এক দিনেই রেকর্ড ১৯ জনের মৃত্যুর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে করোনা ভাইরাসে মৃতের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ২৬৯ জন। গতকাল বুধবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় ৭ হাজার ৯০০টি নমুনা পরীক্ষা করে আরো ১ হাজার ১৬২ জনের মধ্যে সংক্রমণ ধরা পড়ায় দেশে শনাক্ত রোগীর সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ১৭ হাজার ৮২২ জন। নিয়মিত বুলেটিনে যুক্ত হয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা দেশে করোনা ভাইরাস পরিস্থিতির সবশেষ তথ্য তুলে ধরেন। বাংলাদেশে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত প্রথম রোগীর খোঁজ মেলার পর গত দুই মাসে আর কখনো এক দিনে এত নতুন রোগী শনাক্ত হয়নি, এত বেশি মৃত্যুও বাংলাদেশকে দেখতে হয়নি।
অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা জানান, গত এক দিনে যে ১৯ জনের মৃত্যু হয়েছে, তাদের মধ্যে ১২ জন পুরুষ, সাত জন নারী। তাদের মধ্যে ১৩ জন ঢাকা মহানগরীর বাসিন্দা ছিলেন। আর এক জন নারায়ণগঞ্জের, এক জন মুন্সীগঞ্জের, একজন নড়াইলের, দুই জন চট্টগ্রামের এবং এক জন কুমিল্লার। অধ্যাপক ডা. নাসিমা জানান, এই ১৯ জনের মধ্যে ১০ বছরের কম বয়সি একটি কন্যাশিশুও রয়েছে। এ ছাড়া পাঁচ জনের বয়স ৭১ থেকে ৮০ বছরের মধ্যে, ৫ জনের বয়স ৬১ থেকে ৭০ বছরের মধ্যে, সাত জনের বয়স ৫১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে, এক জনের বয়স ৩১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে। বুলেটিনে জানানো হয়, সারা দেশে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের মধ্যে আরো ২১৪ জন গত এক দিনে সুস্থ হয়েছেন। এ নিয়ে মোট ৩ হাজার ৩৬১ জন সুস্থ হয়ে উঠলেন। সারা দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় আইসোলেশনে নেওয়া হয়েছে ১৫০ জনকে, বর্তমানে আইসোলেশনে আছেন মোট ৩ হাজার ৪৩৫ জন।
৪১টি ল্যাবে নমুনা পরীক্ষার তথ্য তুলে ধরে অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা ভাইরাস শনাক্তে আরো ৭ হাজার ৮৬২টি নমুনা সংগ্রহ করা হয়। আগের কিছু মিলিয়ে পরীক্ষা করা হয় ৭ হাজার ৯০০টি। এ নিয়ে দেশে মোট নমুনা পরীক্ষা করা হলো ১ লাখ ৪৪ হাজার ৫৩৮টি। দেশে গত ৮ মার্চ করোনা ভাইরাস শনাক্ত হওয়ার পর বুধবারের আগ পর্যন্ত সর্বোচ্চ মৃত্যু রেকর্ড ছিল ১৫ জনের। সেটা ১৭ এপ্রিলের বুলেটিনে জানানো হয়। আর সর্বোচ্চ শনাক্তের রেকর্ড ছিল ১ হাজার ৩৪ জনের। ঐ তথ্য জানানো হয় গত ১১ মের বুলেটিনে। কিন্তু গতকাল নতুন রেকর্ড সৃষ্টি হয়েছে। বুধবারের বুলেটিনে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় আইসোলেশন থেকে ছাড় পেয়েছেন ৭৬ জন এবং এ পর্যন্ত ছাড় পেয়েছেন ১ হাজার ৩৩২ জন।
