?প্রবল বেগে বুধবার বিকালে ঘূর্ণিঝড় ‘?আমফান’? আছড়ে পড়ল পশ্চিমবঙ্গের সুন্দরবন অঞ্চলে। লন্ডভন্ড করে দিল উপকূলের বিস্তীর্ণ অঞ্চল। তারপর কলকাতার প্রায় গা ঘেঁষে এগিয়ে যায় বাংলাদেশের দিকে। বুধবার দুপুরে ঘণ্টায় ১৮৫ কিলোমিটার বেগে ভাগিরথী নদীর মোহনার কাছাকাছি অঞ্চলে সাগরদ্বীপ ও সংলগ্ন কাকদ্বীপ অঞ্চলে ঢুকতে শুরু করে এই সুপার সাইক্লোনের চোখ। আছড়ে পড়ে দোতলা উচ্চতার ঢেউ। তাতে প্লাবিত হয়ে পড়ে বিভিন্ন এলাকা। দীঘায় ঢেউয়ের ঝাপটায় রাস্তার ওপর আছড়ে পড়ে একের পর এক বোল্ডার। এ খবর লেখা পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গে তিন নিহত হবার সংবাদ পাওয়া গেছে।
সময়ের সঙ্গে সঙ্গে কলকাতায় ঝড়ের প্রকোপ বাড়তে থাকে। উপকূল সংলগ্ন দক্ষিণ ২৪ পরগনার বিস্তীর্ণ অঞ্চল প্লাবিত করে দেয়। দক্ষিণ ২৪ পরগনার নামখানায় নারায়ণপুর জেটি ভেঙে পড়ে। বুড়িগঙ্গার ওপর কচুবেড়িয়ায় জেটিও ভেঙে পড়ে। পাথরপ্রতিমায় বেশ কিছু বাঁধ ভেঙে পানিতে তলিয়ে যায়। কলকাতায় প্রচুর গাছ উপড়ে পড়ে। কলকাতার দমদম বিমানবন্দরে সন্ধ্যা ৭টায় ১৩০ কিলোমিটার বেগে ঝড় বইতে থাকে। আবহাওয়া অফিস জানায়, কলকাতায় ঝড়ের সর্বোচ্চ গতি ছিল ১১৪ কিলোমিটার। পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকারের তরফে উপকূল সংলগ্ন এবং কলকাতার বহু অঞ্চলে বিদ্যুত্ সংযোগ বন্ধ করে দেওয়া হয়। ব্যাঘাত ঘটে মোবাইল ও ইন্টারনেট সংযোগেও। বিকাল সাড়ে পাঁচটা নাগাদ ঘূর্ণিঝড়ের চোখ অর্ধেকটা স্থলভাগে ঢুকে পড়ে।
আলিপুর আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, উপকূলে আছড়ে পড়ার সময় ঝড়ের গতি বেড়ে হয়ে যায় ১৮৫ কিলোমিটার। পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রায় ৪২ লাখ মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরানো হয়েছে। দিঘায় সকাল থেকেই সমুদ্র উত্তাল ছিল। সেখানে ঝড়ের সঙ্গে প্রবল জলোচ্ছ্বাস শুরু হয়। গাছপালা ভেঙে পড়ার পাশাপাশি অসংখ্য কাঁচাবাড়িঘর ধসে গেছে। দিঘার পাশাপাশি পূর্বমেদিনীপুরের তাজপুর, মন্দারমণি, রামনগর, খেজুরিতেও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়।
