লিচু বিক্রি নিয়ে শঙ্কায় দিনাজপুরের চাষিরা

আপডেট : ১৭ মে ২০২০, ২১:৩৪

স্টাফ রিপোর্টার, দিনাজপুর

করোনা ভাইরাসের সংক্রমণের সময় লিচু বিক্রি নিয়ে দুঃশ্চিন্তায় পড়েছেন চাষি ও ব্যবসায়ীরা। চাষিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, লাভ তো দূরের কথা এখন আসল নিয়েই চিন্তা করছেন তারা। এই পরিস্থিতিতে দিনাজপুরের লিচুচাষিরা যাতে ক্ষতির সম্মুখীন না হন, সে ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য দিনাজপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য জাতীয় সংসদের হুইপ ইকবালুর রহিম শনিবার সকাল ১০টায় দিনাজপুর থেকে ভিডিও কনফারেন্সে কথা বলেন কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক এমপির সঙ্গে।

ভিডিও কনফারেন্সের উপস্থিত ছিলেন সাবেক কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী এমপি, বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. আতিউর রহমান, কৃষি সচিব মো. নাসিরুজ্জামান, ধর্ম সচিব মো. নুরুল ইসলামসহ অন্যরা। দিনাজপুরের বিরল উপজেলার মাধববাটী, সদর উপজেলার মাসিমপুরসহ বিভিন্ন লিচু বাগান ঘুরে দেখা গেছে, এবার গাছে ভালো ফল আসায় পোকা দমনে কীটনাশক ও ওষুধ স্প্রে, সেচসহ নানা পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন লিচুচাষি ও বাগান মালিকরা। তবে ফলন ভালো হলেও শঙ্কায় আছেন তারা।

বিরল উপজেলার মাধববাটী গ্রামের আনারুল ইসলাম জানান, রমজান মাসে লিচুর চাহিদা কম থাকে। কিন্তু এবার রমজান শেষে লিচু উঠবে—এমন আশায় গত কয়েক বছরের লোকসান কাটিয়ে লাভের অঙ্ক কষার স্বপ্ন দেখছিলেন।

তিনি জানান, প্রতিবছর এক থেকে দেড়মাস আগেই ঢাকা থেকে লিচুর ব্যাপারীরা চলে আসেন। কিন্তু এবার এখন পর্যন্ত কোনো ব্যাপারীর দেখা নেই। মোবাইলে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও ব্যাপারীরা করোনা পরিস্থিতিতে দিনাজপুর আসার সাহস পাচ্ছেন না বলে জানালেন তিনি। এই অবস্থায় ঢাকার ব্যাপারীরা না আসলে লাভ তো দূরের কথা আসলও উঠবে না। ক্রেতার অভাবে বাগানের লিচু বাগানেই পচে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন তিনি। মাধববাটী গ্রামের লিচুর বাগান মালিক বাবু আহম্মেদ জানালেন, প্রতিবছর ব্যাপারী ও ব্যবসায়ীরা আগেভাগে এসেই বাগান কেনেন। কিন্তু এবার এখন পর্যন্ত কোনো ব্যাপারী বা লিচু ক্রেতার দেখা নেই।

দিনাজপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক তৌহিদুল ইকবাল জানান, জেলায় ছোটো-বড়ো সব মিলিয়ে সাড়ে ৬ হাজার হেক্টর জমিতে লিচুর বাগান রয়েছে এবং প্রতিবছর এই জেলায় লিচু উত্পাদন হয় ৩০ হাজার মেট্রিকটন। জেলার চাহিদা মিটিয়ে বেশিরভাগ লিচুই রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করা হয়ে থাকে।