করোনা ভাইরাসের প্রকোপের এই দুঃসময়ে অসহায় মানুষের সহায়তার জন্য প্রিয় ব্রেসলেটটি নিলামে তুলেছিলেন মাশরাফি বিন মুর্তজার। ৫ লাখ ভিত্তিমূল্যের নিলামে সেটি বিক্রি হয়েছে ৪২ লাখ টাকায়। অ-ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠানসমূহের সংগঠন বাংলাদেশ লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্স কোম্পানিজ অ্যাসোসিয়েশন (বিএলএফসিএ)-এর চেয়ারম্যান এবং আইপিডিসি ফাইন্যান্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও মমিনুল ইসলাম এটি কিনে নেন। বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসের সফলতম অধিনায়ক মাশরাফি তার সুদীর্ঘ ১৮ বছরের ক্যারিয়ারের প্রায় বেশিরভাগ সময় পরেছেন এই ব্রেসলেটটি।
তারকাদের স্মৃতিবিজড়িত বা প্রিয় বস্তু ও ব্যবহারসামগ্রী নিয়ে অনলাইন নিলাম আয়োজনকারী প্রতিষ্ঠান ‘অকশন ফর অ্যাকশন’-এর উদ্যোগে এই নিলাম আয়োজন করা হয়েছে। গত কয়েকদিনে বিভিন্ন অঙ্গনের তারকার ব্যবহারসামগ্রী নিলামে তোলে অলাভজনক প্রতিষ্ঠানটি এবং প্রাপ্ত অর্থ স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠানগুলোকে অনুদান হিসেবে প্রদান করা হয় করোনার ফলে দারিদ্র্যপীড়িত মানুষের সহায়তার জন্য। গত ১৬ মে থেকে নিলামে ছিল মাশরাফি বিন মুর্তজার প্রায় পুরো ক্যারিয়ায়ের সাক্ষী এই ব্রেসলেটটি। শনিবার থেকে শুরু হওয়া নিলামের শেষ পর্ব সরাসরি অনুষ্ঠিত হয় রবিবার রাত সাড়ে ১১টায় নিলাম আয়োজক প্রতিষ্ঠানের ফেসবুক পেইজ থেকে। লাইভে এসে, কমেন্ট প্রদানের মাধ্যমে ও পেইজে ম্যাসেজ পাঠানোর মাধ্যমে আগ্রহীরা মূল্য বলার সুযোগ পান। দেশ-বিদেশ থেকে অসংখ্য মানুষ নিলামে অংশ নেন। প্রায় এক ঘণ্টার নিলাম শেষে ব্রেসলেটটি জিতে নেয় বিএলএফসিএ।
সংগঠনটির চেয়ারম্যান এবং আইপিডিসি ফাইন্যান্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও মমিনুল ইসলাম লাইভে এসে এটি নিশ্চিত করেন। ব্রেসলেটটির সর্বনিম্ন মূল্য ধার্য করা হয় ৫ লাখ টাকা। বিএলএফসিএ ব্রেসলেটটি জিতে নেয় ৪০ লাখ টাকা ঘোষণা করে এবং এর সঙ্গে আইপিডিসি ফাইন্যান্স আরো ২ লাখ টাকা দেওয়ায় তা বিক্রয় হয় ৪২ লাখ টাকায়। এ সময় মমিনুল ইসলাম ব্রেসলেটটি আবার মাশরাফির কাছেই উপহার হিসেবে ফিরিয়ে দেওয়ারও ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, ব্রেসলেটটি মাশরাফির দীর্ঘদিনের সঙ্গী। দেশের প্রতি তার অবদানের প্রতি সম্মান দেখিয়ে আমরা এটি আবার তার কাছেই ফিরিয়ে দিতে চাই। করোনা পরিস্থিতি থেকে দেশ বেরিয়ে আসলে আমরা একটা বড়ো আয়োজনের মধ্য দিয়ে এটি তার কাছে উপহার হিসেবে ফিরিয়ে দিতে চাই। ‘অমূল্য’ এই স্মারক তারা চড়ামূল্যে কিনেছেন মাশরাফির প্রতি সম্মান জানাতেই। করোনা দুর্যোগের কারণে দারিদ্র্যে আক্রান্ত জনগোষ্ঠীর সাহায্যার্থে এই অর্থ প্রদান করা হবে নড়াইল এক্সপ্রেস ফাউন্ডেশনকে।
নিলাম আয়োজনের ফেসবুক লাইভে মমিনুল ইসলাম বলেন, এটি দেশের প্রতি মাশরাফির অবদানের সামান্য প্রতিদান। তিনি মাশরাফিকে উদ্দেশ্য করে বলেন, আপনি এই দেশকে যে সম্মান এনে দিয়েছেন, সেই সম্মানের প্রতিদান আসলে কোনোভাবেই হয় না। কিন্তু এটুকু করে আমরা চেষ্টা করেছি, আপনাকে কিছুটা হলেও সম্মান জানাতে। নিলামের খবর জানতে পেরেই আমি এই সংগঠনের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সিইওদের সঙ্গে কথা বলেছি। সবাই একবাক্যে বলেছেন, যদি ভালো কাজে এই অর্থ ব্যয় হয় এবং আর্থিক খাত থেকে যদি বাংলাদেশের অধিনায়ককে সম্মান জানানো যায়, এর চেয়ে ভালো কিছু হয় না। তিনি বলেন, মাশরাফির এই স্মারকটি আসলে অমূল্য, কোনো মূল্য হয় না। তার পরও আমরা খুশি যে এই টাকায় ব্রেসলেটটি নিতে পেরেছি। মমিনুল ইসলাম যখন এই কথা বলছেন, মাশরাফি তখন হাত থেকে ব্রেসলেট খুলে তুলে ধরে হাসিমুখে বলছিলেন, এই যে, খুলে ফেলেছি। এটা আপনাদের, এখন আমার হাত খালি। মমিনুল ইসলাম তখন উপহার দেন আরেকটি বড়ো চমক। এই ব্রেসলেট ১৮ বছর ধরে আপনার সঙ্গে আছে, এটি আপনার হাতেই মানায়। আমরা এই ব্রেসলেট আপনাকেই উপহার দিতে চাই। লাইভ ভিডিওতে দর্শকদের জন্য চমক হিসেবে হাজির হন আরেক ক্রিকেটার তামিম ইকবাল।
অনলাইনে নিলাম অনুষ্ঠানে ব্রেসলেট হাতে মাশরাফি
