কারখানা মালিকপক্ষের কিছুটা অসুবিধা হলেও গার্মেন্টস শ্রমিকদের শতভাগ বোনাস (অতীতে যেভাবে দেওয়া হতো) দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী বেগম মন্নুজান সুফিয়ান। তিনি বলেন, কারখানা বন্ধ থাকায় খণ্ডিত হারে (মোট বেতনের ৬০ শতাংশ) বেতন পাওয়ার ক্ষতি কিছুটা পুষিয়ে নিয়ে ঈদ করতে পারবেন শ্রমিকরা। অবশ্য কারখানা বন্ধ, ক্রয়াদেশ বাতিলসহ বিভিন্ন কারণ দেখিয়ে ঈদ বোনাস না দেওয়ার পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেছেন মালিকপক্ষ। গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর বিজয়নগরে শ্রম ভবনে ইস্যুটি নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা হলেও শেষ পর্যন্ত কোনো সিদ্ধান্ত আসেনি।
অন্যদিকে এপ্রিলের বেতন আগামী ২০ মের মধ্যে পরিশোধ, কারখানা বন্ধ বা শ্রমিক ছাঁটাই না করার নির্দেশনা দিয়েছে মন্ত্রণালয়। একইভাবে গার্মেন্টস ছুটি সর্বোচ্চ তিন দিন করা এবং কোনো শ্রমিক যাতে এলাকা না ছাড়ে, সে বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।
সভা সূত্র জানিয়েছে, শেষ পর্যন্ত মালিকপক্ষ অর্ধেক বোনাস দিতে রাজি হয়েছেন। সভায় উপস্থিত জাতীয় গার্মেন্টস শ্রমিক কর্মচারী লীগের সভাপতি সিরাজুল ইসলাম রনি সভা শেষে ইত্তেফাককে বলেন, পূর্বে যা দেওয়া হতো, মালিকপক্ষ বোনাস সর্বোচ্চ তার অর্ধেক অর্থাত্ ৫০ শতাংশ দিতে চায়। তবে আমরা রাজি নই। আগামী শনি কিংবা রবিবার নাগাদ ফের সভা হতে পারে।
সভায় উপস্থিত বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএমএ) সভাপতি মোহাম্মদ আলী খোকন ইত্তেফাককে বলেন, আমরা বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরেছি। ৫০ শতাংশ বিষয়ে কোনো কথা হয়নি। পরে আবার সভা হবে।
শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রীর সভাপতিত্বে সভায় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন এফবিসিসিআই এবং বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি সংসদ সদস্য সফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন, এক্সপোটার্স অ্যাসোসিয়েশনের (ইএবি) সভাপতি ও সংসদ সদস্য আব্দুস সালাম মুর্শেদী, বিজিএমইএর সভাপতি ড. রুবানা হক, বিকেএমইএর প্রথম সহসভাপতি মোহাম্মদ হাতেম, শ্রমিক লীগের সভাপতি ফজলুল হক মন্টু, শ্রমিক নেতা মন্টু ঘোষ ও জলি তালুকদার প্রমুখ।
এদিকে মে মাসের ১৪ তারিখ পার হলেও শিল্পাঞ্চলে অবস্থিত কারখানার ৩০ শতাংশও এখনো এপ্রিলের বেতন পরিশোধ করেনি। বেতন ভাতা ইস্যুতে শিল্পাঞ্চলগুলোতে শ্রম অসন্তোষ লেগেই আছে। শিল্পাঞ্চল পুলিশ সূত্র জানিয়েছে, গতকালও অন্তত ২০টি কারখানায় বেতন-ভাতা ইস্যুতে শ্রমিক অসন্তোষের ঘটনা ঘটেছে।
