বনরক্ষীদের বিরুদ্ধে হরিণ শিকারীদের উল্টো মামলা

আপডেট : ১৫ মে ২০২০, ১৮:১১

পূর্ব সুন্দরবনে হরিণ শিকারীদের বিরুদ্ধে মামলা করে উল্টো বনরক্ষীরাই পাল্টা মামলার আসামি হয়েছেন। শিকারীচক্রটি মামলা থেকে রেহাই পেতে ঘটনার তিন মাস পরে তাদের বিরুদ্ধে মামলার বাদিসহ তিন বনরক্ষীর বিরুদ্ধে শরণখোলা থানায় একটি পাল্টা মামলা দায়ের করেছে।

পূর্ব সুন্দরবনের চাঁদপাই রেঞ্জ কর্মকর্তা (এসিএফ) এনামুল হক জানান, শরণখোলা থানায় হরিণ শিকারীদের বিরুদ্ধে মামলা করায় মামলার আসামিরা ঘটনার সাড়ে তিনমাস পরে আসামিদের মামা পরিচয়দানকারী মোংলা উপজেলার মিঠাখালী গ্রামের সোহরাব হোসেন বাদি হয়ে বনবিভাগের মামলার বাদি তাম্বলবুনিয়া টহল ফাঁড়ির ওসি মিজানুর রহমানসহ বিএম আবুল বাশার ও মোতালেব হোসেনকে আসামি করে বনরক্ষীদের বিরুদ্ধে মারধরের অভিযোগ এনে  গত ১ মে শরণখোলা থানায় একটি পাল্টা মামলা দায়ের করেছেন।

জানা যায়, চলতি বছরের ১৬ জানুয়ারি  বিকেল ৫ টার দিকে সুন্দরবনের তাম্বুলবুনিয়া টহল ফাঁড়ির বনরক্ষীরা টহলকালে বনের কলামুলা এলাকায় দুইটি ডিঙ্গি নৌকা আটক করে। পরে তারা নৌকা দুইটি তল্লাশি চালিয়ে হরিণ শিকারের ফাঁদ, শিকার নিষিদ্ধ মা কাকড়া ও মাছ ধরার সরঞ্জাম উদ্ধার করে। এ সময় নৌকায় থাকা শিকারীরা আকস্মিক বনরক্ষীদের আক্রমণ করে পালিয়ে যায়। শিকারীদের হামলায় বনরক্ষী আবুল বাশার ও মোতালেব হোসেন গুরুতর আহত হয়। এ ঘটনায় ১৭ জানুয়ারি তাম্বুলবুনিয়া টহলফাড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মিজানুর রহমান বাদি হয়ে শরণখোলা থানায় চারজনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেন বলে এসিএফ জানান।

অভিযুক্তরা হচ্ছেন, পিরোজপুর জেলার কাউখালী উপজেলার ধাবড়ী গ্রামের আ. হক শেখের ছেলে ইউসুফ শেখ (৩৫), বাগেরহাটের মোংলা উপজেলার বাঁশতলা গ্রামের হাছেন মুসুল্লির ছেলে আ. হামিদ মুসুল্লি (৩৫), হানিফ মুসুল্লি (৩৩), আসাদ মুসুল্লি (৩০)। এ মামলায় ইতিমধ্যে আদালতে চার্জশিট দেওয়া হয়েছে বলে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা শরণখোলা থানার এসআই স্বপন কুমার জানিয়েছেন।

শরণখোলা থানার অফিসার ইনচার্জ এসকে আব্দুল্লাহ আল সাইদ বলেন, ওই আসামিরা  মেডিকেল সনদপত্র নিয়ে এসে মারপিটের অভিযোগ দেওয়ায় মামলা নেওয়া হয়েছে। তদন্ত চলছে ঘটনার সত্যতা পাওয়া না গেলে আদালতে চূড়ান্ত রিপোর্ট দেওয়া হবে।

পূর্ব সুন্দরবন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও)  মো. বেলায়েত হোসেন বলেন, হরিণ শিকারীরা তাদের বিরুদ্ধে হওয়া মামলা থেকে রেহাই পেতে অসৎ উদ্দেশ্যে বনরক্ষীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা করে বনবিভাগের মনোবল দুর্বল করতে চাইছে। তাদের অপচেষ্টা সফল হবেনা।

ইত্তেফাক/এসি