তামিমের সঙ্গে আলাপচারিতা
স্পোর্টস রিপোর্টার
তর্কসাপেক্ষে আধুনিক ক্রিকেটের শ্রেষ্ঠতম ব্যাটসম্যান বিরাট কোহলি।
সোমবার রাতে তিনি ছিলেন তামিম ইকবালের অতিথি। এই বিশ্বসেরা ব্যাটসম্যানের সঙ্গে তামিম অন্যদের মতো আড্ডা কমই দিয়েছেন। একেবারে খাঁটি ক্রিকেট নিয়ে আলাপ হয়েছে দুজনের। সেখানে কোহলি মূলত ব্যাটসম্যানের করণীয় অনেক জরুরি কথা বলেছেন। এর মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য কথা ছিল, ব্যাটসম্যানদের নিজের ওপর বিশ্বাস রাখতে বলেছেন এই ভারতীয় অধিনায়ক।
নিজের ওপর বিশ্বাস রাখার ব্যাপারে বিশ্বের অন্যতম সেরা এই ব্যাটসম্যান বলছিলেন, ‘আমি মনে করি, নিজের যোগ্যতার ওপর বিশ্বাস রাখাটা খুব গুরুত্বপূর্ণ। আপনি যেকোনো পরিস্থিতিকে ভিন্ন চোখে দেখতে পারেন। যদি অন্যরা সেটা না দেখতে পারে এবং আপনি পারেন, তাহলে আপনার পারফরম্যান্স ভালো হবে, আপনি ম্যাচ জেতাতে পারবেন। এই ব্যাপারটা আমি নিয়মিত অনুশীলন করে আসছি। এটাই ছিল আমার সাধারণ প্রক্রিয়া যে, আমি যাব এবং যা কিছুই হোক না কেন দলের জন্য খেলব। দলকে জেতানোর চেষ্টা করব।’
কোহলি বলছিলেন, তিনি ম্যাচের প্রস্তুতির জন্য নির্দিষ্ট কোনো প্যাটার্ন অনুসরণ করেন না। এ ব্যাপারে তিনি বলছিলেন, ‘প্রস্তুতির জন্য আমার কোনো নির্দিষ্ট প্যাটার্ন নেই। নির্দিষ্ট প্যাটার্ন আমি ফলো করি ফিটনেস এবং ডায়েটের বেলায়। কারণ, আমি মনে করি, ট্রেনিং এবং ডায়েট ধারাবাহিক হওয়া উচিত। কারণ আপনার শরীর যদি সেরা অবস্থানে থাকে এবং মানসিকভাবে আপনি ভালো অনুভব করেন তাহলে প্রতিবারই আপনি নিজের সেরাটা দিতে পারবেন। কিন্তু ব্যাটিংয়ের ক্ষেত্রে আমি মনে করি, যখন বল ঠিকমত ব্যাটে আসছে না এবং আপনি আত্মবিশ্বাসহীনতায় ভুগবেন, তখন নিজের থেকেই মনে হবে আমার আরো বেশি অনুশীলন করা উচিত যতক্ষণ পর্যন্ত সেই সেশনটা না আসবে যখন মনে হবে আজকে ব্যাটিং ঠিকমতো হয়েছে।’
বিশেষ করে কোহলি রান তাড়া করার ব্যাপার বলতে গিয়ে বলেছেন, ‘রান তাড়া করার সময় মানসিক অবস্থা স্বাভাবিকই থাকে। মাঝে মাঝে মুশফিকের মতো অনেকেই পেছন থেকে অনেক কিছু বলে যাতে আমি আরো অনুপ্রাণিত হয়ে যাই। যখন আমি ছোটো ছিলাম তখন আমি নিজেকে যা বলতাম সেটা এখন তরুণদেরও বলি যে, তোমাকে বিশ্বাসটা রাখতে হবে যে, তুমি পারবে। আমার কাছে মনে হয়, রান তাড়া করা এমন একটি ব্যাপার যেখানে আপনি জানেন আপনার কত রান দরকার এবং কি কি করতে হবে।’
বড়ো রান তাড়া করতে গেলে কী করতে হবে, সেটাও বুঝিয়ে বলেছেন ভারতীয় অধিনায়ক, ‘৩৭০ কিংবা ৩৮০ রান তাড়া করতে গেলেও কখনো আমার মনে হয় না যে, এটা সম্ভব নয়। ২০১২ সালে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে হোবার্টে একটি ম্যাচের কথা মনে আছে। সেখানে ৪০ ওভারে আমাদের প্রায় ৩৩০ রানের মতো তাড়া করা লাগত কোয়ালিফাই করার জন্য। বিরতির সময় আমি রায়নাকে বলেছিলাম এই ম্যাচটি আমাদের দুটি ২০ ওভারের ম্যাচে ভাগ করে খেলতে হবে। ৪০ ওভারে কত রান লাগবে সেটা ভুলে আমরা প্রথম ২০ ওভারে দেখব যে, কত রান হয়। তারপর শেষ ২০ ওভারে আমরা আরেকটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলব।’
