করোনার জিনোম জিকুয়েন্স বের করতে কাজ করছে ঢাবি

আপডেট : ১৬ মে ২০২০, ০০:১৫

করোনা ভাইরাসের বাংলাদেশে সংক্রমিত নতুন জিনোম সিকোয়েন্সিংসহ আক্রান্তদের এক্সোম (মোট জিনের সমন্বয়) সিকোয়েন্সিংয়ের বিস্তৃত গবেষণা শুরু করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জীববিজ্ঞান অনুষদের সংশ্লিষ্ট বিভাগের বিশেষজ্ঞ শিক্ষকরা। প্রাথমিক পর্যায়ে সংগ্রহ করা নমুনা থেকে প্রায় ১০০টি ভাইরাসের জিনোম সিকোয়েন্স উন্মোচনের কাজ শুরু করেছেন তারা। গত বৃহস্পতিবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার ফর অ্যাডভান্সড রিসার্চ ইন সায়েন্স (সিএআরএস) ভবনের কনফারেন্স কক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় করোনা ভাইরাস রেসপন্স টেকনিক্যাল কমিটি ও জীব বিজ্ঞান অনুষদের বিশেষজ্ঞ শিক্ষকরা এসব তথ্য জানান।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে কমিটির আহ্বায়ক শরীফ আখতারুজ্জামান বলেন, এই প্রকল্পের আনুমানিক ব্যয় ধরা হয়েছে ১ কোটি টাকা। প্রাথমিক পর্যায়ে কাজটি শুরু করার জন্য আংশিক ব্যয় নির্বাহের জন্য দেশে-বিদেশে অবস্থানরত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণরসায়ন ও অণুপ্রাণ বিজ্ঞান বিভাগের অ্যালামনাইরা প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তবে প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করতে আরো আর্থিক সংস্থানের প্রয়োজন হবে জানিয়ে তিনি সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বা সংস্থাকে এগিয়ে আসার জন্য আহ্বান জানান।

জিনোম হলো প্রাণী বা উদ্ভিদের জেনেটিক বৈশিষ্ট্যের বিন্যাস বা নকশা। কোনো প্রাণী বা উদ্ভিদের জিনোমে নিউক্লিওটাইডগুলো কীভাবে বিন্যস্ত আছে তার লিপিবদ্ধ করাকে বলে জিনোম সিকোয়েন্সিং। এই নকশার ওপরই নির্ভর করে ঐ প্রাণী বা উদ্ভিদের বৈশিষ্ট্য। যে কোনো জীবের জীনগত বৈশিষ্ট্য নির্ধারণ করে তার ডিএনএ কিংবা আরএনএ। মানুষের ক্ষেত্রে ডিএনএ এর নির্ধারক হলেও করোনা ভাইরাসের মতো জীবাণুর ক্ষেত্রে এর নির্ধারক আরএনএ। আরএনএ সাধারণভাবেই ডিএনএর তুলনায় পরিবর্তনপ্রবণ বলে করোনা ভাইরাস বিভিন্ন স্থানে সংক্রমণের ক্ষেত্রে তার রূপ বদলাচ্ছে।

চাইল্ড হেলথ রিসার্চ ফাউন্ডেশন দেশে করোনা ভাইরাসের জিনোম সিকোয়েন্সিং করার পরও কেন এ প্রকল্প নেওয়া হলো—এমন প্রশ্নে অধ্যাপক আখতারুজ্জামান বলেন, ‘তারা মাত্র একটা ভাইরাসের জিনোম সিকোয়েন্সিং করেছে। কিন্তু অধিক সংখ্যক জিনোম সিকোয়েন্সিং ছাড়া এই ভাইরাসের আচরণগত বৈশিষ্ট জানা সম্ভব নয়। কারণ ভাইরাসটি ৩০০ বেশি মিউটেশনের মাধ্যমে তার জিনগত বৈশিষ্টের পরিবর্তন ঘটিয়েছে। তাই আমরা প্রাথমিকভাবে ১০০টি ভাইরাসের জিনোম সিকোয়েন্স করার কাজ শুরু করেছি। অধিক সংখ্যক ভাইরাসের জিনোম সিকোয়েন্সিংয়ের মাধ্যমে একটি কার্যকর ফলাফল বের করতে চাই আমরা।”

শরীফ আখতারুজ্জামানের নেতৃত্বে জীববিজ্ঞান অনুষদের প্রাণরসায়ন ও অনুপ্রাণ বিজ্ঞান বিভাগের ইউজিসি অধ্যাপক মো. আনোয়ার হোসেন, জেবা ইসলাম সিরাজ, হাসিনা খান, মামুন আহমেদ, মোহাম্মদ নাজমুল আহসান ও এ বি এম খামেদুল ইসলাম, অণুজীব বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক সাবিতা রিজওয়ানা রহমান এবং সিএআরএস-এর পরিচালক এম এ মালেক গবেষণার বিভিন্ন পর্যায়ে জড়িত থাকবে বলে জানানো হয় সংবাদ সম্মেলনে। সংবাদ সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন জীব বিজ্ঞান অনুষদের ডিন মো. ইমদাদুল হক।

সম্প্রতি চাইল্ড হেলথ রিসার্চ ফাউন্ডেশন (সিএইচআরএফ) নামের একটি প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞানীরা বাংলাদেশে সংক্রমিত নতুন করোনা ভাইরাসের (সার্স সিওভি-২) জিনোম সিকোয়েন্স উন্মোচনের দাবি করেন।