করোনায় ‘সঙ্গে আছি’ সংগঠনের ব্যতিক্রম উদ্যোগ

আপডেট : ১৫ মে ২০২০, ২১:৫৩
করেনায় কারণে অহসায় মানুষ ও পশুপাখির পাশে খাদ্য সামগ্রীর সহায়তা নিয়ে পাশে দাঁড়িয়েছে ‘সঙ্গে আছি’ স্বেচ্ছাসেবী নামে একটি সংগঠন। লকডাউনে বেদে সম্প্রদায়ের আয়-রোজগার নেই। তাই তুরাগে এই সম্প্রদায়ের ৬৫ পরিবারকে খাদ্যসামগ্রী উপহার দিয়েছে ‘সঙ্গে আছি’ স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন। রাজধানী ঢাকার রাস্তায় ঘুরে ঘুরে পথচারী, রিকশাচালক, সিএনজি চালক, ভিক্ষুক ও ছিন্নমূল মানুষদের ইফতার উপহার দিচ্ছেন তারা। ২ হাজার মানুষকে এই উদ্যোগের মাধ্যমে উপহার দেন তারা। এছাড়া হিজরা সম্প্রদায়ের ২০০ জনকে খাদ্যসামগ্রী উপহার দিয়েছে সংগঠনটি। অন্যদিকে করোনা ভাইরাস পরিস্থিতিতে রাজধানী ঢাকার খাবারের হোটেল বন্ধ। তাই খাবারের উচ্ছিষ্ট আর জুটছে না কুকুরের ভাগ্যে। দোকানপাট বন্ধ, তাই ভালোবেসে কেউ দুই-এক প্যাকেট বিস্কুটও খেতে দিতে পারছেন না কুকুরকে। করোনা আতঙ্কে কুকুরকেও বাড়ির আশপাশে ভিড়তে দিচ্ছেন না অনেকে। ফলে অভুক্ত থাকছে কুকুর। খাবার না পেয়ে অবলা প্রাণ কষ্ট পাচ্ছে। তাই অভুক্ত এসব কুকুরকে খাওয়াচ্ছে ‘সঙ্গে আছি’ সংগঠনটি। গভীর রাতে রাস্তায় ঘুরে ঘুরে ৪ হাজার কুকুরকে খাবার দিয়েছে এই সংগঠনের স্বেচ্ছাসেবীরা। করোনায় লকডাউনে মানুষ যেমন বিপদে আছে, তেমনি খাবারের অভাবে বিপাকে পড়েছে পুরান ঢাকার বানর। ঢাকা শহরের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের সঙ্গে সরাসরি মিশে আছে এসব বানর। পুরান ঢাকার অলিগলি ঘুরে বানরকে ফল খাওয়াচ্ছে তারা। ১৫০টি বানরের মুখে খাবার তুলে দেয় সংগঠনটির স্বেচ্ছাসেবীরা। পুরান ঢাকার ঐতিহ্যের ধারক টমটমে এক জোড়া ঘোড়া ব্যবহার হয়ে থাকে। মাঝেমধ্যে একটি ঘোড়া দিয়েও গাড়ি টানা হয়। রাজধানীর বঙ্গবাজারে উড়াল সড়কের নিচেই রয়েছে ৪৫টি টমটমের ঘোড়া। গাড়ি চলে না, তাই আয় বন্ধ। ঘোড়ার খাবার দিতে হিমশিম খাচ্ছে মালিক। খবর পেয়ে, এসব ঘোড়ার একদিনের খাবার দিয়েছে 'সঙ্গে আছি- স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন'। এছাড়া মধ্যবিত্তদের বাসায় গিয়ে খাদ্যসামগ্রী দিচ্ছে তারা। প্রতিদিন ছিন্নমূল মানুষকে রান্না করে খাওয়ানো হচ্ছে। সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক বারেক কায়সায় জানান, ‘সবচেয়ে কষ্টে আছে মধ্যবিত্ত’। তারা হাত পাততে পারে না, আবার ঘরে খাবার নেই। ফলে তাদের কাছে যারা ফোন করছেন তাদের বাসায় গিয়ে এগুলো পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। ৭ হাজার মধ্যবিত্ত, নিম্নমধ্যবিত্তের কাছে উপহার তুলে দেয়া হয়েছে। সংগঠনের সভাপতি মো. জসিম উদ্দিন খান বলেন, ‘মানুষের ক্ষুধা লাগলে চাইতে পারে। আর এসব প্রাণী চাইতেও পারে না। ভালো লাগছে রাস্তার কুকুরকে খাওয়াতে পেরে। আমাদের এই উদ্যোগ চলমান থাকবে।‘ ইত্তেফাক/কেকে