বর্তমানে করদাতার খাতায় নিবন্ধিত বা কর শনাক্তকরণ নম্বরধারী (ই-টিআইএন) ত্রিশ লাখের বেশি। তবে অর্থমন্ত্রী মনে করেন, বিভিন্ন উপায়ে প্রায় ১ কোটি মানুষ এখন কর দেন। এই সংখ্যা চার কোটিতে উন্নীত হওয়া উচিত। তাহলে মানুষের জন্য সরকারের সেবা আরো বিস্তৃত করা যাবে। গতকাল মঙ্গলবার বেইলি রোডের অফিসার্স ক্লাবে সপ্তাহব্যাপী আয়কর মেলার উদ্বোধনকালে তিনি এসব কথা বলেন। ঢাকাসহ দেশের সব সিটি কর্পোরেশনে গতকাল থেকে শুরু হয়েছে সপ্তাহব্যাপী আয়কর মেলা। এছাড়া জেলা ও উপজেলা পর্যায়েও আয়কর মেলা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে এনবিআরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও করদাতারা উপস্থিত ছিলেন।
এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, দেশের জিডিপি’র ১০ শতাংশ রাজস্ব থেকে আসে। আগামী কয়েক বছরে তা ১৫ শতাংশের উন্নীত করতে হবে। এ সময় আয়কর মেলায় করদাতাদের নির্বিঘ্নে সেবা দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
প্রথম দিনেই করদাতাদের দীর্ঘ সারি আছে বিড়ম্বনাও
গতকাল আয়কর মেলা প্রাঙ্গণ ঘুরে মেলা শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই করদাতাদের দীর্ঘ সারি দেখা গেছে। সকাল ১০টার আগেই অফিসার্স ক্লাবের ভবন ছাড়িয়ে করদাতাদের দীর্ঘ সারি দেখা যায়। এ সময় দীর্ঘসময় দাঁড়িয়ে থেকে অনেককে অসন্তোষ প্রকাশ করতে দেখা যায়। আবার কেউ কেউ মেলায় অবস্থিত হেল্প ডেস্কে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের কাছ থেকে কাঙ্ক্ষিত সেবা পাননি বলে অভিযোগ করেছেন। অন্যদিকে অনলাইনে কর পরিশোধের ক্ষেত্রে সমস্যার কথাও শোনা গেছে। সবমিলিয়ে মেলার প্রথমদিন সার্বিকভাবে কিছুটা অব্যবস্থাপনা পরিলক্ষিত হয়েছে।
একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা মাহফুজুর রহমান ইত্তেফাকের সঙ্গে আলাপকালে বলেন, মেলা শুরু হওয়ার কথা সকাল ৯টা থেকে। সকাল সকাল এসেছি, যাতে রিটার্ন জমা দিয়ে সময়মত অফিস ধরতে পারি। কিন্তু দীর্ঘ লাইনে পড়ার কারণে অফিসে দেরি হয়ে যাচ্ছে। সকাল সাড়ে নয়টায় মেলা প্রাঙ্গণে সরেজমিনে দেখা যায়, অফিসার্স ক্লাবের মূল ভবনে অর্থমন্ত্রীর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের কারণে প্রবেশপথটি বন্ধ করে দেওয়া হয়। অথচ ওই ভবনেই প্রথম দুই তলা করদাতাদের সেবা দেওয়ার জন্য নির্ধারিত। এ পরিস্থিতিতে ভবনের বাইরে করদাতাদের দীর্ঘ সারি পড়ে যায়। দীর্ঘ সময় ফটক বন্ধ থাকায় এক পর্যায়ে করদাতারা ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। ধাক্কাধাক্কির এক পর্যায়ে ফটকের আর্চওয়ে (শীরর তল্লাশির স্বংয়ক্রিয় যন্ত্র) ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়। এই পরিস্থিতি চোখ এড়ায়নি ভবনের ভেতরে অবস্থানরত মেলা উদ্বোধন করতে আসা অর্থমন্ত্রীরও। তিনি করদাতাদের শান্ত হওয়ার আহ্বান জানান। অবশ্য কর অফিসের চাইতে মেলায় সহজে সেবা পাওয়ায় করদাতাদের সন্তোষ প্রকাশ করতেও দেখা গেছে।
মেলার প্রথম দিন ৪৬ হাজার ৪শ রিটার্ন দাখিল
রাজধানীসহ দেশের ৮টি বিভাগ, ৪টি জেলা এবং ৭টি উপজেলাসহ মোট ১৯ টি স্পটে গতকাল আয়কর মেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রথমদিন ১ লাখ ১৪ হাজার মানুষ মেলা থেকে সেবা নেন। এর মধ্যে ৪৬ হাজার ৪০১ টি রিটার্ন দাখিলের বিপরীতে ২১৮ কোটি ৪৩ লাখ টাকা আয়কর আদায় হয়। আর গত বছর প্রথম দিন মেলা থেকে সেবা নিয়েছিলেন ৭৯ হাজার ১১২ জন। ওই সময়ে ৩১ হাজার ৪১টি রিটার্ন দাখিলের বিপরীতে আদায় হয়েছিল ২০৮ কোটি টাকা।
