নারায়ণগঞ্জে করোনাচিত্র ভয়াবহ তবুও ঘরের বাইরে মানুষ

আপডেট : ১২ মে ২০২০, ২১:৫১

হাবিবুর রহমান বাদল, নারায়ণগঞ্জ

নারায়ণগঞ্জের করোনা পরিস্থিতি বর্তমানে ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। প্রতিদিনই নতুন নতুন লোক আক্রান্ত হচ্ছে, মরছে মানুষ। তারপরও মানুষ নেমে গেছে পথে। যাচ্ছে কর্মস্থলে। করোনার রেড জোন নারায়ণগঞ্জে একেবারেই ভেঙে পড়েছে লকডাউন। এতবড়ো একটা বিপদের মধ্যে রয়েছে গোটা শহর, অথচ নগরবাসীর বেশির ভাগের মধ্যেই দেখা যাচ্ছে না করোনাভীতি। সর্বত্রই যেন স্বাভাবিক পরিস্থিতি। স্বাস্থ্যবিধি মেনে ঘরে থাকার কোনো বালাই নেই নারায়ণগঞ্জবাসীর মধ্যে। ২৬ মার্চ থেকে শুরু হওয়া সাধারণ ছুটি আর ৮ এপ্রিল থেকে নারায়ণগঞ্জকে লকডাউন করা হলেও তা বেশিদিন স্থায়ী হয়নি। আর বর্তমানে তো বলতে গেলে লকডাউনের কোনো অস্তিত্বই নেই নারায়ণগঞ্জে।

করোনা ভাইরাসের প্রকোপ শুরুর পর থেকে ঘরে থাকার বিষয়ে প্রথমে বেশ কড়াকড়ি ছিল নারায়ণগঞ্জে। কিন্তু ২৬ এপ্রিল গার্মেন্টস খুলে দেওয়ার পর থেকে শিথিল হতে থাকে সবকিছু। এরপর হোটেল রেস্তোরাঁ খুলে দিলে আরেকটু ধাক্কা খায় লকডাউন পরিস্থিতি আর গত রবিবার ১০ মে থেকে দোকানপাট ও মার্কেট খুলে দেওয়ার পর থেকে নারায়ণগঞ্জে পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে করোনা মোকাবিলার সব প্রস্তুতি। এখন নারায়ণগঞ্জে লকডাউন কেবল সরকারি ঘোষণায় সীমাবদ্ধ। প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ প্রতিরোধে গত ২৬ মার্চ থেকে বন্ধ হওয়া দেশের সব মার্কেট ও বিপণিবিতান খুলেছে গত ১০ মে। দীর্ঘ ৪৫ দিন বন্ধ থাকার পরে পবিত্র ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে খুলে দেওয়া হয়েছে এসব মার্কেট ও দোকানপাট। যদিও দেশের অনেক জেলায় দোকান মালিক সমিতি বন্ধ রেখেছে তাদের মার্কেট, এমনকি রাজধানী ঢাকার বড়ো বড়ো মার্কেটও বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে কিন্তু নারায়ণগঞ্জের ব্যবসায়ীরা করোনা সংক্রমণের বিষয়টি উপেক্ষা করে রবিবার খুলে দিয়েছে তাদের সব দোকানপাট ও শপিংমল। আর খোলার পর থেকেই ক্রেতাদের উপস্থিতিও লক্ষ্য করা গেছে মার্কেটগুলোতে।

শহরের বেশির ভাগ মার্কেট খোলায় আবারও ব্যস্ত হয়ে পরেছে গুরুত্বপূর্ণ বঙ্গবন্ধু সড়ক। রাস্তায় দিনভর লেগে আছে যানজট। যদিও গণ পরিবহন বন্ধ রয়েছে তবে রিকশা, ইজিবাইক, অটোরিকশা আর ব্যক্তিগত গাড়ির পাশাপাশি পণ্যবাহী যানের চাপে আবারো জট লেগে যাচ্ছে শহরের প্রধান এই সড়কে। শহরের ব্যস্ততম বিবি রোডে থেমে থেমেই সৃষ্টি হচ্ছে যানজট। বিশেষ করে চাষাঢ়া, ব্যাংকের মোড়, ২ নম্বর রেলগেটসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে অতিরিক্ত যানবাহন দেখা গেছে। কাগজে-কলমে লকডাউন চললেও বাস্তবে তার কোনো লক্ষণই নজরে পড়ছে না করোনার রেড জোন নারায়ণগঞ্জে।