জাতীয় মহিলা সংস্থার চেয়ারম্যান মমতাজ বেগমের ইন্তেকাল

আপডেট : ১৮ মে ২০২০, ০০:৩১

জাতীয় মহিলা সংস্থার চেয়ারম্যান, সাবেক গণপরিষদ সদস্য ও বাংলাদেশ মহিলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মমতাজ বেগম আর নেই। শনিবার রাত সাড়ে ১২টায় ঢাকার ভূতের গলিতে নিজের বাসায় তিনি ইন্তেকাল করেছেন (ইন্না লিল্লাহি...রাজিউন)। তার বয়স হয়েছিল ৭৪ বছর। কয়েক দিন ধরেই তার জ্বর ও শ্বাসকষ্টের সমস্যা ছিল। তবে করোনা ভাইরাস পরীক্ষায় তার মধ্যে সংক্রমণ পাওয়া যায়নি বলে জাতীয় মহিলা সংস্থার নির্বাহী পরিচালক মাকসূরা নূর জানান।

গতকাল রবিবার জোহরের নামাজের পর ভূতের গলি জামে মসজিদে জানাজা শেষে ঢাকার মিরপুর বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়েছে বলে জানান মাকসূরা। ১৯৭০-এর নির্বাচনে যে সাত জন নারী জাতীয় পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন, মমতাজ বেগম তাদেরই একজন। পরে তিনি গণপরিষদের সদস্য এবং প্রথম জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত আসনের সদস্য হন। এই মুক্তিযোদ্ধা বাংলাদেশ মহিলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বও পালন করেছেন একসময়। তার মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এক শোকবার্তায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জাতীয় মহিলা সংস্থার সাবেক এই প্রতিভাধর চেয়ারম্যান স্বীয় কর্মের মাধ্যমে মানুষের হূদয়ে বেঁচে থাকবেন।’

মমতাজ বেগম ১৯৬৭ সালে যখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এমএ পড়ছেন, বঙ্গবন্ধুর কন্যা শেখ হাসিনা তখন স্নাতকের ছাত্রী। তারা একই সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের রাজনীতিতে যুক্ত ছিলেন। কুমিল্লা মহিলা কলেজ ছাত্র সংসদের সাবেক সহসভাপতি মমতাজ মুক্তিযুদ্ধের সময় আগরতলায় অস্ত্র চালনা ও যুদ্ধ পরিচালনার ওপর প্রশিক্ষণ নেন। পরে নিজেও বিভিন্ন স্থানে অন্যদের প্রশিক্ষণ দেন। সে সময় ‘মহিলা সংঘ’ নামে একটি সেবা সংগঠনের মাধ্যমে শরণার্থী শিবিরে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ এবং উদ্বুদ্ধকরণের কাজেও তিনি যুক্ত ছিলেন। স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালে জাতির পিতার নির্দেশে মুক্তিযুদ্ধে ক্ষতিগ্রস্ত ও নির্যাতিত নারীদের পুনর্বাসনের জন্য ‘নারী পুনর্বাসন বোর্ড’ গঠিত হলে মমতাজ বেগম সেই বোর্ডের পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। বাংলাদেশে নারী আন্দোলন ও নারীর ক্ষমতায়নে ভূমিকার জন্য বেগম রোকেয়া পদকে ভূষিত হয়েছেন মমতাজ।

জাতীয় পার্টি-জেপির শোক

জাতীয় মহিলা সংস্থার সভানেত্রী সাবেক সংসদ সদস্য অধ্যাপক মমতাজ বেগমের ইন্তেকালে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন জাতীয় পার্টি-জেপির চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন মঞ্জু এমপি এবং দলের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক শিক্ষামন্ত্রী শেখ শহীদুল ইসলাম। এক বিবৃতিতে জেপির নেতৃদ্বয় বলেন, মমতাজ বেগম আমাদের গৌরবময় মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলেন এবং তিনি বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের নির্বাহী কমিটির চেয়ারম্যান ছিলেন। তিনি নারীর ক্ষমতায়নের লক্ষ্যে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে গেছেন এবং তিনি একজন আইনজীবীও ছিলেন। জেপির নেতৃদ্বয় মরহুমার রুহের মাগফিরাত কামনা করেন, একই সঙ্গে তার পরিবারবর্গের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জানান।