যুক্তরাষ্ট্রের পথে রাশিয়া!

আপডেট : ১৭ মে ২০২০, ২১:০১

করোনায় পর্যুদস্ত মস্কো

তৌহিদ আজিজ

 

করোনার ভয়াল থাবা থেকে কোনোভাবেই মুক্তি পাচ্ছে না বিশ্ববাসী। দিনে দিনে দীর্ঘ হচ্ছে এর মৃত্যুর তালিকা। গোটা বিশ্বে আক্রান্তের সংখ্যা ৪৬ লাখ ছাড়িয়ে গেছে। মারা গেছে ৩ লাখ ১১ হাজারেরও বেশি মানুষ। যে চীন করোনাকে জয়ী করে বিশ্বে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিল সেখানেও আবার নতুন করে সংক্রমণ দেখা দিয়েছে। অবশ্য চীনের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে তারা তথ্য গোপন করছে। তবে এ সপ্তাহে যে খবরটি সবচেয়ে বেশি ভীতিকর অবস্থা সৃষ্টি করেছে তা হচ্ছে এখন করোনার ছোবলে যুক্তরাষ্ট্রের পরেই ধরাশায়ী রাশিয়া। এরই মধ্যে এটি রাজধানী মস্কোকে পর্যুদস্ত করে ফেলেছে। আর ছড়িয়ে পড়েছে গোটা দেশে।

জন্স হপকিনস বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্যানুযায়ী রাশিয়া এখন করোনায় বিশ্বের মধ্যে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে। সবচেয়ে বেশি আঘাত হেনেছে মস্কোতে। দেশটিতে মোট আক্রান্তের সংখ্যা ২ লাখ ৭২ হাজার ৪৩ জন। এর মধ্যে প্রায় অর্ধেকই মস্কোর (আক্রান্ত ১ লাখ ৩৮ হাজার ৯৬৯ জন)। রাশিয়ার পক্ষ থেকে এ তথ্য জানিয়ে বলা হয়েছে,এটি এখন গোটা দেশে ছড়িয়ে পড়ছে। এতে আরো বলা হয়েছে, প্রত্যন্ত অঞ্চলের দরিদ্র লোকেরাই বেশি সংক্রমণের ঝুঁকিতে রয়েছে। প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন সম্প্রতি রাশিয়ার ৮৫টি অঞ্চলের প্রধানের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্স করেন। সে সময় তিনি বলেন, এই পরিস্থিতিতে আঞ্চলিক নেতাদের সিদ্ধান্ত নিতে হবে রাশিয়া কি লকডাউন চালিয়ে যাবে, নাকি দেশটির অর্থনীতির পুনরুদ্ধারে এর বিধি-নিষেধগুলো শিথিল করবে। তিনি বলেন, বর্তমান অবস্থায় কেউ তাদের দায়িত্ব এড়িয়ে যেতে পারে না। কেননা বিশ্ব এখন এক কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। তাই রাশিয়াকে এখন ভেবে-চিন্তে পথ চলতে হবে। এরপরই পুতিন ঘোষণা দেন যে, ধীরে ধীরে লকডাউন শিথিল করা হবে। তবে এ ঘটনার বিরুদ্ধে অবস্থান নেন মস্কোর মেয়র সার্গেই সোবিয়ানিন। তিনি বলেন, এই পরিস্থিতিতে কোনোভাবেই লকডাউন শিথিলে যাওয়া উচিত হবে না। তিনি বলেন,তড়িঘড়ি করে সিদ্ধান্ত নিলে এর পরিণাম সবাইকে ভোগ করতে হবে। তার এই মন্তব্যের পরে সাধারণ মানুষের সমর্থনও তার দিকে গিয়ে পড়ে। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা বলছেন, রাজধানী মস্কোতে সব আধুনিক সুবিধা বহাল থাকা সত্ত্বেও কেন সেখানে এত মানুষ আক্রান্ত হলো? এর পেছনে স্বাস্থ্য পরিচর্যা সিস্টেমের সংকটকেই অনেকে দায়ী বলে মনে করছেন।

রাশিয়ার ভেক্টর স্টেট ভাইরোলজি অ্যান্ড বায়োটেকনোলজি সেন্টারের প্রধান রিনাট ম্যাক্সিওটোভ জানিয়েছেন, করোনা ভাইরাসের ভ্যাকসিন তাদের ল্যাবে আবিষ্কার করা হয়েছে। প্রথম পর্যায়ের পরীক্ষার জন্য তিনটি ভ্যাকসিন ২৯ জুন থেকে মানব শরীরে পরীক্ষামূলকভাবে প্রয়োগ করা হবে। এ নিয়ে প্রেসিডেন্ট পুতিনের সঙ্গেও তার কথা হয়েছে। কিন্তু রাশিয়া আগে থেকে সতর্কতার কথা বললেও তারা সেভাবে করোনাকে মোকাবিলা করতে পারছে না। এই অবস্থায় একটি উন্নত দেশের অবস্থা যদি এমন হয় তাহলে খুব সহজেই অনুমান করা যায় অনুন্নত দেশগুলোর অবস্থা কোথায় দাঁড়াবে।