ত্রাণে যুক্ত হোক সবজি, দুধ, ডিম

আপডেট : ১২ মে ২০২০, ২১:২৩

পত্রিকায় প্রায়ই দেখা যায়, পানির ধরে বিক্রি হচ্ছে সবজি। নামমাত্র মূল্যের কারণে কোনো কোনো চাষি মনের দুঃখে মাঠেই কিংবা মহাসড়কে সবজি ফেলে নষ্ট করে দেন—এই দৃশ্যগুলো বড়োই বেদনাদায়ক। করোনাজনিত কারণে বিশ্বে খাদ্যঘাটতি হতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা ধারণা করছেন। এমন পরিস্থিতিতে সরকার কৃষিখাতকে গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছেন। কিন্তু আমাদের সবজি চাষিদের ন্যায্যমূল্যপ্রাপ্তি নিয়ে কতটুকু ভাবা হচ্ছে? গত বছর কৃষি মন্ত্রণালয়, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, কৃষি বিপণন অধিদপ্তর এবং বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন মিলে রাজধানীর বাসিন্দাদের জন্যে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউর সেচভবন প্রাঙ্গণে ‘কৃষকের বাজার’ চালু করে— বিষয়টা সময়োপযোগী ব্যবস্থা মনে হয়েছে; যেখানে সরাসরি কৃষকের হাত থেকে ভোক্তরা ন্যায্যমূল্যে সবজি কেনেন। তবে সে সুযোগ শুধু ঢাকার আশেপাশের কৃষকদের জন্যে। জেলা শহরগুলোতে কৃষকের বাজার সম্প্রসারণ এবং সেইসঙ্গে কৃষকের পণ্যপরিবহনে সরকারি ব্যবস্থা প্রয়োজন। গত ২৭ এপ্রিল মাননীয় কৃষিমন্ত্রী, মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে অনলাইন সভায় বলেন, ‘দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের প্রদত্ত ত্রাণসামগ্রীতে আলু, সবজি, পেঁয়াজ ইত্যাদি নিত্যপ্রয়োজনীয় কৃষিপণ্য অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।’ বিষয়টি সময়োপযোগী। সরকারিভাবে সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে সবজি কিনে সেগুলো রিলিফে যুক্ত করা হলে করোনা পরিস্থিতিতে কৃষক ন্যায্যমূল্য পাওয়ার পাশাপাশি মধ্যসত্ত্বভোগীদের হাত থেকে রক্ষা পাবেন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী গত ২৭ এপ্রিল ভিডিও কনফারেন্সে পাবনা জেলার কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে বলেন, ‘সিরাজগঞ্জ-পাবনা এসব এলাকার দুগ্ধ খামারিদের দিকে বিশেষ দৃষ্টি দিতে হবে। রিলিফ হিসেবে এই দুধও আপনারা দিয়ে দিতে পারেন।’ করোনা পরিস্থিতিতে বিপর্যস্ত দুগ্ধশিল্প বিশেষ করে ক্ষুদ্র খামারিরা খুবই বিপদে আছেন। এই অবস্থায় সরকারি রিলিফে দুধ অন্তর্ভুক্ত করা হলে ক্ষুদ্র খামারি তথা শ্বেতশিল্পের অগ্রযাত্রা অব্যাহত থাকবে। দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধির জন্যে দুধ, ডিম, সবজি খুবই প্রয়োজনীয়। এই মুহূর্তে সরকারের পাশাপাশি অনেক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন দরিদ্রদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করছে, তারা বিষয়টি মাথায় রাখতে পারে। রিলিফে যুক্ত হোক দুধ, ডিম, সবজি। তাহলে একইসঙ্গে অনেক সমস্যার সমাধান হবে।

কামরুল হাসান কামু

শিক্ষার্থী, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, ময়মনসিংহ