কবে আসবে রোকেয়ার দেহাবশেষ?

উন্নয়নের আকাঙ্ক্ষা পূরণ হয়নি দীর্ঘদিনেও

আপডেট : ৩০ ডিসেম্বর ২০১৮, ২২:৪০

মিঠাপুকুর সদর থেকে প্রায় ১৩ কিলোমিটার দূরে পায়রাবন্দ গ্রাম। এই গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন বেগম রোকেয়া। ছোটবেলা থেকেই লেখাপড়ায় বেশ আগ্রহ ছিল তাঁর। কিন্তু, পারিবারিকভাবে নারীদের প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার প্রতি অনাগ্রহ ছিল গুরুজনদের। তাই, বড় ভাইদের কাছে শিক্ষার হাতেখড়ি হয় রোকেয়ার। ধীরে ধীরে সু-শিক্ষার আলোয় উদ্ভাসিত হয়ে ওঠেন তিনি। পরে নানা প্রতিকূলতায় জ্ঞানের আলো ছড়িয়ে দেন গোটা ভারত উপ-মহাদেশে নারীদের মাঝে। হয়ে ওঠেন মহীয়সী ও নারী জাগরণের অগ্রপথিক।

বেগম রোকেয়ার জন্মস্থান পায়রাবন্দ ঘুরে জানা যায়, তার পরিবারের সদস্যদের নানা আক্ষেপ ও কষ্টের কথা। রোকেয়া স্মৃতিকেন্দ্রের অদূরে বেগম রোকেয়ার ছোট ভাই মছিহুজ্জামান সাবেরের মেয়ে রনজিনা সাবেরের (৬৪) বাড়ি। তিনি স্বামী এক ছেলে এক মেয়ে নিয়ে সেখানে বসবাস করছেন। আক্ষেপ নিয়ে রনজিনা সাবের জানান, ‘ডিসেম্বর এলেই রোকেয়াকে নিয়ে শুরু হয় নানা আয়োজন। পরে তাঁর আর খবর থাকে না। কেউ খোঁজ নেয় না রোকেয়ার পরিবারের। তিনি আরো বলেন, আমার ফুপুর রেখে যাওয়া অনেক দুর্লভ জিনিস এখনও আমাদের কাছে সংরক্ষিত আছে। মূল্যবান অনেক সম্পদ ইতিমধ্যে রংপুরের তাজহাট যাদুঘরে হস্তান্তর করা হয়েছে। পারিবারিকভাবে প্রশাসনের কাছে আমাদের দাবি বেগম রোকেয়ার দেহাবশেষ ভারতের কোলকাতার সোদপুর থেকে তাঁর জন্মস্থান রংপুরের পায়রাবন্দে এনে সমাহিত করতে। এখানে তাকে সমাহিত করা হলে বর্তমান প্রজন্মের কাছে তিনি বহু যুগ বেঁচে থাকবেন। রোকেয়ার বংশধরদের মূল্যায়ন করার দাবি করেন রনজিনা সাবের।

স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার পায়রাবন্দের খোর্দমুরাদপুর গ্রামে মহীয়সী নারী বেগম রোকেয়া ১৮৮০ সালের ৯ ডিসেম্বর জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতার নাম জহির উদ্দিন মোহাম্মদ আবু আলী হায়দার সাবের। মা রাহাতুন্নেসা সাবেরা চৌধুরানী। ১৮৯৮ সালে ১৬ বছর বয়সে ভাগলপুর নিবাসী ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট খান বাহাদুর সাখাওয়াত হোসেনের সঙ্গে বিয়ে হয় তাঁর। ২৮ বছর বয়সে স্বামী হারান তিনি। ১৯১০ সালের শেষদিকে তিনি কোলকাতায় যান। তাঁর লেখা অবরোধবাসিনী, সুলতানার স্বপ্ন, অর্ধাঙ্গী, মতিচুর ছাড়াও অসংখ্য বই লিখে তিনি সারাবিশ্বে সমাদৃত হন। নারী জাগরণের এই পথিকৃত ১৯৩২ সালের ৯ ডিসেম্বর কোলকাতায় মারা গেলে তাঁকে সোদপুরে সমাহিত করা হয়।

বেগম রোকেয়া স্মৃতি কেন্দ্রের পাশে ১৯৯২ সালে প্রতিষ্ঠিত ‘পায়রাবন্দ বেগম রোকেয়া স্মৃতি মহাবিদ্যালয়টিকে সরকারিকরণ করা হয়েছে। কিন্তু উন্নয়নের দাবিগুলো কাঙ্ক্ষিতভাবে পূরণ হয়নি দীর্ঘদিনেও। এছাড়াও বেদখল হওয়া বেগম রোকেয়ার পৈত্রিক সম্পত্তিগুলো উদ্ধারের কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি প্রশাসন। বেগম রোকেয়া স্মৃতি কেন্দ্রের উপ-পরিচালক আব্দুল্লাহ আল ফারুক বলেন, অন্যবারের মত এবারেও যথাযোগ্য মর্যাদায় সরকারিভাবে তিন দিনব্যাপী কর্মসূচির মধ্য দিয়ে রোকেয়া দিবস পালন করা হচ্ছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মামুন অর রশিদ বলেন, জেলা প্রশাসন থেকে সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়। আমরা সার্বিক সহযোগিতা করে থাকি।