করোনাকালে কেমন আছেন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা?

আপডেট : ১৮ মে ২০২০, ১৩:৪৪

স্বাস্থ্যই সকল সুখের মূল, এই কথাটি সম্পর্কে আমরা প্রায় সকলেই পরিচিত। অতিরিক্ত কর্মব্যস্ততার বেড়াজালে থেকে আমাদের অনেকেরই স্বাস্থ্যের দিকে তেমন লক্ষ্য রাখার সুযোগ হচ্ছে না। আর আর্থ-সামাজিক অবস্থা যদি করুণ হয়, তখন স্বাস্থ্যের প্রতি যত্ন রাখা বেশ দুরূহ হয়ে ওঠে। দেশে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় বর্তমানে ৪৬টি। এই বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে প্রায় সোয়া আট লাখ শিক্ষার্থীরা অধ্যয়নরত।

সম্প্রতি এক গবেষণায় দেখা গিয়েছে, দুর্বল আর্থ-সামাজিক অবস্থার কারণে দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের একটি বড় অংশ তাদের দৈনিক পুষ্টি চাহিদা পূরণ করতে পারছে না। খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের এগ্রোটেকনোলজি ডিসিপ্লিনের অধ্যাপক ড. মো. মতিউল ইসলাম ও ডিসিপ্লিনের শিক্ষার্থী পাপড়ি আক্তারের করা এ গবেষণায়
বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৯ টি ডিসিপ্লিনের ১৩৮ জন শিক্ষার্থীদের ওপর চালানো এক জরিপে বিষয়টি উঠে আসে।

গবেষণায় যা দেখা গেছে তা যেন গোটা দেশের বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদেরকেই প্রতিনিধিত্ব করছে। শিক্ষার্থীদের পরিবারের আর্থিক অবস্থা বেশিরভাগই নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পর্যায়ের। পরিবার থেকে প্রতি মাসে শিক্ষার্থীরা যা পাচ্ছে, তা তাদের প্রয়োজনের তুলনায় খুবই সীমিত। শিক্ষার্থীদের প্রতি মাসে প্রয়োজনীয় অর্থের পরিমাণ গড়ে ৬,৯০২.৯০ টাকা এবং এ অর্থ তাদের ৫০% পেয়ে থাকে পরিবার থেকে, ৩০.৪০% শিক্ষার্থী পরিবার ও প্রাইভেট টিউশন মিলিয়ে পেয়ে থাকে। শিক্ষার্থীদের ৪৬.৪০% প্রাইভেট টিউশনের মাধ্যমে উপার্জন করে এবং ৪.৩০% শিক্ষার্থী প্রাইভেট টিউশনের অর্থ থেকে তাদের পরিবারকে সাহায্য করে। এখন করোনার কারণে স্থবির হয়ে পড়েছে জনজীবন। ফলে অনেকেরই পরিবারের আয়-রোজগার থমকে গেছে। অনেকে মানবেতর জীবনযাপন করছে। প্রাইভেট টিউশন নির্ভর শিক্ষার্থীরাও এখন টিউশনে যেতে পারছেন না। বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রাপ্ত সামান্য কিছু সহায়তা নিয়ে আর্থিকভাবে অসচ্ছল এসব শিক্ষার্থীরা নিজেদের প্রয়োজনীয় ব্যয় মেটাবার চেষ্টা করছে।

গবেষণার প্রাপ্ত ফলাফল থেকে জানা যায়, করোনা পূর্বকালীন সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের দৈনিক গড় খাদ্য গ্রহণের পরিমাণ ১,৯২৩.৯০ কিলো ক্যালরি যা প্রয়োজনের
তুলনায় খুবই নগণ্য। খাদ্যের জন্য তাদের মাসিক ব্যয় ৩,৯৬০ টাকা। এতে শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য গঠনে মারাত্মক অবনতি হচ্ছে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। করোনা পরিস্থিতিতে
শারীরিক দুর্বলতার পাশাপাশি মানসিক ভাবেও ভেঙে পড়ছেন শিক্ষার্থীরা। দেশের প্রথম সারির মেধাবীরা শারীরিক ও মানসিক জটিলতায় ভুগলে দেশ পিছিয়ে যেতে পারে, কারণ একটি দেশের চূড়ান্ত হাতিয়ার এই মেধাবী শিক্ষার্থীরা।

এই জটিল পরিস্থিতি কাটিয়ে উঠতে সকল বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের পাশাপাশি সরকারের আর্থিকভাবে অসচ্ছল এসব শিক্ষার্থীদের পাশে এগিয়ে আসা জরুরি। পাশাপাশি করোনা পরবর্তী সময়ে এসকল শিক্ষার্থীদের জন্য উপযুক্ত পদক্ষেপ গ্রহণ যেমন টিউশন ফি মওকুফ, শিক্ষা বৃত্তি, শিক্ষার্থীদের হলে ভর্তুকিযুক্ত খাবারের সুবিধা, দরিদ্র শিক্ষার্থীদের আবাসিক হল ভাড়া মওকুফ, শিক্ষা লোন এবং পৃষ্ঠপোষকতা। এসকল পদক্ষেপ গ্রহণ নিখুঁত ও পক্ষপাতহীনভাবে করা সম্ভব হলে মেধাবী শিক্ষার্থীদের সার্বিক অবস্থা উন্নত হবে। ফলশ্রুতিতে দেশের ভবিষ্যতও হবে সমুজ্জ্বল।

লেখক: সালেহা খাতুন রিপ্তা ও নূর-ই-কুতুবুল আলম, শিক্ষার্থী, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়।

ইত্তেফাক/বিএএফ