যান চলাচল নিয়ন্ত্রণে কঠোর সরকার

আপডেট : ১৫ মে ২০২০, ২৩:০০

করোনা ভাইরাসের সংক্রামণ নিয়ন্ত্রণে কঠোর অবস্থানে সরকার। এবার ঈদে ঘরমুখো মানুষের চিরচেনা ভিড় ও সড়কে দীর্ঘ যানজট দেখা যাবে না। ঈদ সামনে রেখে বাস, ট্রেন ও লঞ্চে সাধারণ মানুষের অবাধ চলাচল ঠেকাতে কঠোর হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। কোনোভাবেই সাধারণ মানুষ যাতে এক উপজেলা থেকে অন্য উপজেলা, এক জেলা থেকে অন্য জেলায় চলাচল করতে না পারে, সেজন্য কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণে জেলা প্রশাসকদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সরকারের নির্দেশনা মোতাবেক নিজ নিজ জেলা প্রশাসকেরা প্রজ্ঞাপন জারি করেছেন। আদেশ অমান্য করলে জেল-জরিমনার কথা বলা হয়েছে।

এদিকে গণপরিবহন চালু করার বিষয়ে পরিবহন মালিকেরা আবেদন করলেও তা বিবেচনায় নেওয়া হয়নি। সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় আগামী ৩০ মে পর্যন্ত সড়কের গণপরিবহন চলাচলের ওপর নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ বাড়িয়েছে। যাত্রীবাহী লঞ্চের ওপর অনির্দিষ্টকালের জন্য নিষেধাজ্ঞা আগে থেকেই রয়েছে। তবে জরুরি কাজে নিয়োজিত ও পণ্যবাহী গাড়ি চলাচল করবে। এসব গাড়িতে যাত্রী বহনে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।

গত বৃহস্পতিবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে জারি করা আদেশে বলা হয়, সাধারণ ছুটি এবং চলাচলে নিষেধাজ্ঞাকালে এক জেলা থেকে অন্য জেলা বা এক উপজেলা থেকে অন্য উপজেলায় জনসাধারণের চলাচল কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত থাকবে। করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ রোধকল্পে জনগণকে অবশ্যই ঘরে অবস্থান করতে হবে।

করোনা ভাইরাস বিস্তার রোধে গত ২৬ মার্চ থেকে সড়ক-মহাসড়কে গণপরিবহনের ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ। সরকারি ছুটির সঙ্গে সমন্বয় রেখে দফায় দফায় নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ বাড়িয়ে আসছে। সর্বশেষ বৃহস্পতিবার সড়কের গণপরিবহনের ওপর নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ বাড়িয়ে ৩০ মে নির্ধারণ করা হয়েছে।

তবে জরুরি পরিষেবার সঙ্গে যুক্ত গাড়িসমূহ এর আওতায় আসবে না। বিদ্যুত্, পানি, গ্যাস ও অন্যান্য জ্বালানি, ফায়ার সার্ভিস, বন্দরসমূহের কার্যক্রম (স্থলবন্দর, নদীবন্দর ও সমুদ্রবন্দর), পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম, টেলিফোন ও ইন্টারনেট, ডাকসেবা ও সংশ্লিষ্ট কাজ, খাদ্যদ্রব্য, কাঁচাবাজার, সড়ক ও নৌপথে সব ধরনের পণ্য পরিবহনের কাজে নিয়োজিত গাড়ি এর আওতামুক্ত থাকবে। একই সঙ্গে রাষ্ট্রীয় প্রকল্পের মালামাল, ওষুধ, ওষুধশিল্প, চিকিত্সাসেবা ও চিকিত্সাবিষয়ক সামগ্রী পরিবহন, শিশুখাদ্য, ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়া, ত্রাণ, কৃষিপণ্য, শিল্পপণ্য, সার, বীজ, কীটনাশক, পশুখাদ্য, মত্স্য ও প্রাণিসম্পদ খাতের উত্পাদিত পণ্য, দুগ্ধ ও দুগ্ধজাত পণ্য এবং জীবন ধারণের মৌলিক পণ্য উত্পাদন ও পরিবহন এ নিষেধাজ্ঞার আওতামুক্ত থাকবে।