দুদক কর্মকর্তা-কর্মচারী পরিচয়ে প্রতারণার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে: দুদক চেয়ারম্যান

আপডেট : ১৯ মে ২০২০, ১৯:৩০

দেশের বিভিন্ন স্থানে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) কর্মকর্তা-কর্মচারী পরিচয়ে যে কোন ধরনের প্রতারণা ও অবৈধ অর্থ আদায়ের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন কমিশনের চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ। দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রণব কুমার ভট্টাচার্য্য বিষয়টি জানিয়েছেন।

প্রণব জানান, কমিশনের কর্মকর্তা কর্মচারী এমনকি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নাম কিংবা তাদের আত্মীয়-স্বজন পরিচয় দিয়ে এক বা কিছু প্রতারক চক্র সক্রিয় রয়েছে। তারা সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী, জনপ্রতিনিধিসহ বিভিন্ন বেসরকারি ব্যক্তিদেরকে মোবাইল বা টেলিফোনের মাধ্যমে ফোন করে ভয়-ভীতি প্রদর্শন করে অনৈতিক অর্থ দাবি করছে। মঙ্গলবার (১৯ মে) কমিশনের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাগণ দুদক চেয়ারম্যানকে এ জাতীয় প্রতারণার বিষয়গুলো অবহিত করেন।

দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের দুদক চেয়ারম্যানকে বলেন, করোনার এই মহা দুর্যোগকালেও একাধিক প্রতারকচক্র সক্রিয় রয়েছে। তারা দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে একাধিক সরকারি কর্মকর্তা ও জনপ্রতিনিধি তাদেরকে হয়রানী করছে বলে আমাদের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের  জানিয়েছেন। এসব প্রতারক-চক্র সরকারি কর্মকর্তা ও জনপ্রতিনিধিদেরকে দুদক কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে টেলিফোন করেছেন এবং বলেছেন তাদের বিরুদ্ধে দুদকে অভিযোগ রয়েছে। এসব অভিযোগ থেকে অব্যাহতি পেতে হলে তাদেরকে বিকাশ বা মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে অর্থ দিতে হবে।

আরও পড়ুনঃ রাজধানীতে অজ্ঞান ও মলমপার্টির ৫ সদস্য গ্রেফতার

এ বিষয়গুলো অবহিত হয়ে দুদক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ বলেন, দুদক কর্মকর্তা-কর্মচারী কিংবা কমিশনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ কিংবা তাদের আত্মীয়-স্বজন পরিচয় দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে প্রতারক-চক্র সাধারণ মানুষের সাথে প্রতারণা করছে। কমিশন থেকে বার বার আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। কখনও কমিশনের নিজস্ব গোয়েন্দাদের মাধ্যমে প্রতারকদের গ্রেফতার করা হয়েছে, আবার কোন কোন ক্ষেত্রে পুলিশ বা র‌্যাবের সহায়তায় প্রতারকদের গ্রেফতার করে মামলা দায়ের করা হয়েছে। বেশকিছু মামলা বিচার ও তদন্তাধীন রয়েছে।

ইকবাল মাহমুদ বলেন, দুদকের বিবেচনাধীন বা অনুসন্ধানাধীন বা তদন্তাধীন কোনো অভিযোগ থেকে কমিশনের কোনো কর্মকর্তার একক অভিপ্রায় অনুসারে অব্যাহতি দেওয়া কিংবা অভিযুক্ত করার কোনো সুযোগ নেই। এ জাতীয় প্রতারকদের টেলিফোনে কেউ বিভ্রান্ত হবেন না। এদের সাথে  কোনরূপ অনৈতিক আর্থিক লেনদেনে কেউ জড়াবেন না।

ইত্তেফাক/ এমএএম