চুক্তির আওতায় বাড়ছে নৌপথ

আপডেট : ১৯ মে ২০২০, ২৩:০১

বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বিদ্যমান নৌ-প্রটোকল চুক্তির আওতায় নৌরুট ও বন্দর দুই বাড়ছে। দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান চার রুটের পরিধি বাড়িয়ে যুক্ত করা হচ্ছে নতুন নৌপথ। কুমিল্লার দাউদকান্দি থেকে ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের সোনামুরা পর্যন্ত অন্তর্ভুক্ত হচ্ছে এ চুক্তির আওতায়। আজ সকাল ১১টায় নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে বাংলাদেশ-ভারত নৌ-প্রটোকলের  আওতায় নতুন রুট/স্থান সংযোজন বিষয়ক চুক্তিপত্র স্বাক্ষরিত হবে। বাংলাদেশের পক্ষে নৌপরিবহন সচিব ও ভারতের পক্ষে ঢাকায় নিযুক্ত দেশটির হাইকমিশনার স্বাক্ষর করবেন।

নৌ-প্রটোকল চুক্তির অ্যাডেনডাম গত মার্চের শুরুতে মন্ত্রিসভা অনুমোদন দেয়। এরপর খসড়া অ্যাডেনডাম পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে ২৫ মার্চ ভারতীয় হাইকমিশনে পাঠানো হয়। ৬ মে ভারতীয় হাইকমিশন এক চিঠিতে সুবিধাজনক সময়ে এটি স্বাক্ষরের দিন নির্ধারণের কথা জানায়। দুই দেশের সম্মতিতে তা ২০ মে নির্ধারণ করা হয়।

প্রটোকল অন ইনল্যান্ড ওয়াটার ট্রানজিট অ্যান্ড ট্রেডের (পিআইডব্লিউটিঅ্যান্ডটি) আওতায় দুই দেশের মধ্যে বর্তমানে চারটি (আসা-যাওয়া) রুট রয়েছে। প্রথম রুটটি হচ্ছে কলকাতা-চাঁদপুর-পান্ডু-শিলঘাট-কলকাতা। এ রুটে ভারতের কোলাঘাট, বাংলাদেশের পানগাঁও ও ভারতের জোগিগোপা নৌপথ নতুন অন্তর্ভুক্ত হচ্ছে। দ্বিতীয় রুটটি হচ্ছে কলকাতা-চাঁদপুর-করিমগঞ্জ-কলকাতা। এর সঙ্গে ভারতের কোলাঘাট, বাংলাদেশের কেরানীগঞ্জের পানগাঁও অভ্যন্তরীণ কনটেইনার টার্মিনাল ও নরসিংদীর ঘোড়াশাল নৌপথ যুক্ত হচ্ছে। এ ছাড়া রুটটি সম্প্রসারিত হয়ে ভারতের বদরপুর পর্যন্ত যাবে। এ দুটি রুটে পানগাঁও কনটেইনার টার্মিনাল যুক্ত হওয়ায় ভারত থেকে কনটেইনারবাহী পণ্য আসার পথ উন্মুক্ত হলো। যদিও কোস্টাল শিপিং চুক্তির আওতায় দুই দেশের মধ্যে কনটেইনারবাহী জাহাজ চলাচল করছে। নৌ-প্রটোকল চুক্তির আওতায় এ রুটটি আসলে কনটেইনার পরিবহনে আরো সুবিধা হবে।              তৃতীয় রুটটি হচ্ছে রাজশাহী-ধুলিয়ান-রাজশাহী। এ রুটে বাংলাদেশ ও ভারত দুই দেশেই সম্প্রসারণ হতে যাচ্ছে। রাজশাহী থেকে রুটটি মানিকগঞ্জের আরিচা পর্যন্ত সম্প্রসারণ করা হচ্ছে। ভারতের অংশে যুক্ত হচ্ছে ময়া। সংশ্লিষ্টরা জানান, বর্তমানে ভারত থেকে পাকুর নামের পাথর সোনামসজিদ স্থলবন্দর হয়ে আমদানি করা হয়। এ রুটটি সম্প্রসারণ হলে ভারত থেকে নৌপথে মানিকগঞ্জের আরিচা পর্যন্ত পাথর আসার পথ তৈরি হবে। এতে পরিবহন খরচ ও ঝামেলা কমে আসবে।

চতুর্থ রুটটি হচ্ছে ভারতের শিলঘাট-পান্ডু-বাংলাদেশের আশুগঞ্জ-করিমগঞ্জ হয়ে আবার ভারতের পান্ডু-শিলঘাট। এ রুটটিও ভারতের অংশে সম্প্রসারিত হয়ে আসামের বদরপুর পর্যন্ত যাবে। এ ছাড়া বাংলাদেশের ঘোড়াশাল ও ভারতের যোগীঘোপা এ রুটের অন্তর্ভুক্ত হচ্ছে।

আর পঞ্চম রুট হিসেবে (নতুন রুট) কুমিল্লার দাউদকান্দি ও ভারতের সোনামুরা যুক্ত হতে যাচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা জানান, গত ফেব্রুয়ারিতে ভারতের একটি প্রতিনিধি দল এ এলাকা পরিদর্শন করে। ভারতের অংশে একটি স্থলবন্দরও রয়েছে। তবে এ রুটটির ভারত ও বাংলাদেশ উভয় অংশে নাব্যতা সংকট রয়েছে। দুই দেশেই ড্রেজিংয়ের প্রয়োজন হবে। বর্তমানে সেখানে কম গভীরতার নৌযান চলাচল করে।

এদিকে, নতুন করে পোর্ট অব কল যুক্ত হচ্ছে। নিয়ম অনুযায়ী, পোর্ট অব কলভুক্ত বন্দরগুলোয় জাহাজ নোঙর ও পণ্য ওঠানামা করতে পারে। নতুন অ্যাডেনডামে যুক্ত হওয়া বন্দরগুলো হচ্ছে নারায়ণগঞ্জের বর্ধিত অংশ হিসেবে ঘোড়াশাল এবং পানগাঁওয়ের বর্ধিত অংশ হিসেবে মোক্তারপুর। মোক্তারপুরে বেসরকারি সামিট অ্যালায়েন্সের কনটেইনার টার্মিনাল রয়েছে। এ ছাড়া আশুগঞ্জ, রাজশাহী, সুলতানগঞ্জ, দাউদকান্দি ও বাহাদুরাবাদ পোর্ট অব কলভুক্ত হচ্ছে। অপরদিকে ভারতের শিলঘাট, ধুলিয়ান, ময়া, কোলাঘাট ও সোনামুরা পোর্ট অব কলভুক্ত হচ্ছে। অ্যাডেনডামে আশুগঞ্জ-জকিগঞ্জ/করিমগঞ্জ এবং সিরাজগঞ্জ-দৈখাওয়া নৌরুটে দুই দেশ অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে ড্রেজিং করার চুক্তিতে যুক্ত হতে যাচ্ছে। সাত বছর রক্ষণাবেক্ষণসহ এ দুটি রুটে ড্রেজিংয়ে খরচের ৮০ শতাংশ ভারত ও ২০ শতাংশ অর্থ বাংলাদেশ দেবে।