চট্টগ্রামের ডেইরি খামারিরা এখন নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার সংগ্রাম করে যাচ্ছে। বাজারে দুধের চাহিদা কমে যাওয়ায়, মিষ্টি কারখানা, হোটেল-রেস্টুরেন্ট বন্ধ থাকায় চট্টগ্রামের ডেইরি ফার্মগুলোর প্রতিটি গড়ে প্রতিদিন ১৫ হাজার টাকা থেকে ২০ হাজার টাকা আর্থিক লোকসান গুনছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, চট্টগ্রামে ছোটো-বড়ো মিলিয়ে প্রায় ৫০ হাজার বিভিন্ন বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে মহানগরীসহ আশপাশের প্রায় ২০ হাজার ডেইরি ফার্ম টাটকা দুধের জোগান দিয়ে আসছিল। করোনা পরিস্থিতিতে ২৬ মার্চ থেকে এই খাতে দুধের চাহিদা প্রায় নেই বললেই চলে। স্থানীয় কিছু দোকানপাট, বাসাবাড়ি ও হাতেগোনা কিছু ডেইরি ফুড প্রতিষ্ঠান এখনো কিছু পরিমাণ দুধ সংগ্রহ করায় গরুর দুধের খামারগুলো কোনোক্রমে অস্তিত্ব টিকিয়ে রেখেছে।
খামারিরা জানান, চট্টগ্রামের বাজারে ডেইরি ফিডের দাম বেড়েছে। এতে দুধেল গাভির জন্য পুষ্টিকর খাবার সরবরাহে সমস্যা হচ্ছে। আগে প্রতি বস্তা ডেইরি ফিড যেখানে ৭০০/৮০০ টাকায় বিক্রি হতো তা এখন বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ২০০ টাকায়।
মহাখালিস্থ প্রাণিসম্পদ বিভাগের পরিচালক (গবেষণা ও মূল্যায়ন) ডা. মো. ফরহাদ হোসেন ইত্তেফাককে বলেন, বর্তমান করোনা সংকটকালে প্রাণিসম্পদ বিভাগের কর্মকর্তাদের অবস্থানের ব্যাপারে সরকারের নির্দেশ রয়েছে। তিনি বলেন, পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় কর্মকর্তাদের অধিকাংশই অফিসেই অবস্থান করছেন। মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদেরকে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে দায়িত্ব পালন করতে বলা হয়েছে। খামারিরা কী ধরনের সমস্যার শিকার হচ্ছেন তা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করে তার সমাধানে সরকার তত্পর রয়েছে।
চট্টগ্রাম জেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগের কর্মকর্তা ডা. মো. রিয়াজুল হক ইত্তেফাককে বলেন, সরকার ডেইরি-পোলট্রি শিল্পের অবস্থার ওপর সার্বক্ষণিক তদারকি করছেন। এই মুহূর্তে তাদের উত্পাদিত পণ্য পরিবহনের জন্য পুলিং ভ্যানের ব্যবস্থার কথাও ভাবা হচ্ছে। এছাড়া ঋণ প্রদানসহ অন্য সহযোগিতার বিষয়গুলো যথাসময়েই বাস্তবায়ন করা হবে বলে তিনি জানান। তিনি বলেন, ‘করোনা সংকটের কারণে চট্টগ্রামের ডেইরি পোলট্রি শিল্প ক্রাইসিসে আছে।’
এদিকে দক্ষিণ চট্টগ্রামের কর্ণফুলী উপজেলার হাকিম শরিফ ডেইরি খামারের স্বত্বাধিকারী হাকিম শরিফ ইত্তেফাককে বলেন, তার খামারে ৯০টি গাভির মাধ্যমে দুধের উত্পাদন দৈনিক ৫০০ লিটার। আগে বিভিন্ন পার্টির কাছে প্রতি লিটার দুধ বিক্রি হতো প্রতি লিটার ৫০ টাকায়। বর্তমানে বিক্রি করতে হচ্ছে ২০/৩০ টাকায়। ফলে তার খামারে দৈনিক আর্থিক ক্ষতি হচ্ছে ১৫ হাজার থেকে ২০ হাজার টাকা। এখন মিষ্টির দোকানগুলো দুধ কিনছে না বলে, বিপুল পরিমাণ দুধ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে সংরক্ষণ ব্যবস্থার অভাবে। তিনি এই দুঃসময়ে সরকারের যে কোনো আর্থিক সহায়তা খামারিদের হাতেহাতে প্রদানের অনুরোধ জানান।
