করোনা ভাইরাসের মহামারির মধ্যেও নানা আয়োজনে বিশ্ব জুড়ে পালিত হয়েছে বিশ্ব থ্যালাসেমিয়া দিবস। করোনার কারণে অনলাইনে জনসচেতনতা সৃষ্টির মাধ্যমে দিবসটি পালন করেছে বাংলাদেশ থ্যালাসেমিয়া ফাউন্ডেশন, সন্ধানী, মেডিসিন ক্লাব ও প্ল্যাটফরম। এ বছরের প্রতিপাদ্য বিষয় ছিল— ‘তারুণ্য থেকে শুরু হোক থ্যালাসেমিয়া প্রতিরোধ, বিয়ের আগে রক্ত পরীক্ষা; করবে ভবিষ্যত্ প্রজন্মকে নিরাপদ’।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পরিসংখ্যান মতে, বাংলাদেশের জনসংখ্যার ৭ শতাংশ অর্থাত্ প্রায় ১ কোটি ১০ লাখ লোক থ্যালাসেমিয়া রোগের বাহক। থ্যালাসেমিয়া বাহকদের পরস্পরের মধ্যে বিয়ের মাধ্যমে প্রতি বছর নতুন করে ৭ হাজার থ্যালাসেমিয়া আক্রান্ত শিশুর জন্ম নিচ্ছে।
মূল প্রবন্ধে প্রফেসর ডা. মনজুর মোরশেদ জানান, থ্যালাসেমিয়া একটি বংশগত রক্তের রোগ। থ্যালাসেমিয়া আক্রান্ত রোগীদের শরীরে রক্তের লৌহিত কণিকা পর্যাপ্ত পরিমাণে তৈরি হয় না। ফলে এদের মারাত্মক রক্তশূন্যতা দেখা দেয়। থ্যালাসেমিয়া রোগীরা প্রতি মাসে ১-২ ব্যাগ রক্ত গ্রহণ করে বেঁচে থাকেন। চিকিত্সা না করা হলে এই রোগী রক্তশূন্যতায় মারা যায়।
শিশু জন্মের ১-২ বছরের মধ্যে থ্যালাসেমিয়া রোগ ধরা পড়ে। এই রোগের লক্ষণগুলো হলো—ফ্যাকাশে হয়ে যাওয়া, দুর্বলতা, ঘন ঘন ইনফেকশন, শিশুর ওজন বৃদ্ধি না হওয়া, জন্ডিস, খিটখিটে মেজাজ ইত্যাদি। থ্যালাসেমিয়া রোগের কোনো সহজলভ্য স্থায়ী চিকিত্সা বা টিকা নেই। এ রোগ থেকে মুক্তির একমাত্র উপায় হচ্ছে প্রতিরোধ। স্বামী-স্ত্রী দুই জনই যদি থ্যালাসেমিয়া বাহক হন, শুধু তখনই সন্তানদের এ রোগ হতে পারে। কিন্তু স্বামী-স্ত্রী দুই জনের একজন যদি বাহক হন এবং অন্যজন সুস্থ হন, তাহলে কখনো এ রোগ হবে না। তাই বিয়ের আগে থ্যালাসেমিয়া বাহক কি না সবারই জেনে নেওয়া দরকার।
তরুণ সমাজকে সচেতন করার লক্ষ্যে আয়োজিত একটি অনলাইন ভিডিও কনফারেন্সে যোগদান করেন সরকারের সাবেক সচিব ও বাংলাদেশ থ্যালাসেমিয়া ফাউন্ডেশনের পৃষ্ঠপোষক আকতারী মমতাজ, ডা. হাবিবুর রহমান, লাইন ডাইরেক্টর, অসংক্রামক রোগ প্রতিরোধ কর্মসূচি (এনসিডিসি), স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, বিশিষ্ট রক্তরোগ বিশেষজ্ঞ ও থ্যালাসেমিয়া ফাউন্ডেশনের উপদেষ্টা প্রফেসর ডা. মনজুর মোরশেদ, সরকারের যুগ্ম সচিব ও ফাউন্ডেশনের উপদেষ্টা ডা. মো. আমিনুল ইসলাম, ফাউন্ডেশনের মহাসচিব ডা. মো. আবদুর রহিম, রক্তরোগ বিশেষজ্ঞ ও সহযোগী অধ্যাপক ডা. জান্নাতুল ফেরদৌস, সন্ধানীর সভাপতি তানভির হাসান ইকবাল, মেডিসিন ক্লাবের সভাপতি মো. আরমান হোসেন, প্ল্যাটফরমের সভাপতি ডা. নিলয় শুভ, থ্যালাসেমিয়া রোগী প্রতিনিধি অহনা ফেরদৌস, রোগীর অভিভাবক প্রতিনিধি মো. রশিদুল হকসহ আরো অনেকে। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন ডা. তারেক সালাউদ্দিন। এছাড়াও দিবসটিকে সামনে রেখে বাংলাদেশ থ্যালাসেমিয়া ফাউন্ডেশন বিভিন্ন সামাজিক নেটওয়ার্ক এবং গণমাধ্যমে তরুণদের লক্ষ্য করে থ্যালাসেমিয়া রোগ প্রতিরোধে বিভিন্ন সচেতনতামূলক প্রচারণার আয়োজন করে।
