করোনায় মারা যাওয়া একজনের দাফন ও প্রতিবেশীর ভূমিকা

আপডেট : ১১ মে ২০২০, ০০:৪৬

করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণকারীদের দাফনে কাজ করছে চরমোনাই পীর সাহেবের দল ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ (আইএবি)। কেন্দ্রীয় নির্দেশনায় দেশের বিভিন্ন স্থানে দলটির সংশ্লিষ্ট নেতারা খবর পাওয়ামাত্র স্থানীয় প্রশাসনের সহযোগিতায় মৃতদের দাফনকাজ সম্পন্ন করছেন।

ইসলামী শ্রমিক আন্দোলনের সিনিয়র জয়েন্ট সেক্রেটারি জেনারেল ও আইএবির মিডিয়া সমন্বয়কারী শহীদুল ইসলাম কবির জানান, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রধান পির সাহেব চরমোনাইয়ের নির্দেশনায় সারাদেশে সংগঠনের নেতা-কর্মীরা স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে এবং যথাযথ ব্যক্তিগত সুরক্ষাসামগ্রী ব্যবহারের মাধ্যমে করোনায় মৃত্যুবরণকারীদের দাফন করছেন।

কয়েক দিন আগে চাঁদপুর সদরে রামপুর ইউনিয়নের কামরাঙ্গা গ্রামে করোনায় মারা যান আলী আজম পাটোয়ারী। খবর পেয়ে তাকে দাফনকাজের সমন্বয় করেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের চাঁদপুর জেলার সভাপতি শেখ মো. জয়নাল আবদিন। তবে দাফন করতে গিয়ে প্রতিবেশীদের কারো সহযোগিতা পাননি।

মরহুম আলী আজমকে দাফনের ঘটনা বর্ণনা করেছেন শেখ মো. জয়নাল আবদিন। তার সেই বর্ণনা শনিবার নিজের ফেসবুকে তুলে ধরেন শহীদুল ইসলাম কবির। তাতে শেখ মো. জয়নাল আবদিন লিখেছেন, এযাবত্ যতগুলো দাফন-কাফনের কাজ সম্পন্ন করেছি, আজকের মতো এত কষ্ট আগে কখনো অনুভব হয়নি। যত কষ্টই হোক সব মুছে যেত, যদি তার একমাত্র ছেলে ব্যতীত একজন প্রতিবেশী আমাদের সাথে দু-এক বাক্য কথাও বলতেন। অথচ এলাকা যথেষ্ট ঘনবসতিপূর্ণ। দূর থেকে দাঁড়িয়ে অনেকেই আমরা কী করি তা দেখছেন, অথচ কেউ কাছে আসেননি। জানাজার পর মৃত আলী আজমের পাশের প্রতিবেশীকে আমাদের স্বেচ্ছাসেবক আনোয়ার ভাই জিজ্ঞেস করলেন, জানাজায় গেলেন না কেন? ওনার উত্তরের ধরনে বুঝলাম আলী আজম করোনা উপসর্গ নিয়ে মারা গিয়ে অপরাধ করেছেন আর আমরা তার জানাজা ও দাফন করে মহা অপরাধী হয়েছি। গত মাসে একটি কোম্পানিতে চাকরি করা আলী আজমের বড়ো মেয়ের জামাই করোনা উপসর্গ নিয়ে শ্বশুরবাড়িতে এসে মারা যান।’ এই দাফন কার্যক্রমে টিমের প্রধান ছিলেন শেখ মো. জয়নাল আবদিন। সঙ্গে ছিলেন আইএবির স্থানীয় নেতা আনোয়ার আল নোমান, আক্তার হোসাইন ও আল আমিন সোহেল।