প্রণোদনার ঋণ সুবিধার বাইরে ৯০০ গার্মেন্টস

আপডেট : ১৭ মে ২০২০, ২১:০৩

ঈদের আগে বেতন-ভাতা নিয়ে অসন্তোষের শঙ্কা

রিয়াদ হোসেন

রপ্তানিমুখী শিল্পের জন্য সরকার ৫ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা (নামমাত্র সুদে ঋণ) বাস্তবায়ন শুরু করলেও অনেক কারখানা এই সুবিধা নিতে পারছে না। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, তৈরি পোশাক শিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএর বর্তমানে চলমান কারখানা দুই হাজারের ওপরে। এর মধ্যে ঋণের জন্য আবেদনের জন্য সংগঠনের কাছ থেকে সনদ নিয়েছে ১ হাজার ৩৭৭টি। অন্যদিকে বিকেএমইএর চলমান ৮৩৩টি কারখানার মধ্যে ঋণের আবেদনের জন্য সংগঠনটির কাছ থেকে সনদ নিয়েছে ৫১৯টি কারখানা। অর্থাত্ উভয় সংগঠনের আট শতাধিক কারখানা ঋণের জন্য আবেদন করেনি। এছাড়া আবেদন করা গার্মেন্টসের মধ্যে আরো প্রায় ১০০ কারখানার ঋণ এখনো অনুমোদন হয়নি বলে জানা গেছে। সবমিলিয়ে প্রায় ৯০০ কারখানা প্রণোদনা ঋণ সুবিধার বাইরে রয়েছে।

সরকার রপ্তানিমুখী শিল্পের শ্রমিকদের তিন মাসের বেতন পরিশোধের জন্য মূলত এই প্রণোদনা ঘোষণা দিয়েছে। তবে এই ঋণ পাওয়ার ক্ষেত্রে ব্যাংক-গ্রাহক সম্পর্কের কথাটি বলে দেওয়া হয়েছে। অর্থাত্ যেসব কারখানার অতীত লেনদেন ভালো কিংবা খেলাপি নয়, তারাই এই ঋণ পাবে। সূত্র জানিয়েছে, এই শর্তের মধ্যে পড়েই অনেক কারখানা ঋণের জন্য আবেদনও করতে পারছে না। অন্যদিকে ঋণের জন্য আবেদন না করা আট শতাধিক কারখানার মধ্যে এমন কারখানাও রয়েছে, যাদের আর্থিক অবস্থা অপেক্ষাকৃত ভালো। তারা নিজস্ব তহবিল থেকেই শ্রমিকের বেতন-ভাতা পরিশোধ করবে।

সূত্র জানিয়েছে, যারা ঋণের জন্য আবেদন করেছে, তাদের অনেকেই ঋণ পায়নি। বিকেএমইএর সিনিয়র সহসভাপতি মোহাম্মদ হাতেম ইত্তেফাককে বলেন, ঋণের জন্য আবেদন করা তাদের সদস্যদের মধ্যে ২২ কারখানার ঋণ অনুমোদন হয়নি। বিজিএমইএ এই সংখ্যা আরো বেশি হতে পারে। সব মিলিয়ে ব্যাংকের ঋণ না পাওয়ার তালিকায় থাকছে বহু কারখানা। এদিকে ইতিমধ্যে ২৩ রমজান পার  হয়েছে। শিল্পাঞ্চল পুলিশের হিসাব অনুযায়ী, দুই তৃতীয়াংশ কারখানা এখনো শ্রমিকের বেতন-ভাতা পরিশোধ করেনি। এর মধ্যে গার্মেন্টস এবং অন্যান্য কারখানাও রয়েছে। সময়মতো বেতন-ভাতা না হলে ঈদের আগে শ্রম অসন্তোষের আশঙ্কা করছেন মোহাম্মদ হাতেম। তিনি বলেন, ঈদের আগে অনেক শ্রমিকই বেতন পাবে না বলে আমাদের আশঙ্কা রয়েছে। সেক্ষেত্রে ‘গ্যাঞ্জাম’ লাগতে পারে। অবশ্য বিজিএমইএ সভাপতি ড. রুবানা হক বলেন, গতকাল নাগাদ সংগঠনের প্রায় ১ হাজার ১০০ কারখানা ঈদ বোনাস পরিশোধ করেছে।

শ্রমিক নেতা ও বাংলাদেশ গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক বাবুল আখতার ইত্তেফাককে বলেন, লেনদেনে সমস্যার কারণে ছোটো ও মাঝারি আকারের কারখানার বেশির ভাগই ব্যাংকের ঋণ পাবে না। এসব কারখানার বেতন প্রদানে সমস্যা হবে। আমরা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী মহোদয়কে বিষয়টি জানিয়েছি।

শিল্পাঞ্চল পুলিশ সূত্র জানিয়েছে, গতকালও শিল্পাঞ্চলে অন্তত ১৭টি কারখানায় শ্রম অসন্তোষের ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে গার্মেন্টস কারখানার বাইরে অন্যান্য কারখানাও রয়েছে। গতকাল গাজীপুর এলাকার স্পেস সোয়েটার, নাইট অ্যাঞ্জেল ফ্যাশন, বেইলি শেমা অ্যাপারেল, এটিএস সোয়েটার, হা-মীম গ্রুপ, এস এস সোয়েটার, ইউনিটেক্স অ্যাপারেলস, এলিগেন্স গ্রুপ ছাড়াও আশুলিয়ায় এলাকায় এনআরএল লিমিটেড, স্মার্ট নিটওয়্যার, ফোজিয়া অ্যান্ড ফাহিম ফ্যাশন, প্রুডেন্ট ফ্যাশন ছাড়াও হা-মীম গ্রুপের কারখানা। এছাড়া চট্টগ্রামে আলফা নিট লিমিটেড, আদিলা লিমিটেড ও অ্যাডভেঞ্চার লিমিটেডে অসন্তোষের ঘটনা ঘটেছে।

শিল্পাঞ্চল পুলিশের এসপি মোহাম্মদ আমজাদ হোসেন ইত্তেফাককে বলেন, বেতন ছাড়াও নতুন করে বোনাস ইস্যুতে শ্রমিকরা আন্দোলনে নেমেছেন। সরকার বোনাসের অর্ধেক দেওয়ার সিদ্ধান্ত দিলেও কোনো কোনো কারখানায় শ্রমিক তা মানতে চাইছেন না। তিনি বলেন, প্রতি ঈদের আগেই শ্রম অসন্তোষ হলেও এবার পরিস্থিতি কিছুটা ভিন্ন। এর মধ্যে এখনো সাড়ে ৩০০ কারখানা (গার্মেন্টস এবং অন্যান্য) মার্চের বেতনও পরিশোধ করেনি। সেখানে অসন্তোষ হতে পারে। তবে অসন্তোষ ঠেকাতে আমাদের প্রস্তুতি রয়েছে।