যুক্তরাষ্ট্রে মৃতের সংখ্যা ৮০ হাজার ছাড়াল

আপডেট : ১২ মে ২০২০, ০০:৪৩

করোনা ভাইরাস থেকে সৃষ্ট কোভিড-১৯ রোগে পুরো বিশ্বে প্রাণ গেছে ২ লাখ ৮৪ হাজারের বেশি মানুষের। এর মধ্যে কেবল যুক্তরাষ্ট্রেই মারা গেছে ৮০ হাজারের বেশি। দেশটিতে সংক্রমিত মানুষের সংখ্যা ১৩ লাখ ৬৯ হাজারের অধিক। হোয়াইট হাউজেরই তিন কর্মকর্তা করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। তবে এর মধ্যেও মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট কোয়ারেন্টাইনে থাকবেন না বলে জানিয়েছেন। এতো মানুষের মৃত্যুর জন্য প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে দায়ী করেছেন বুদ্ধিজীবী নোয়াম চমস্কি। এদিকে ভারতে এক দিনে আক্রান্তের রেকর্ড গড়েছে। তবে রাশিয়া, ফ্রান্স ও স্পেন লকডাউন আবার শিথিল করার ঘোষণা দিয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রেই মারা গেল ৮০ হাজারের বেশি

ওয়েবসাইট ওয়ার্ল্ডোমিটারের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে স্থানীয় সময় রবিবার পর্যন্ত মারা গেছে ৮০ হাজার ৮৪৮ জন এবং আক্রান্ত ১৩ লাখ ৭০ হাজারের বেশি। আর কোভিড-১৯ রোগ থেকে আরোগ্য লাভ করেছেন ২ লাখ ৫৬ হাজার মানুষ। ১০ লাখ ২৯ হাজার ১৯৪ জন হাসপাতালে চিকিত্সাধীন। দেশটিতে সবচেয়ে বেশি মারা গেছে নিউ ইয়র্কে (২৬ হাজার ৮১২ জন)।

বিশ্বব্যাপী আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যার দিক থেকে যুক্তরাষ্ট্রের নিকটবর্তী নেই কোনো দেশ। আক্রান্তে দ্বিতীয় স্থানে থাকা স্পেনের তুলনায় যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় পাঁচগুণ। এমন পরিস্থিতির জন্য প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে দায়ী করেছেন মার্কিন বুদ্ধিজীবী অধ্যাপক নোয়াম চমস্কি। তার বিরুদ্ধে আমেরিকানদের পিঠে ছুরি মারারও অভিযোগ করেছেন তিনি। ব্রিটিশ মিডিয়া দ্য গার্ডিয়ানকে দেওয়া সাক্ষাত্কারে এই মন্তব্য করেন চমস্কি। এদিকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প গতকাল টু্ইটার বার্তায় দাবি করেছেন, করোনা ভাইরাসের সংখ্যা ভাল বলেই মনে হচ্ছে। সব স্থানেই সংখ্যা কমছে। তিনি আবারো চীনের সমালোচনা করেন। আরেক টুইটে তিনি সাবেক প্রেসিডেন্ট ওবামারও সমালোচনা করেন।

ভারতে সংক্রমণে রেকর্ড

২৪ ঘণ্টায় ৪ হাজার ২১৩ জন নতুন করে এই মরণ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে যা রেকর্ড। দেশে মোট আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে ৬৭ হাজার ১৫২ হয়েছে। সুস্থতার হারও উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি পেয়েছে। হাসপাতালে ভর্তি সক্রিয় করোনা রোগী আছে ৪৪ হাজার ২৯ জন। সুস্থ হয়ে উঠেছেন ২০ হাজার ৯১৭ জন। গতকাল পর্যন্ত মারা গেছে ২ হাজার ২০৬ জন। গত দু’দিনে আক্রান্তের সংখ্যা ১৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এভাবে চলতে থাকলে মোট আক্রান্তের সংখ্যা আগামী সাত দিনের মধ্যে ১ লাখ ছাড়িয়ে যাবে বলে পূর্বাভাস দিয়েছেন পরিসংখ্যান বিশেষজ্ঞরা। এদিকে আজ মঙ্গলবার থেকে দেশটিতে যাত্রিবাহী ট্রেন পরিষেবা শুরু হচ্ছে।

ইউরোপে দেশে দেশে লকডাউন উঠছে যেভাবে

রাশিয়ায় আক্রান্তের সংখ্যা এক দিনে ১১ হাজারের বেশি হলেও প্রেসিডেন্ট পুতিন জানিয়েছেন, মঙ্গলবার (আজ) থেকে লকডাউন শিথিল করা হবে। স্পেনও লকডাউন আরো শিথিল করার ঘোষণা দিয়েছে। ফ্রান্সে ছাত্রসংখ্যা কমিয়ে কিছু প্রাথমিক স্কুল খুলছে। জামাকাপড়, বইয়ের দোকান এবং সেলুনও খুলছে। বেলজিয়ামে গতকাল অধিকাংশ দোকান খুলেছে। তবে রেস্টুরেন্ট, বার ও ক্যাফে বন্ধ। নেদারল্যান্ডসে প্রাথমিক স্কুল খুলেছে গতকাল। পাঠাগার, ড্রাইভিং স্কুল এবং চুল কাটার দোকানও খুলছে।

সুইজারল্যান্ডে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্কুল খুলছে। তবে ক্লাসে শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমিয়ে আনা হচ্ছে। রেস্টুরেন্ট, বইয়ের দোকান ও জাদুঘরে প্রবেশ সংরক্ষিত করা হয়েছে। স্পেনে একসঙ্গে ১০ জনের বেশি জমায়েতের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে না। ডেনমার্কে গতকাল খুলেছে শপিং সেন্টার। পোল্যান্ডে হোটেল খুলে দেওয়া হচ্ছে। যদিও বিদেশ থেকে কেউ এলে দুই সপ্তাহ কোয়ারেন্টাইনে থাকতে হবে। চীনে নতুন করে শুলান শহরে লকডাউন দেওয়া হয়েছে। এই শহরটিতে নতুন করে সংক্রমণ দেখা গিয়েছে। এক দিনে এক লন্ড্রি থেকে সংক্রমণ হয়েছে ১১ জনের মধ্যে। —বিবিসি, আলজাজিরা ও সিএনএন