নিলামে মাশরাফির ১৮ বছরের সঙ্গী

আপডেট : ১৭ মে ২০২০, ২১:০৪

স্পোর্টস রিপোর্টার

জাতীয় দলের হয়ে খেলা শুরু করার পরপরের ঘটনা।

এক বন্ধুর মামার কাছ থেকে বানিয়েছিলেন এই ব্রেসলেটটা। তারপর থেকে খুব বিরল কিছু সময় হাত থেকে খুলতে হয়েছে। কিন্তু জীবনের বড়ো সময় ধরে সেটা ছিল মাশরাফি বিন মুর্তজার জীবনের সঙ্গী। অবশেষে সেই ব্রেসলেটটিকে হাতছাড়া করলেন মাশরাফি।

করোনা দুর্গতদের সহায়তা করবেন বলে নিলামে তুলেছেন মাশরাফি ১৮ বছরের এই সঙ্গী ব্রেসলেটটা। গত দুদিন ধরে চলেছে সেটার নিলাম। গতকাল রাতেই শেষ হয়ে যাওয়ার কথা এই নিলামের। মাশরাফি বলছিলেন, মানুষের জন্যই তিনি ত্যাগ করলেন এই সঙ্গীকে।

মাশরাফি ব্রেসলেটটা সম্পর্কে বলছিলেন, ‘গত ১৮ বছরে খুব কম সময়ই এটি খুলেছি হাত থেকে। অপারেশনের সময়, এমআরআই করানোর সময় খুলতে হয়েছে। আর কয়েকটি ম্যাচ বা কিছু সময়ের জন্য খুলেছি শুধু। তবে যখনই খুলেছি, কখনোই স্বস্তি বোধ করিনি। মনে হতো, কী যেন নেই, খালি খালি লাগত। আমার সবসময়ই মনে হয়েছে, এটি আমার সৌভাগ্যের প্রতীক। আমার ক্যারিয়ারের সব উত্থান-পতনের সাক্ষী এই ব্রেসলেট। যত লড়াই করেছি, মাঠের ভেতরে-বাইরে যত কিছুর ভেতর দিয়ে যেতে হয়েছে, সব কিছুর সাক্ষী এটি। আমার ১৮ বছরের সুখ-দুঃখের সাথী। আমার অনেক আবেগ-ভালোবাসা জড়িয়ে এটিতে, এই ব্রেসলেটকে আসলে ব্যাখ্যা করা আমার জন্য খুব কঠিন।’

ব্যাখ্যাতীত ভালোবাসার এই জিনিস তিনি কেন হাতছাড়া করছেন? এমনিতেও তিনি যথেষ্ট সহায়তা করে চলেছেন। বাংলাদেশের সফলতম ওয়ানডে বোলার নড়াইল-২ আসনের সংসদ সদস্যও। করোনা ভাইরাস দুর্যোগের শুরু থেকেই নিজ এলাকায় ব্যাপক আকারে ত্রাণ ও সহায়তা কার্যক্রম পরিচালনার পাশাপাশি উদ্ভাবনী সব পদক্ষেপ নিয়ে দারুণ প্রশংসিত হয়েছেন দেশ জুড়ে। এছাড়াও ক্রিকেটারদের তহবিলে সহায়তা, ক্রিকেট সংশ্লিষ্ট আরো অনেক জায়গায়ও করেছেন সহায়তা। নিজ এলাকা থেকে শুরু করে ক্রিকেট আঙিনা, এই সহায়তা কার্যক্রমের বেশির ভাগই মাশরাফি করেছেন নিজের উদ্যোগে ও নিজস্ব অর্থায়নে।

কিন্তু করোনা ভাইরাস পরিস্থিতি যেদিকে এগোচ্ছে, সেটি ভেবেই নিজের দীর্ঘ সময়ের সঙ্গীকে বিসর্জন দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন মাশরাফি, ‘আমি আমার সাধ্যমত করার চেষ্টা করেছি। এখনো করছি। কিন্তু সেটিরও তো শেষ আছে, আমার তো অঢেল টাকা নেই। যতটুকু বুঝতে পারছি, এই সংকট অনেক দিন থাকবে। আমার তো মনে হয়, আমাদের জীবদ্দশার সবচেয়ে বড়ো ক্রাইসিস চলছে এখন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর মনে হয় গোটা বিশ্ব এত বড়ো সংকটে পড়েনি। আমাদের দেশের বাস্তবতা আরো কঠিন। প্রায় দুই মাস ধরে অনেক কিছু স্থবির হয়ে আছে। নিম্ন আয়ের মানুষ, এমনকি অনেক নিম্ন মধ্যবিত্ত, মধ্যবিত্ত পরিবারও কষ্টে আছে। আমার তাই মনে হয়েছে, আরো অনেক বড়ো পরিসরে সহায়তা করতে হবে সামনে এবং অনেক দিন ধরে করতে হবে। কেউই জানি না, কত দিন পরে আমরা মুক্তি পাব। আর করোনা ভাইরাস চলে গেলেও কিন্তু আর্থিক কার্যক্রম স্বাভাবিক হতে সময় লাগবে অনেক। এজন্য মনে হয়েছে, আমার সবচেয়ে কাছের কিছু নিলামে তুলে যদি তহবিল সংগ্রহ করা যায়, তাহলে আরো বেশি মানুষকে বেশি দিন ধরে সহায়তা করতে পারব।’