স্টাফ রিপোর্টার,বগুড়া
লকডাউন শিথিল করে মার্কেট ও দোকানপাট খুলে দেওয়ার সরকারি সিদ্ধান্তের পর বগুড়ায় সবধরনের দোকানপাট ও মার্কেটগুলো খোলা হয়েছে। রবিবার সকাল ১০টার পর থেকেই শহরের সকল মার্কেট ও দোকানপাট খোলা হলে উপচে পড়া ভিড় লেগে যায়। বিকাল ৪টা পর্যন্ত স্বাস্থ্যবিধি না মেনেই ক্রেতারা মার্কেটে কেনাকাটা করেছেন। শহরের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, মার্কেট খোলার সঙ্গে সঙ্গে দূর-দূরান্তের ক্রেতারা শহরে আসতে শুরু করে। অনেকেই মার্কেট খোলার অপেক্ষায় সামনে বসে থাকেন। মার্কেটগুলোর মধ্যে শহরের নিউ মার্কেটে ভিড় সবচেয়ে বেশি। তৈরি পোশাকের মার্কেট আল-আমিন কমপ্লেক্স, শেখ সরিফ সুপার মার্কেট, রানার প্লাজা খোলা থাকলেও সেখানে ভিড় তুলনামূলক কম। শহরের জলেশ্বরীতলা এলাকায় তৈরি পোশাকের বিভিন্ন শোরুমগুলোতে ভিড় এখনো চোখে পড়ার মতো নয়। তবে এই শোরুমগুলোর অধিকাংশ কর্মচারী ঢাকা ফেরত। শোরুমগুলো ঢাকার বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শাখা হওয়ায় ঢাকা থেকেই নিয়ন্ত্রণ করা হয়। সরকারি ছুটি ঘোষণার পর শোরুমগুলো বন্ধ করে দেওয়ায় কর্মচারীরা ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলায় বাড়িতে চলে যান। অভিজাত কিছু মার্কেট ও শপিংমলগুলোতে জীবাণুনাশকের ব্যবস্থা রাখা হলেও অধিকাংশ মার্কেটগুলোতে কোনো বিধিনিষেধের তোয়াক্কা করছেন না ক্রেতা বিক্রেতাগণ।
বগুড়া নিউ মার্কেটে আদমদীঘি উপজেলার মজিবর রহমান বলেন, দীর্ঘদিন মার্কেট বন্ধ থাকায় জরুরি অনেক কিছুই কিনতে পারেন নি। এ কারণে বাধ্য হয়ে শহরের এসেছেন নিজের ব্যবহারি এবং দোকানের কিছু মালামাল কিনতে। তৈরি পোশাক বিক্রির দোকানিরা বলেন, আরো এক সপ্তাহ পর থেকে তাদের দোকানে ভিড় হবে। তখন জীবাণুনাশক ব্যবহারের ব্যবস্থা করা হবে। আবার অনেকেই বলছেন ব্যবসা ভালো না হলে দুই-এক দিন পর দোকান বন্ধ করে রাখবেন।
এ দিকে দোকানপাট খোলার কারণে শহরে যানবাহনের চাপ বেড়েছে কয়েক গুণ। লোকজনকে এক উপজেলা থেকে অন্য উপজেলায় যাতায়াত না করার আহ্বান জানিয়ে শহরে মাইকিং করা হলেও কে শোনে কার কথা। শহরের বিভিন্ন প্রবেশ পথগুলোতে পুলিশের চেক পোস্ট থাকলেও কিছুটা শিথিল করা হয়েছে। স্বাস্থ্যবিধি না মেনেই কেনাকাটা করায় জেলার মানুষ স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে পড়েছে। অথচ এসব দেখার কেউ নেই। বগুড়া ট্রাফিক পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পুলিশ পরিদর্শক রফিকুল ইসলাম সরকার বলেন, শহরে ব্যাপক চাপ পড়েছে। রিকশা ছাড়াও বিভিন্ন যানবাহন নিয়ন্ত্রণ করতে ট্রাফিক পুলিশকে হিমশিম খেতে হচ্ছে।
বাগেরহাটে দোকানপাট আজ খুলেছে
বাগেরহাট প্রতিনিধি জানান, বাগেরহাটে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণের ঝুঁকি এড়াতে প্রায় দেড় মাস বন্ধ থাকার পর আজ ১০ মে জেলার সব দোকানপাট খুলে দেওয়া হচ্ছে। সরকারের দেওয়া শর্ত মেনে এখানকার দোকান মালিকরা তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করবে বলে জানিয়েছে ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন শিল্প ও বণিক সমিতি। সরকারের দেওয়া শর্ত মেনে দোকান মালিকরা তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করছে কি না তা দেখতে জেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালতসহ গোয়েন্দা সংস্থার একাধিক টিম মাঠে থাকবে।
ঈশ্বরদীর বাজারে মানুষের ঢল
ঈশ্বরদী (পাবনা) সংবাদদাতা জানান, রবিবার ঈশ্বরদী বাজারে মানুষের ঢল নামে। মানব সমাগমের পাশাপাশি সকল দোকানপাটও প্রত্যুষেই খুলে যায়। দোকানপাট খোলার ক্ষেত্রে সরকারের যে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার কথা বলা হয়েছিল, বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই তা মানা হয়নি।
