সিলেট বিভাগে করোনা আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ৩০০ ছাড়াল

আপডেট : ১২ মে ২০২০, ২৩:০৮

সিলেট বিভাগে গতকাল মঙ্গলবার পর্যন্ত করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ৩০০ ছাড়িয়েছে। এর মধ্যে হাসপাতালে ভর্তি আছেন ১২০ জন। সিলেট বিভাগে করোনায় এ পর্যন্ত এক জন চিকিত্সকসহ ছয় জনের প্রাণহানি ঘটেছে। এদিকে আহমদ হোসেন (৫৩) নামে এক আসামি করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে শামসুদ্দিন হাসপাতালে মারা যান। এ কারণে ৮৩ হাজতির একটি সেলকে লকডাউন এবং কারাগারের ২৪ কর্মকর্তা-কর্মচারীকে কোয়ারেন্টাইনে পাঠানো হয়েছে বলে জানান সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার আবু সায়েম।

বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) কার্যালয়, সিলেট সূত্রে জানা যায়, গত ১০ মার্চ থেকে ১২ মে পর্যন্ত সিলেট বিভাগে মোট ৩০১ জন করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। এর মধ্যে সিলেট জেলায় ৮৮, সুনামগঞ্জে ৬৩, হবিগঞ্জে ১০২ ও মৌলভীবাজার জেলায় ৪৮ জন। চিকিত্সা শেষে হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফিরেছেন ৩৫ জন। 

হোম কোয়ারেন্টাইন থেকে ছাড়পত্র পেয়েছে ৯ হাজার :সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়,  সিলেট বিভাগে হোম কোয়ারেন্টাইনে পাঠানো হয় ১০ হাজার ৫৯১ জনকে এবং কোয়ারেন্টাইন থেকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে ৯ হাজার ৭০ জনকে। বর্তমানে হোম কোয়ারেন্টাইনে আছেন ১ হাজার ৫২১ জন। তারা সংশ্লিষ্ট জেলা ও উপজেলা হাসপাতাল এবং স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে চিকিত্সাধীন।

এদিকে দিনে দিনে যেভাবে সিলেটে করোনা আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে সেভাবে ওসমানী হাসপাতালে স্থাপিত একমাত্র ল্যাবে পরীক্ষার সংখ্যা বাড়ছে না। সন্দেহভাজন করোনা রোগীদের নমুনার স্তূপ বাড়ছে। বিকল্প হিসাবে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ল্যাবের অপেক্ষায় সংশ্লিষ্টরা। সূত্র মতে, কয়েক দিনের মধ্যেই বায়োসেফটি কেবিন আসলে শাবির ল্যাব চালু করা হবে।

সক্ষমতার তুলনায় ওসমানীর ল্যাবে বেশি নমুনা জমা : 

মার্চে দেশে করোনা ভাইরাস দেখা দিলে একমাত্র আইইডিসিআর করোনা ভাইরাস শনাক্তের পরীক্ষা করতো। কিন্তু রোগীর সংখ্যা বেড়ে গেলে ৭ এপ্রিল সিলেটে ওসমানী মেডিক্যাল কলেজে স্থাপিত ল্যাবে করোনা ভাইরাস শনাক্তের পরীক্ষা শুরু হয়। এখানে প্রতিদিন দুটি শিফটে ৯৪টি করে ১৮৮টি নমুনা পরীক্ষার সক্ষমতা রয়েছে। তবে এতো সংখ্যক নমুনা পরীক্ষা সম্ভব হয় না প্রতিদিন।  

ডা. আনিসুর রহমান বলেন, ওসমানীর ল্যাবে প্রতিদিন ১৮৮টির মতো নমুনা পরীক্ষার সক্ষমতা আছে। কিন্তু বার বার পরীক্ষার দরুণ সক্ষমতা অনুসারে পরীক্ষা হয় না। তাছাড়া প্রতিদিন সিলেটের চারটি জেলা থেকে করোনা আক্রান্ত সন্দেহভাজনদের নমুনা ওসমানীর ল্যাবে আসে। ল্যাবে ১ হাজারেরও বেশি নমুনা জমা পড়ে আছে। গত ২৩ এপ্রিল ওসমানীতে এক ইন্টার্ন চিকিত্সক করোনা আক্রান্ত হলে ৭৮ জনের নমুনা পরীক্ষার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়। সেখান থেকে ১৬ জনের পজিটিভ ফলাফল আসে। দ্বিতীয়বার পরীক্ষার পর আক্রান্ত ১৫ জন নারী চিকিত্সকের ফল আসে নেগেটিভ ।

শাবি প্রস্তুত : বায়ো সেফটি কেবিনের অপেক্ষায় :

সিলেটের পরিস্থিতি বিবেচনায় শাবির জেনেটিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড বায়োটেকনোলজি (জিইবি) বিভাগের ল্যাবে করোনা শনাক্তের পরীক্ষা শুরুর প্রস্তুতি প্রায় শেষ। শাবির জেনেটিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড বায়োটেকনোলজি (জিইবি) বিভাগের প্রধান অধ্যাপক শামসুল হক বলেন, তাদের ল্যাব ৮০-৯০ ভাগ প্রস্তুত। বায়ো সেফটি কেবিন আসলেই বৃহস্পতিবার নাগাদ পরীক্ষা শুরু করা যাবে।  

অন্যদিকে গত রবিবার ওসমানী হাসপাতালে ১৮৭ জনের নমুনা পরীক্ষায় কারো শরীরে করোনা ভাইরাস পাওয়া যায়নি। এই ঘটনায় সংশ্লিষ্ট চিকিত্সকরাও অবাক। ডা. মঈন উদ্দিন করোনা আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়ার পর তার পরিবারসহ ১৬ জন  এবং  আরো অনেক আক্রান্তের সংস্পর্শে আসাদের নমুনা পরীক্ষা করে সবার রিপোর্ট নেগেটিভ আসে। ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. হিমাংশু লাল রায় বলেন, কেন এরকম ঘটল তা বলা মুসকিল। ওসমানীতে গাইনি বিভাগে এক প্রসূতির করোনা পজিটিভ হলে চিকিত্সকসহ ৪০ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়। কারো শরীরেই কিছু পাওয়া যায়নি। এমনকি নবজাতকের শরীরেও ভাইরাস পাওয়া যায়নি। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সিলেট বিভাগীয় অফিসের সহকারী পরিচালক ডা. আনিসুর রহমান বলেন, এটা সত্যিই ব্যতিক্রম।