লকডাউনের মধ্যে কিছু অফিস ও দোকানপাট খুলে দেওয়ায় মানুষের স্বাভাবিক চলাচল কিছুটা বেড়েছে। সেই সঙ্গে বেড়ে গেছে ছিনতাইও। চেকপোস্ট ও জনসমাগম এলাকায় পুলিশের উপস্থিতি কম থাকার সুযোগ নিচ্ছে ছিনতাইকারীরা। রাজধানীতে ব্যবসায়ীদের টার্গেট করে এর মধ্যে বেশ কয়েকটি ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। বিশেষ করে ব্যাংকগুলোর সামনে ওত পেতে থাকছে এই ছিনতাইকারীরা। সুযোগ পেলেই কেড়ে নিচ্ছে। ঈদের বাজারে আর্থিক লেনদেন বেড়ে গেলে ছিনতাইও বাড়তে পারে? এমন আশঙ্কায় গতকাল সোমবার ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ রাজধানীতে নগদ টাকা বহনে পুলিশ এস্কর্ট সুবিধা দেবে বলে জানিয়েছে।
সর্বশেষ রবিবার যাত্রাবাড়ীতে প্রকাশ্যে সাইফুল ইসলাম সবুজ নামে এক ব্যবসায়ীকে পিটিয়ে ৫৫ লাখ ৬৯ হাজার টাকা ছিনতাই করেছে ছিনতাইকারীরা। বেলা ১১টার দিকে যাত্রাবাড়ীর জনপদ মোড়ে প্রকাশ্যে এ ঘটনা ঘটে। ছিনতাইয়ের শিকার সাইফুল ইসলাম সবুজ ডাচ্বাংলা ব্যাংকের এজেন্ট ব্যাংকিং এজেন্সি মারফুস এন্টারপ্রাইজ ও এইচ-২৪ এন্টারপ্রাইজের মালিক। এ ঘটনায় যাত্রাবাড়ী থানায় তিনি একটা মামলা করেছেন। পুলিশ গতকাল সোমবার পর্যন্ত এই ঘটনায় অভিযুক্তদের কাউকে শনাক্ত বা গ্রেফতার করতে পারেনি।
এর আগে গত ৩ মে পুরান ঢাকার বাবুবাজারের মামা-ভাগনে ফলের আড়তের ম্যানেজার জুয়েল মিয়া ইসলামপুরে একটি বেসরকারি ব্যাংকে টাকা জমা দিতে যান। ব্যাংকের ভেতর ঢোকার ঠিক আগে তাকে ঘিরে ফেলে ছিনতাইকারীরা। অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে ধস্তাধস্তি করে তারা টাকার ব্যাগ ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়ে যায়। ঘটনাস্থলের কাছেই চলছিল র্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত। চিত্কার-চেঁচামেচিতে র্যাব সদস্যরা ধাওয়া দিয়ে দুই ছিনতাইকারীকে আটক করে তার টাকা উদ্ধার করে। ফলের আড়তের মালিক মোস্তফা হাওলাদার বলেছেন, নিয়মিত ব্যাংকে টাকা জমা দিতে হয়, আবার টাকা উঠাতে হয়। কিন্তু রাস্তা ফাঁকা থাকায় আতঙ্কে থাকেন তারা।
পুলিশের এক জন কর্মকর্তা জানান, মাঠে দায়িত্ব পালনকারী আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অধিকাংশ কর্মকর্তা ও সদস্য করোনা ভাইরাসজনিত নানা কার্যক্রমে ব্যস্ত। এতে সাধারণ চেকপোস্ট থেকে শুরু করে নিয়মিত ও মৌসুমি অপরাধী গ্রেফতার বা অপরাধ দমনে অভিযানও কিছুটা ঝিমিয়ে পড়েছে। টানা বন্ধের কারণে রাজধানীতে যেমন—জনসমাগম কম ছিল, তেমনি সড়কও ছিল ফাঁকা। আসন্ন ঈদুল ফিতর উপলক্ষ্যে নগদ টাকার লেনদেন বেড়েছে। এ অবস্থায় রাজধানীতে চুরি, ছিনতাই ও ডাকাতির মতো অপরাধ সংঘটিত হওয়ার বিষয়টি একেবারেই উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। তবে অপরাধ ঠেকাতে ব্যবস্থাও নেওয়া হচ্ছে।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের উপকমিশনার (মিডিয়া) মাসুদুর রহমান ইত্তেফাককে বলেন, ‘আমরা সবসময়ই নগদ টাকা বহনের সময় পুলিশের সহযোগিতা নিতে বলে আসছি। অনেকেই বিষয়টি গুরুত্ব দেন না। বিশেষ করে ঈদের আগে নগদ টাকার বহনের পরিমাণ বেড়ে যায়। এতে অপরাধীদের তত্পরতা বেড়ে যায়। তাই সোমবারই আমরা আবারও সবাইকে জানিয়েছি, নগদ টাকা বহনে এস্কর্ট সুবিধা দেবে পুলিশ।’
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, রমজান মাস ও আসন্ন ঈদ-উল ফিতর উপলক্ষ্যে ক্রয়-বিক্রয়, ব্যবসাবাণিজ্য, অর্থের লেনদেন ও স্থানান্তর বৃদ্ধি পায়। সেই সঙ্গে চুরি, ছিনতাই, দস্যুতাসহ মলম পার্টি ও অজ্ঞান পার্টির অপতত্পরতাও বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা থাকে।
নগরবাসীকে পরামর্শ দিয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বড়ো অঙ্কের অর্থ একা বহন করবেন না। আপনার অর্থ বহন সংক্রান্তে কোনো তথ্য আগেই অন্যকে জানানো থেকে বিরত থাকুন। পায়ে হেঁটে অথবা রিকশায় অর্থ বহনের পরিবর্তে মোটরসাইকেল কিংবা গাড়িতে অর্থ বহন করুন। নগদ অর্থ বহনের পূর্বে নিশ্চিত হয়ে নিন যেন আপনার দোকান বা ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের কেউ দুষ্কৃতকারীদের না জানিয়ে দেয়।
