যুক্তরাষ্ট্রে মহামারি করোনা ভাইরাসে প্রায় ৮৭ হাজার মানুষের মৃত্যু এবং সাড়ে ১৪ লাখের বেশি সংক্রমিত হলেও লকডাউনের বিরুদ্ধে সশস্ত্র বিক্ষোভ অব্যাহত রয়েছে। দেশটির প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পও লকডাউন বাদ দিয়ে সবকিছু স্বাভাবিক করার পক্ষেই মত দিচ্ছেন। সমালোচকরা বলছেন, দেশটিতে ভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াইটা বিজ্ঞানসম্মত না করে রাজনৈতিকভাবে চালানো হচ্ছে। করোনা এতটা ভয়াবহ হয়ে উঠেছে যে, ইউরোপের প্রভাবশালী জার্মানিও অর্থনৈতিক মন্দার কবলে পড়েছে। আর অর্থনীতির গতি স্বাভাবিক করতে ইতালিতে সামনের মাস থেকে চলাফেরায় পূর্ণ স্বাধীনতা দেওয়া হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রে সশস্ত্র বিক্ষোভ
যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার মিশিগান অঙ্গরাজ্যে সশস্ত্র বিক্ষোভ হয়। এর আগেও সেখানে একই ধরনের বিক্ষোভ হয়েছে। ঐ রাজ্যে ৫০ হাজারের বেশি মানুষ সংক্রমিত এবং প্রায় ৫ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে। তাই ভাইরাসের বিস্তার রোধে রাজ্যের গভর্নর গ্রেচেন হুইটমার ‘স্টে হোম অর্ডার বা বাড়িতে থাকুন’ নিষেধাজ্ঞা ২৮ মে পর্যন্ত বাড়িয়েছেন। এ নিয়ে গভর্নরের বিরুদ্ধে মামলাও করেছেন রিপাবলিকান সমর্থিত আইনপ্রণেতারা।
বৃহস্পতিবারের প্রতিবাদ গত দুবারের চেয়ে আলাদা ছিল। বৃষ্টি এবং বজ্রপাতের কিছুটা প্রভাব পড়েছে। রাজ্যের রাজধানী ল্যান্সিংয়ে ক্যাপিটল ভবনের সামনে অনেকেই রেইনকোট শরীরে জড়িয়ে বিক্ষোভে অংশ নেন। সঙ্গে আনেন নিজেদের লাইসেন্স করা অস্ত্র। তারা গভর্নরকে হুমকি দেন। অনলাইনেও গভর্নরকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছে। সশস্ত্র বিক্ষোভকারীরা দিনটিকে ‘বিচার দিবস’ বলে উল্লেখ করেছেন। তারা ‘স্টে হোম’ নিষেধাজ্ঞা বাতিলের দাবি জানিয়েছেন।
গভর্নর বলেছেন, তিনি সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন বিজ্ঞানসম্মতভাবে। কিন্তু বিক্ষোভের অন্যতম আয়োজক অ্যাডাম দেঙ্গেজেলি গভর্নরকে ‘বিপজ্জনক’ বলে উল্লেখ করেন। প্রতিবাদকারী লিন গভর্নরের উদ্দেশে বলেন, ‘এটি হাস্যকর। আমাদের সঙ্গে ঝামেলা বন্ধ করুন, আমাদের রাজ্যটি খুলুন এবং নাপিতকে তার লাইসেন্স ফিরিয়ে দিন। কত দুঃসাহস আপনার?’ মিশিগানে এর আগের বিক্ষোভে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সমর্থন জানিয়েছিলেন। তিনি ডেমোক্র্যাট দলীয় গভর্নরকে রাজ্যকে স্বাভাবিক করার আহ্বান জানিয়েছিলেন। এদিকে নিউ ইয়র্কে নাগরিকদের ঘরে থাকার আদেশ ১৩ জুন পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। এছাড়া আরো কিছু অঙ্গরাজ্যেও বিক্ষোভের খবর পাওয়া গেছে। আবার নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করেই ঘরের বাইরে যাচ্ছেন মার্কিনিরা।
ভারত ও অন্যান্য দেশের পরিস্থিতি
ভারতে আক্রান্তের সংখ্যা ৮১ হাজার ৯৭০। এক দিনে নতুন করে আক্রান্ত হয় ৩ হাজার ৯৬৭ জন। ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যু হয়েছে ১০০ জনের। ফলে মোট মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৬৪৯ জনে। সুস্থ হয়ে উঠেছে ২৭ হাজার ৯২০ জন। জার্মানির ফেডারেল পরিসংখ্যান অফিস জানিয়েছে, করোনা ভাইরাসের কারণে জারি করা লকডাউনে চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে অর্থনীতি ২ দশমিক ২ শতাংশ সংকুচিত হয়েছে। এই হার ২০০৯ সালের বিশ্ব অর্থনৈতিক মন্দার সময়ের চেয়েও বেশি। অর্থনীতিতে গতি ফেরাতে ইতিমধ্যেই দেশটিতে দোকান ও স্কুল খুলে দেওয়া হয়েছে। শুরু হয়েছে ফুটবল খেলাও। ইতালিতে প্রায় ৩২ হাজার মানুষের প্রাণ গেলেও আগামী ৩ জুন থেকে নাগরিকদের অবাধ চলাফেরার অনুমতি দেওয়া হচ্ছে। -ডেইলি মেইল ও ডেট্রয়েট নিউজ
