শ্যামনগরে পাউবো বাঁধে ভাঙন

আপডেট : ২০ মে ২০২০, ২১:৪৭

স্বেচ্ছাশ্রমে চলছে মেরামতের চেষ্টা

শেখ আব্দুল হাকিম, শ্যামনগর (সাতক্ষীরা) সংবাদদাতা

বাংলাদেশের সর্ব দক্ষিণে সাতক্ষীরার শ্যামনগরে প্রলয়ংকরী ঘূর্ণিঝড় আমফানের প্রভাবে দুপুর ১টায় উপজেলার ১২টি ইউনিয়নে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) বেড়িবাঁধে ভয়াবহ ভাঙন শুরু হয়েছে। নদীতে উত্তাল জোয়ারে প্রবল ঢেউয়ের আঘাতে ভাঙন ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে। সংশ্লিষ্ট এলাকাবাসী স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে বাঁধ মেরামতের কাজ শুরু করেছেন।

সরেজমিনে ইউনিয়নের বিভিন্ন জায়গায় পাউবো বাঁধে গিয়ে দেখা যায়, ভাঙন ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। গাবুরা ইউনিয়নের নাপিতখালী, গাগড়ামারী, জেলিয়াখালী, নেবুবুনিয়া, গাবুরা বাজার, খোলপেটুয়া ও ৯ নম্বর সোরা এলাকায় অধিকাংশ পাউবো বাঁধ খোলপেটুয়া ও কপোতাক্ষ নদে ধসে গেছে। জোয়ারের পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় মানুষের মনে ভীতির সৃষ্টি হয়েছে। গাবুরা ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান জি এম মাসুদুল আলম জানান, এলাকার জনগণকে সঙ্গে নিয়ে ভাঙনকবলিত স্থানে বালির বস্তা দিয়ে কাজ শুরু হয়েছে। কাশিমাড়ী ইউপি চেয়ারম্যান এস এম আব্দুর রউফ জানান, ইউনিয়নের ঝাপালি নামক স্থানে পাউবো বাঁধে হঠাত্ ভাঙন শুরু হয়েছে। পাউবো কর্তৃপক্ষের ব্যবস্থাপনায় জিও ব্যাগ দিয়ে ভাঙন রোধ করার চেষ্টা অব্যাহত আছে। বুড়িগোয়ালিনী ইউপি চেয়ারম্যান ভবতোষ কুমার মণ্ডল বলেন, ইউনিয়নের দুর্গাবাটী ও দাতিনাখালীতে বিভিন্ন স্থানে পাউবো বাঁধ চুনকুড়ি নদীতে ধসে পড়েছে। যে কোনো সময় প্রবল জোয়ারে ক্ষতিগ্রস্ত স্থান দিয়ে পানি প্রবেশ করে সমগ্র ইউনিয়ন তলিয়ে মত্স্য ঘেরসহ জানমালের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির সম্ভাবনা রয়েছে।

পদ্মপুকুর ইউপি চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আতাউর রহমান বলেন, ইউনিয়নের কামালকাটি, পূর্বপাতাখালী, চাউলখোলা ও চণ্ডিপুরে পাউবো বাঁধে ভয়াবহ ভাঙন দেখা দিয়েছে। এরই মধ্যে পাউবো বাঁধের ব্লক নদীতে ধসে গেছে। ঝোড়ো হাওয়ায় নদীতে ঢেউয়ের তোড়ে পাউবো বাঁধ ধসে ইউনিয়ন তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা আছে। কৈখালী ইউপি চেয়ারম্যান শেখ আব্দুর রহিম জানান, ইউনিয়নের নৈকাটির হুলো, পূর্ব কৈখালী ও পশ্চিম কৈখালীতে পাউবো বাঁধ কালিন্দি নদীতে ধসে গেছে। স্থানীয়দের সঙ্গে নিয়ে স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে ভাঙন রোধে কাজ শুরু হয়েছে। মুন্সীগঞ্জ ইউপি চেয়ারম্যান আবুল কাশেম মোড়ল জানান, ইউনিয়নের অধিকাংশ পাউবো বাঁধ প্রবল বৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। শ্যামনগর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আ ন ম আবুজর গিফারী ক্ষতিগ্রস্ত পাউবো পরিদর্শন শেষে বলেন, পাউবো কর্তৃপক্ষকে দ্রুত ভাঙন মেরামতের জন্য বলা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট এলাকার জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে ভাঙন মেরামতের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সার্বিক বিষয়ে শ্যামনগর উপজেলা উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী (এসডিই) রাশিদুল ইসলাম বলেন, উপজেলাব্যাপী ২২০ দশমিক ৫০ কিলোমিটার পাউবো বাঁধের মধ্যে ৩০ কিলোমিটার অধিক ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধ জিও ব্যাগ ও সিনথেটিক ব্যাগ দিয়ে কাজ শুরু হয়েছে।