শ্রীমঙ্গল উপজেলার সদর ইউনিয়নের উত্তর উত্তরসুর গ্রামে একই পরিবারের তিন সহোদর জন্মের পর থেকেই শারীরিক ও বুদ্ধি প্রতিবন্ধিতায় ভুগছে। এ প্রতিবন্ধীরা শৈশব-কৈশোর আর যৌবনকাল কাটাচ্ছে তারা। আদর, স্নেহে পরম যত্নে এই তিন প্রতিবন্ধী সন্তানকে লালন করছেন তাদের মা ভেলুয়া বেগম।
জানা যায়, উত্তর উত্তরসুর গ্রামের বর্গাচাষি সামসু মিয়া ও ভেলুয়া বেগমের দাম্পত্য জীবনে তারা ৮ সন্তানের জনক-জননী। বিবাহিত জীবনে তাদের শেষের চার সন্তান স্বাভাবিকভাবে বেড়ে উঠলেও প্রথম চার সন্তান জন্মের পর থেকে অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে উঠতে থাকে। নুন আনতে যাদের পানতা ফুরোয়, তাদের ঘরে এমন একে একে চারটি প্রতিবন্ধী সন্তান জন্মগ্রহণ করে। স্থানীয় সমাজসেবা কার্যালয় হতে এদের প্রত্যেকেই ভাতাপ্রাপ্তির আওতায় আসলেও মাথাপিছু মাসিক ৭০০ টাকায় তাদের ভালো খাবার, পোশাক ও চিকিত্সার ব্যবস্থা হয় না। চিকিত্সার অভাবে ১২ বছর আগে ৯ বছর বয়সে তাদের প্রথম সন্তান রিপনা আক্তারের মৃত্যু হয়। অপর তিন সন্তান রাফেনা আক্তার (২৫), রাজেত মিয়া (২৩), ও রাজেলা আক্তার (১৫) জন্মের পর থেকেই শারীরিক ও বুদ্ধি প্রতিবন্ধী হয়ে বেঁচে আছে। তারা খাওয়া-দাওয়াসহ কোনো কিছুই নিজে নিজে করতে পারে না। কিছু শুনতে ও বুঝতে পারে না। ভেলুয়ার আরো তিন ছেলে ও এক মেয়ে ভালোভাবে বড় হয়ে উঠলেও দিনের অধিকাংশ সময়ই এই প্রতিবন্ধী সন্তাদেরকে স্নেহডোরে আঁকড়ে রাখেন তিনি।
ভেলুয়া বেগম বলেন, প্রতিবন্ধী সন্তানদের সুচিকিত্সার জন্য এলাকার বিভিন্ন চিকিত্সকরা চেষ্টা করেছেন। অনেকবার হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। কিন্তু অবস্থার কোনো উন্নতি হয়নি। সংসারের অভাব-অনটন তাদের নিত্য দিনের সাথী। বাধ্য হয়ে তিন ছেলেকে লেখাপড়া বন্ধ করে কাজে লাগিয়ে দিয়েছন তিনি।
শ্রীমঙ্গল উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. সুয়েব হোসেন চৌধুরী বলেন, এ বিষয়ে তিনি অবগত আছেন এবং প্রাতবন্ধী বাচ্চাদেরকে সরকারি সুযোগ-সুবিধার আওতায় ভাতা প্রদান করা হচ্ছে।
শ্রীমঙ্গল উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. জয়নাল আবেদীন টিটো বলেন, আমি নিজে তাদের বাড়ি গিয়েছি, সবাইকে দেখেছি এবং কথা বলেছি। তিনি বলেন, এ জাতীয় রোগ একটা বিরল জন্মগত রোগ, যা গর্ভাবস্থায় জিনগত ত্রুটির জন্য হয়ে থাকে। এই রোগে আক্রান্ত রোগীরা কখনো ভালো হয় না এবং এই রোগের কারণে রোগীরা কখনো মারা যায় না।
এছাড়াও, এ জাতীয় রোগীর নিকট আত্মীয়দের মধ্যে বিয়ে হলে তাদের সন্তানদেরও এই রোগ হওয়ার সম্ভাবনা থাকে বলেও জানান তিনি।
