‘বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনা ছাড়া একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু, অংশগ্রহণমূলক, শান্তিপূর্ণ ও উত্সবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন হয়েছে। সকলের অংশগ্রহণমূলক একটি নির্বাচন, সব জায়গায় ভোটারদের ছিল সরব উপস্থিতি, স্বতঃস্ফূর্তভাবে পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিয়েছেন ভোটাররা। দেশ স্বাধীন হওয়ার ৪৭ বছরের মধ্যে এবারের নির্বাচনে সহিংস ঘটনা সব থেকে কম ঘটেছে। জনগণের প্রত্যাশিত ভোটে জাতি আনন্দিত। প্রমাণিত হয়েছে দলীয় সরকারের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব। আর ভোটে নৌকার পক্ষে গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে। সত্তরের নির্বাচনের মতোই দেশের সাধারণ মানুষ ভোটকেন্দ্রে এসে নিজেদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন। আওয়ামী লীগের হ্যাটট্রিক বিজয় হবেই। দেশে ব্যাপক উন্নয়নের প্রতিদান জনগণ ভোটের মাধ্যমে দিবে।’
গতকাল রবিবার বিকালে ভোট গ্রহণ শেষে আওয়ামী লীগ নেতারা প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে আরও বলেন, ‘নৌকার গণজোয়ার দেখে বিএনপি-জামায়াত ও ঐক্যফ্রন্ট নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার অপকৌশল বেছে নেয়। তারা সারাদেশে সহিংসতা করে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করার চেষ্টা করেছিল। তবে জনগণের ভোটাধিকার প্রয়োগ থেকে তারা বিরত রাখতে পারেনি। সব শ্রেণি-পেশার মানুষ তাদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিয়েছেন। তবে পরাজয় নিশ্চিত জেনে বিএনপি-জামায়াত নির্বাচন বর্জনের নাটক শুরু করেছে। নির্বাচন কমিশন ঘেরাওয়ের নামে জনগণের রায় ডাকাতি করার ষড়যন্ত্রেও লিপ্ত ঐক্যফ্রন্ট।’
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের জানান, জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী দেশে সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে। প্রচণ্ড শীত উপেক্ষা করে ভোটাররা কেন্দ্রে এসে ভোট দিয়েছেন। দু-একটা বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া প্রতিটি কেন্দ্রে উত্সবমুখর পরিবেশে নির্বাচন হয়েছে। ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘শেখ হাসিনার নেতৃত্বে মহাজোটের বিজয়ের ব্যাপারে আমি শতভাগ আশাবাদী। তবে জনগণ যে রায় দিবে তা আমরা মেনে নেব। কারণ আওয়ামী লীগ গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে।’
আওয়ামী লীগ প্রেসিডিয়াম সদস্য, কেন্দ্রীয় ১৪ দলের মুখপাত্র এবং স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম জানান, বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠান সরকার চ্যালেঞ্জ হিসেবে গ্রহণ করেছিল। এ দেশের জনগণ স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভোটে অংশগ্রহণ করে। কোনো প্রকার চক্রান্ত ষড়যন্ত্র করে জনগণকে দমিয়ে রাখা যায়নি। ১৯৭০ সালের মতোই এ দেশের সাধারণ মানুষ ভোটকেন্দ্রে এসে নিজেদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন। ঈদ ও নবান্ন উত্সবের মতোই সারাদেশে ভোট উত্সব হয়েছে।
সহিংসতায় নিহত ১৩ জনের মধ্যে ১১ জন আওয়ামী লীগ, দুইজন আনসার সদস্য
ভোটকে কেন্দ্র করে গতকাল ধানমন্ডিস্থ আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর রাজনৈতিক কার্যালয়ে দলের পক্ষে ৪ দফা সাংবাদিক সম্মেলন করা হয়। বিকালে সাংবাদিক সম্মেলনে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহমান বলেন, ‘গোটা জাতি আজ আনন্দিত। আমাদের প্রত্যাশিত নির্বাচন হয়েছে। তিনি বলেন, অবাধ, সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিক্ষিপ্ত কিছু ঘটনা ঘটেছে। সেসব ঘটনায় ১৩ জন মারা গেছে। এদের ১১ জনই আওয়ামী লীগের কর্মী। আর ২ জন আনসার সদস্য। তিনি বলেন, অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে এবারের নির্বাচনে সহিংসতার ঘটনা উল্লেখযোগ্যভাবে কম হয়েছে। একই সঙ্গে গতকালের অনুষ্ঠিত ২৯৯টি নির্বাচনী আসনের ৪০ হাজারেরও বেশি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ১২টি আসনের মাত্র ১৬টি ভোটকেন্দ্রের ভোট স্থগিত হয়েছে। এমনকি নির্বাচনে ভোটারদের অংশগ্রহণও ছিল আশাব্যঞ্জক।’
এর আগে তিন দফা সাংবাদিক সম্মেলনে দলটির আরেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেন, আমরা মনে করি এবারের নির্বাচন যে কোনো সময়ের চেয়ে অত্যন্ত শান্তিপূর্ণ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন এবং সকলের অংশগ্রহণমূলক একটি নির্বাচন হয়েছে। তিনি বলেন, দেশবাসী এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তত্পরতার কারণে তারা বড় ধরনের কোনো নাশকতা চালাতে পারেনি।
নানক বলেন, গতকাল বিএনপি-জামায়াতের সন্ত্রাসীরা সুনামগঞ্জ, চট্টগ্রাম, রাঙ্গামাটি, রাজশাহী, নোয়াখালী, কিশোরগঞ্জ, সিরাজগঞ্জ, জয়পুরহাট, পঞ্চগড়, বাগেরহাট, কুষ্টিয়া, কুমিল্লা, ঢাকা-১ ও নেত্রকোনায় আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের ওপর হামলা চালিয়েছে। তাদের সন্ত্রাসীরা চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে পুলিশের রাইফেল ছিনতাই করেছে। নাটোর, চট্টগ্রাম, সিরাজগঞ্জ, জয়পুরহাট, ঠাকুরগাঁওয়ে তারা (বিএনপি-জামায়াত) আওয়ামী লীগের কর্মীদের ওপর হামলা চালিয়েছে।
সাংবাদিক সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে সাংগঠনিক সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, বিএম মোজাম্মেল হক, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার আব্দুস সবুর, বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন, শিক্ষা ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক শামসুন্নাহার চাঁপা, উপ-দপ্তর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া, কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সদস্য গোলাম রব্বানী চিনু, স্বাধীনতা চিকিত্সক পরিষদের সভাপতি ডা. ইকবাল আর্সনাল প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
