লালমোহন উপজেলার পশ্চিম চর উমেদ ইউনিয়নের বিচ্ছিন্ন জনপদ চরকচুয়াখালী। যেখানে বর্তমানে চার হাজারেরও অধিক মানুষের বসবাস। যাদের পেশা কৃষি ও মাছ শিকার করা। এ চরের মানুষরা আকাশে মেঘ দেখলেই আঁতকে উঠেন। সব প্রতিকূলতা মোকাবিলা করে তবুও তারা চালিয়ে যান জীবন সংগ্রাম। চরে বিশুদ্ধ পানি ও প্রাথমিক শিক্ষার ব্যবস্থা থাকলেও নেই কোনো স্বাস্থ্য সেবার ব্যবস্থা। এ কারণে মাঝে মাঝে প্রসূতি মা অথবা মুমূর্ষু রোগীকে নিয়ে চরবাসীকে পড়তে হয় দুর্ভোগে। চরে উন্নত কোনো স্বাস্থ্যসেবা না পাওয়ায় তাদের ছুটতে হয় লালমোহন অথবা চরফ্যাশন উপজেলা সদরে। যা তাদের জন্য অত্যন্ত কষ্টসাধ্য।
চরের গৃহবধূ মোসা. রুমা, ফাতেমা ও নাজমা জানান, প্রসূতি মায়েদের সামান্য সমস্যা হলেই তাদের নিয়ে ছুটতে হয় উপজেলা সদরগুলোতে। কারণ এখানে নেই কোনো উন্নত স্বাস্থ্যসেবার ব্যবস্থা।
চরের বাসিন্দা শাহে আলম মিস্ত্রি, মোতাহার ও আমির হোসেন জানান, এখানে নাকি একটি টিকা কেন্দ্র রয়েছে। তারা বছরে একবার আসে কিনা তা নিয়েও অনেকের রয়েছে সন্দেহ। অন্যদিকে এখানে কারও ডায়রিয়া হলেও যেতে হয় উপজেলা সদরের বিভিন্ন বাজারগুলোতে। আর মাঝে মাঝে বেশি সমস্যা হলে ওপার থেকে একজন পল্লি চিকিত্সককে আনা হয়। যাদের খরচ দিতে হিমশিম খেতে হয় আমাদের। কারণ এখানে আসার একমাত্র ভরসা নৌকা, যা দিনে দুই সময়ে চলাচল করে। তাই হঠাত্ কোনো সমস্যা হলে ওপারের চিকিত্সকদের আনতে হয় নৌকা ভাড়া করে। যা আমাদের জন্য খুবই ব্যয়বহুল। তাই আমাদের দাবি এ চরের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে যেনো এখানে অতি শিগগিরই একটি উন্নত স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র স্থাপন করা হয়।
এ বিষয়ে পশ্চিম চর উমেদ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোঃ ইউসুুফ হোসেন চরবাসীর অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, চরে টিকা কেন্দ্র ও প্রতি মাসে সরকারিভাবে একজন ডাক্তার যান। আশা করছি খুব শিগগিরই এখানে আরও ভালোমানের চিকিত্সা সেবার ব্যবস্থা করা হবে।
