সন্ধান মেলেনি ব্যাংকের খোয়া যাওয়া ৮০ লাখ টাকারও

উদ্ধার হয়নি ছিনতাই হওয়া ৫৫ লাখ টাকা

আপডেট : ১৪ মে ২০২০, ২৩:২৫

রাজধানীর সায়েদাবাদ থেকে ছিনতাই হওয়া ৫৫ লাখ টাকা পাঁচ দিনেও উদ্ধার বা এর সঙ্গে জড়িতদের গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। অন্যদিকে ন্যাশনাল ব্যাংকের খোয়া যাওয়া ৮০ লাখ টাকারও সন্ধান মেলেনি। তদন্তকারীরা বলছেন, ঐ ৮০ লাখ টাকা আসলে চুরি হয়েছে। সেটা উদ্ধারের চেষ্টা চলছে।

গত রবিবার প্রকাশ্যে চার ছিনতাইকারী সায়েদাবাদ সড়ক ও জনপথ (সওজ) মোড়ে ব্যবসায়ী সাইফুল ইসলামকে পিটিয়ে তার কাছ থেকে কালো রঙের কাপড়ের ব্যাগভর্তি ৫৫ লাখ ৬৯ হাজার টাকা ছিনিয়ে দুটি মোটরসাইকেলে করে পালিয়ে যায়। আশপাশের লোকজন যাতে কাছে না আসতে পারে সেজন্য ছিনতাইকারীরা এলোপাতাড়ি গুলিও ছোড়ে। সাইফুল ইসলাম বেসরকারি একটি ব্যাংকের এজেন্ট ব্যাংকিং এজেন্সি মারফুস এন্টারপ্রাইজ ও এইচ-২৪ এন্টারপ্রাইজের মালিক। তিনি যাত্রাবাড়ীর কাজলা এলাকায় তার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান থেকে এক কর্মচারীকে সঙ্গে করে মোটরসাইকেলে মতিঝিলের একটি ব্যাংকে টাকা জমা দিতে যাচ্ছিলেন।

যাত্রাবাড়ী থানার পুলিশ জানায়, ছিনতাইয়ের ঘটনায় করা মামলাটি যাত্রাবাড়ী থানা পুলিশের পাশাপাশি ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগ ও র্যাব ছায়া তদন্ত করছে। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা যাত্রাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাজহারুল ইসলাম            বলেন, সায়েদাবাদ এলাকার ক্লোজড সার্কিট ক্যামেরার (সিসি) ভিডিও ফুটেজ জব্দ করে বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। ছিনতাইকারীদের গ্রেফতার ও ছিনতাই হওয়া টাকা উদ্ধারের চেষ্টা চলছে।

অন্যদিকে রাজধানীর পুরান ঢাকায় বিভিন্ন শাখা থেকে উত্তোলন করা ন্যাশনাল ব্যাংকের ৮০ লাখ টাকার বস্তাটি গাড়ি থেকে খোয়া যায়নি, ঐ টাকা চুরি করা হয়েছে। টাকা উত্তোলনের কোনো পর্যায়ে ঐ টাকার বস্তাটি গাড়ি থেকে চুরি করা হয় বলে প্রাথমিক তদন্তে তথ্যপ্রযুক্তি, সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণে জানতে পেরেছে পুলিশ। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত রবিবার দিনে ঘটা ঐ চাঞ্চল্যকর ঘটনায় যে মামলা হয়েছে তার তদন্ত চলছে।

টাকার গাড়ির দায়িত্বে থাকা চার জনকে গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছিল। আদালতের নির্দেশে তাদের এক দিন রিমান্ডের পর ব্যাংকের এক জন নির্বাহী কর্মকর্তা, এক জন গাড়িচালক ও দুই জন নিরাপত্তা কর্মীকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদে টাকা উধাও কিংবা হারিয়ে যাওয়া সম্পর্কে বিশেষ কোনো তথ্য পায়নি পুলিশ।

কোতোয়ালি থানার ওসি মিজানুর রহমান বলেন, টাকার গাড়িটি যেসব এলাকায় ঘোরাঘুরি করেছে, সম্ভাব্য সব এলাকার বেশকিছু সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে। আরো ফুটেজ সংগ্রহ করা হবে। ফুটেজে বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য আমরা পেয়েছি। ঐ ফুটেজ ধরেই পুলিশ কাজ করছে।

ডিএমপির লালবাগ বিভাগের উপ-কমিশনার মুনতাসিরুল ইসলাম বলেন, প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হওয়া গেছে টাকাটা আসলে চুরি হয়েছে। ঐ টাকার গাড়ির দায়িত্বে থাকা চার জনের অসতর্কতায় কেউ এক জন টাকার বস্তাটি চুরি করে নিয়ে যায়। তবে টাকা চুরির এই ঘটনায় গাড়ির ঐ চার জনের কেউ জড়িত আছে কি-না, তা আমরা নিশ্চিত হতে পারিনি। আমরা তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করেছি।