লেবুর ২৯ গুণ¬ কাঁচার চেয়ে পাকা লেবুই উত্তম

আপডেট : ১০ মে ২০২০, ২২:৪২

প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ রোধে শরীরে ভিটামিন ‘সি’ তথা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে ম্যাজিকের মতো কাজ করে লেবু। এছাড়াও লেবুতে রয়েছে প্রচুর খনিজ উপাদান। সবমিলিয়ে লেবুপানি পানে কমপক্ষে ২৯ ধরনের উপকার মেলে। গবেষকরা বলছেন, তবে লেবুপানি পানের আগে কয়েকটি বিষয় জেনে রাখা ভালো। পাকা, অর্থাত্ পেকে হলুদ হয়ে যাওয়া লেবুর রস পান করা উত্তম। কাঁচা বা সবুজ লেবুপানি পানে অনেকের অ্যাসিডিটি হতে পারে।     সাধারণত আমরা খাবারের স্বাদ বাড়াতে এবং গরমের দিনে শরবত তৈরি করতে লেবু ব্যবহার করি। কিন্তু আমরা কি জানি এর উপকারিতা কি কি? লেবুর গুণাগুণ প্রচুর। হূদ্যন্ত্রের ধড়ফড়ানি কমানো থেকে ফুসফুসের ঠিকভাবে কাজ করতে পর্যন্ত সাহায্য করে লেবু। সকালে লেবুপানি পান করা যে ভালো, এটা অনেকেই জানেন। কিন্তু জানেন কি, আসলে কেন ভালো? নিয়মিত রোজ সকালে এক কাপ লেবুপানি পান করলে দেহ পায় জাদুকরি উপকারিতা।

কী কী উপকারিতা

(১). লেমন, অর্থাত্ পাকা লেবুতে থাকে ইলেকট্রোলাইটস (যেমন পটাশিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম ইত্যাদি)। সকালে লেবুপানি মানবদেহকে হাইড্রেট করে, শরীরে যোগান দেয় সেসব প্রয়োজনীয় উপাদানের যা  দেহের পানিশূন্যতা দূর করে। (২). হাড় জয়েন্ট ও মাসল পেইন কমায় দ্রুত। (৩). ঘন ঘন কৃমির আক্রমণ থেকে রেহাই পাওয়া যায়। (৪). অন্য যে কোনো খাবারের চাইতে লেবুপানির ব্যবহারে লিভার বা যকৃত অনেক বেশি দেহের জন্য প্রয়োজনীয় এনজাইম তৈরি করতে পারে। (৫). লেবুপানি টক্সিক উপাদান দূর করে লিভারকে পরিষ্কার রাখে। (৬). পেট পরিষ্কার ও ভালো টয়লেট হতে সহায়তা করে। (৭). লেবুপানি মানবদেহের মেটাবোলিজম বৃদ্ধি করে ও লেবুর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট উপাদান দেহের  রোগ-প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে। (৮). শরীরে নার্ভাস সিস্টেমে দারুণ কাজ করে। সকালে লেবুপানি পানে পটাশিয়াম মানুষের বিষণ্নতা ও উত্কণ্ঠা দূর করতে সহায়ক। (৯). লেবুপানি শরীরের রক্তবাহী ধমনী ও শিরাগুলোকে পরিষ্কার রাখে। (১০). উচ্চ রক্তচাপ কমাতে সহায়তা করে। (১১). শরীরের পিএইচ লেভেল উন্নত করে। পিএইচ লেভেল যত উন্নত, শরীর রোগের সঙ্গে লড়াই করতে তত সক্ষম। (১২). ইউরিক অ্যাসিড সমস্যা দূর করতে সহায়ক।

(১৩). লেবুপানি দেহের ত্বকের জন্য খুবই ভালো। লেবুর ভিটামিন সি উপাদান দেহের ত্বক ও টিস্যুর জন্য খুব জরুরি। তাই ত্বকের যে কোনো সমস্যা রোধ করতে প্রতিদিন লেবুপানি পান করা ভালো। এতে ত্বক উজ্জ্বল ও পরিষ্কার হয়। (১৪). বুক জ্বালাপোড়া দূর করে। যাদের এই সমস্যা আছে রোজ আধা কাপ পানির মাঝে ১ চা চামচ লেবুর রস মিশিয়ে পান করুন। (১৫). কিডনি ও প্যানক্রিয়াসের পাথর দূর করতে অসাধারণ কার্যকর। (১৬). ওজন দ্রুত কমাতে সহায়তা করে। লেবুতে থাকে পেকটিন ফাইবার যা ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণ করে। (১৭). গর্ভবতী নারীদের জন্য খুবই উপকারী লেবুপানি। এটা শুধু নারীর শরীরই ভালো রাখে না, গর্ভের শিশুরও অনেক উপকার করে। লেবুর ভিটামিন সি ও পটাশিয়াম শিশুর হাড়, মস্তিষ্ক ও দেহের কোষ গঠনে সহায়তা করে। মাকেও গর্ভকালে রোগবালাই থেকে দূরে রাখে। (১৮). দাঁতের সমস্যা প্রতিরোধে সহায়তা করে, দাঁতব্যথা কমায়। (১৯). ক্যানসার প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। (২০). মেটাবলিজম বা হজমশক্তি বাড়ায়। এতে ওজন কমাতেও প্রভাব পড়ে।

(২১). লেবুপানি দেহের গিটে গিটে ব্যথা দূর করে। (২২). লেবু পানি দেহের প্রদাহ দূর করে, গলাব্যথা, টনসিলের সমস্যা, শ্বাসযন্ত্রের ইনফেকশনও সারিয়ে তুলতে সাহায্য করে। (২৩). লেবুপানি রক্তচাপ  নিয়ন্ত্রণে রাখে। (২৪) দেহের কোনো অংশ পুড়ে গেলে তাতেও লেবুপানি কাজ দেয়। আধা গ্লাস পানির সঙ্গে সামান্য লেবুর রস মিশিয়ে পোড়া ত্বকে লাগিয়ে দিতে হবে। লেবুপানি নতুন কোষগুলোকে সজীব করে তোলে বিধায় যে কোনো ক্ষত দ্রুত নিরাময় হয়। (২৫). লেবুপানি পিত্তথলী, অগ্নাশয় ও কিডনির পাথর রোধ করে। (২৬). লেবুতে আছে এলকালাইন উপাদান, বিজ্ঞানীরা বলছেন—ক্যানসারের কোষ এলকালাইন উপাদানের সঙ্গে থাকতে পারে না। (২৭) মুখের দুর্গন্ধ দূর করে। (২৮) সকালে লেবুপানি পান করলে এক ধরনের দিনভর কর্মক্ষমতা বাড়ে। (২৯) যাদের ঘনঘন ঠান্ডা লাগে, তারা নিয়মিত লেবুপানি পান করলে ঠান্ডা বা সর্দিকাশি হবে না।

কীভাবে পান করবেন

বেশি গরম পানি নয়, সামান্য উষ্ণ পানিতেই লেবুর রস মিশিয়ে পান করতে হবে। ওজন যদি ১৫০ পাউন্ডের কম হয়, তাহলে অর্ধেক পাকা লেবুর রস এক গ্লাস পানিতে মেশাতে হবে। ১৫০ পাউন্ডের  বেশি হলে মেশাতে হবে আস্ত একটা লেবুর রস।