কেউ কেউ মৌসুমি ফল লিচুকে ‘রসগোল্লা’ বলে থাকেন। আমাদের দেশে সবার আগে পাতি লিচু পেকে যায়। কদমি লিচু আকারে বড়ো ও সুস্বাদু। পাতি জাতের লিচুর পরে কদমি, চায়না-৩ ও সর্বশেষ বোম্বাই লিচু পাকে। প্রতি শত কদমি লিচু বাজারে ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা, বোম্বাই লিচু ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা, পাতি লিচু ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকায় বিক্রি হয়ে থাকে।
কাশি, পেটব্যথা, টিউমার এবং গ্ল্যান্ডের বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধে অত্যন্ত কার্যকর লিচু। এতে রয়েছে প্রচুর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও ক্যানসার-প্রতিরোধী উপাদান। পাশাপাশি রয়েছে ক্যালসিয়াম, লৌহ, আঁশ, কিলোক্যালরি, শর্করা, ভিটামিন বি ও ভিটামিন সি-সহ বিস্ময়কর স্বাস্থ্য উপাদান। লিচু শরীর ঠান্ডা রাখে। তৃষ্ণা মেটায় ও শরীরের বল বাড়ায়। লিচু পরিমিত খেলে শরীরের বায়ু, কফ ও পিত্ত নাশে অনেক সহায়ক। অত্যধিক ক্লান্তিতে এবং দীর্ঘদিন রোগভোগের পর শারীরিক দুর্বলতায় প্রতিদিন চার-পাঁচটি লিচু সামান্য লবণ মিশিয়ে খেলে দারুণ উপকার পাওয়া যায়। মস্তিষ্কের দুর্বলতায় স্মৃতি বিভ্রম ঘটলে দিনে আট-দশটা লিচু লবণ মিশিয়ে খেলে স্মৃতি স্বাভাবিক হয়। হূদরোগ ও লিভারের রোগীদের পক্ষে লিচু অনেক উপকারী। দুবেলা চার-পাঁচটি করে লিচু খেলে, বয়স বাড়লেও শরীরে লাবণ্য বজায় থাকে। যে কোনো চর্মরোগ উপশমে লিচুর বীজ ব্যবহূত হয়। লিচুর শেকড়, বাকল ও ফুল গলগণ্ড রোগের প্রতিষেধক। কচি লিচু বসন্ত রোগে এবং বীজ অম্ল ও স্নায়ুবিক যন্ত্রণার ওষুধ। লিচুগাছের বাকল ও শেকড় পানিতে মিশিয়ে গরম করে কুলি করলে গলাব্যথার কষ্ট উপশম হয়। লিচু হজমের জন্য ভালো। লিচুতে যথেষ্ট ফাইবার ও প্রচুর পানি থাকে, যা হজমের জন্য দারুণ কাজ করে। প্রচণ্ড গরমে পেটে সমস্যা হলে লিচু খেলে স্বস্তি মেলে। শরীরের ওজন কমাতে সাহায্য করে লিচু। চোখের সুরক্ষায় লিচুতে রয়েছে বিশেষ ফাইটোকেমিক্যাল ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্টসহ নানা উপাদান। নিয়মিত লিচু খেলে হূদরোগের ঝুঁকি কমে।
প্রায় সব মাটিই লিচু চাষের জন্য উপযোগী। সমস্ত জেলাতেই কমবেশি লিচুর চাষ হয়ে থাকে। তবে দিনাজপুর, কুষ্টিয়া, যশোর, পাবনা, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, গাজীপুর, নরসিংদী, নারায়ণগঞ্জ ও চট্টগ্রামে বেশি লিচু ফলে। চলতি মৌসুমে গাছে গাছে লিচু পাকতে শুরু করেছে। সপ্তাহখানেকের মধ্যে বাজারে আসছে রসগোল্লা খ্যাত ফল টসটসে পাকা লিচু।
