ঘূর্ণিঝড় আম্ফান

খুলনার উপকূলে বেড়িবাঁধে ভাঙন আতঙ্ক

আপডেট : ১৮ মে ২০২০, ২১:৩৫

ঘূর্ণিঝড় ‘আম্ফান’ ধেয়ে আসার খবরে বেড়িবাঁধ ভাঙনের আতঙ্কে ভুগছে সিডর ও আইলা বিধ্বস্ত খুলনার উপকূলীয় এলাকার মানুষ। প্রাণঘাতী করোনা পরিস্থিতির মধ্যে আম্পানের ধেয়ে আসার খবরে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, খুলনা জেলার সুন্দরবন সংলগ্ন দাকোপ ও কয়রা উপজেলার চতুর্দিক নদীবেষ্টিত। এ দুই উপকূলীয় এলাকার মানুষের কাছে আতঙ্কের নাম ঝুঁকিপূর্ণ বেড়িবাঁধ। বিশেষ করে ঘূর্ণিঝড় আইলার পর ভেঙে যাওয়া বেড়িবাঁধ সংস্কার করা হলেও সেগুলো দীর্ঘমেয়াদি হয়নি। দুর্বল বেড়িবাঁধের কারণে বর্ষা মৌসুমে আবহাওয়া বিরূপ হলে পানির চাপে কোথাও কোথাও ভেঙে পানি লোকালয়ে প্রবেশ করে। গ্রীষ্ম মৌসুমেও মাঝেমধ্যে বাঁধ ভেঙে জোয়ারের পানি ঢুকে অনেক জায়গা রূপ নেয় স্থায়ী জলাবদ্ধতায়। পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্র জানায়, খুলনা জেলায় ৯৯৪ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ রয়েছে। এর মধ্যে বর্তমানে মাত্র ১২ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ ঝুঁকিপূর্ণ রয়েছে। তবে, স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে ঝুঁকিপূর্ণ বাঁধের স্থান আরো বেশি।

কয়রা উন্নয়ন সংগ্রাম সমন্বয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক ইমতিয়াজ উদ্দিন বলেন, দীর্ঘদিন সংস্কারের অভাবে কয়রা উপজেলায় ২৫ কিলোমিটারের মতো বেড়িবাঁধ জীর্ণশীর্ণ হয়ে পড়েছে। কয়রা সদর ইউপি চেয়ারম্যান মো. হুমায়ুন কবির জানান, কয়রা উপজেলার কয়রা সদর ইউনিয়ন, দক্ষিণ বেদকাশি ইউনিয়ন, উত্তর বেদকাশি ইউনিয়ন ও মহারাজপুর ইউনিয়নের কপোতাক্ষ নদ ও শাকবাড়িয়া নদীর প্রায় ৩০ কিলোমিটার এলাকা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। এর মধ্যে কপোতাক্ষ নদের গোলখালী থেকে দশালিয়া পর্যন্ত ১৫ কিলোমিটার ও শাকবাড়িয়া নদীর আংটিহারা থেকে মহারাজপুর ইউনিয়নের পোবনা পর্যন্ত ১৫ কিলোমিটার এলাকা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। বর্তমানে উক্ত চার ইউনিয়নের ২ লক্ষাধিক মানুষ বর্তমানে চরম আতঙ্কের মধ্যে রয়েছে। তিনি বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগ আসলেই এই চার ইউনিয়নের বিপুলসংখ্যক মানুষের ঘুম হারাম হয়ে যায়। সম্ভাব্য ঘূর্ণিঝড় আম্ফানেও একই অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। তিনি বলেন, ঘূর্ণিঝড়কে নয়, উপকূলের মানুষ জলোচ্ছ্বাসকে বেশি ভয় পায়।

দাকোপ উপজেলার তিলডাঙ্গা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান রণজিত্ কুমার মন্ডল জানান, তিলডাঙ্গা ইউনিয়নের ঢাকী নদীর বটবুনিয়া বাজার সংলগ্ন ৪০০ মিটার ও কামিনীবাসিয়া গাইনবাড়ি সংলগ্ন ৭০ মিটার বেড়িবাঁধ অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। তিনি বলেন, ঘূর্ণিঝড় আম্ফানে উক্ত দুটি জায়গা ধসে গেলে ৩১ নম্বর পোল্ডার ভেঙে তিলডাঙ্গা ইউনিয়ন, পানখালি ইউনিয়ন ও চালনা পৌরসভার বিশাল এলাকা লবণ পানিতে প্লাবিত হবে। এতে ফসল হানিসহ ক্ষতিগ্রস্ত হবে লক্ষাধিক মানুষ। খুলনা জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ হেলাল হোসেন বলেন, দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় আম্ফান বাংলাদেশের উপকূলে আঘাত হানতে পারে। এ অবস্থায় ঘূর্ণিঝড়কে কেন্দ্র করে সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলায় জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সাইক্লোন শেল্টার প্রস্তুতসহ ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে।