষ হবে নিলামের কার্যক্রম। এই সাইটে ব্যাটের দর হাঁকাতে পারবেন আগ্রহীরা।
মুশফিকের পাশাপাশি আজ পিকাবুতে নিলামে উঠছে মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত, নাঈম শেখের ব্যাট ও বছরের শুরুতে অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ জয়ী অধিনায়ক আকবর আলীর ব্যাটিং গ্লাভস ও জার্সি।
গলে ২০১৩ সালে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে বাংলাদেশের হয়ে প্রথম ডাবল সেঞ্চুরি করেছিলেন মুশফিক। করোনা সংকটে দরিদ্রদের পাশে দাঁড়াতে প্রিয় ব্যাটের মায়া ত্যাগ করছেন এই অভিজ্ঞ উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান। ওই ইনিংসে ২০০ রান করে আউট হন তিনি। যদিও একই ম্যাচে ঐ ইনিংসেই তার আগে ডাবল সেঞ্চুরির সুযোগ হাতছাড়া করে আউট হয়েছেন মোহাম্মদ আশরাফুল।
একটা ট্রফির আক্ষেপ বয়ে বেড়াচ্ছিল বাংলাদেশ অনেক দিন ধরে। কয়েক বছর ধরেই বহুজাতিক সিরিজে নাগাল পেলেও ট্রফি বগলদাবা করতে পারছিল না বাংলাদেশ। গত বছর বিশ্বকাপের আগে আয়ারল্যান্ডে ত্রিদেশীয় সিরিজ দিয়ে প্রথম কোনো শিরোপা ঘরে তোলার গৌরব অর্জন করে বাংলাদেশ। ফাইনালে মোসাদ্দেকের ২৪ বলে ৫২ রানের বিধ্বংসী এক ইনিংসে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে রুদ্ধশাস জয় পায় মাশরাফি বাহিনী। ঐতিহাসিক সেই ইনিংসের ব্যাটটিও আজ নিলামে তুলছেন মোসাদ্দেক।
গত বছর নভেম্বরে ভারতের বিরুদ্ধে নাগপুরে ৪৮ বলে খেলা ৮১ রানের ইনিংস খেলেছিলেন নাঈম শেখ। সেই ব্যাটটি নিলামে বিক্রির মাধ্যমে এই তরুণ বাঁ-হাতি ওপেনারও দাঁড়াতে চান অসহায় মানুষের পাশে।
চলতি বছরের শুরুতে বাংলাদেশকে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার স্বাদ এনে দিয়েছিল যুব দল। দক্ষিণ আফ্রিকার পচেস্ট্রুমে অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের ফাইনালে ভারতকে হারিয়ে ইতিহাস রচনা করে বাংলাদেশের যুবারা। শ্বাসরুদ্ধকর সেই ম্যাচে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়ে দলকে জেতান অধিনায়ক আকবর আলী। বিশ্বজয়ের স্মৃতিবিজড়িত জার্সি এবং গ্লাভস এবার করোনা দুর্গতদের সাহায্যার্থে নিলামে তুলছেন তিনি।
এর আগে সাকিব আল হাসান, তাসকিন আহমেদ, সৌম্য সরকাররা তাদের স্মারক নিলামে তুলে বিক্রি করেছেন। এবং বিক্রিত অর্থ দুস্থদের সহযোগিতায় ব্যয় করেছেন।
