শনাক্ত রোগী বেড়ে ২৬৭৩৮, মৃত্যু ৩৮৬

আপডেট : ২০ মে ২০২০, ২৩:০২

এক দিনে রেকর্ড ১ হাজার ৬১৭ জনের মধ্যে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ ধরা পড়ায় দেশে শনাক্ত রোগীর সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ২৬ হাজার ৭৩৮ জন। গতকাল বুধবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় মারা গেছেন আরো ১৬ জন। এ নিয়ে দেশে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়াল ৩৮৬ জন। সারা দেশে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়েছেন ২১৪ জন। সব মিলয়ে এ পর্যন্ত মোট ৫ হাজার ২০৭ জন সুস্থ হয়ে উঠলেন।

নিয়মিত বুলেটিনে যুক্ত হয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা বুধবার দেশে করোনা ভাইরাস পরিস্থিতির এই সর্বশেষ তথ্য তুলে ধরেন।               তিনি বলেন, গত এক দিনে যারা মারা গেছেন, তাদের মধ্যে পুরুষ ১৩ জন, নারী ৩ জন। তাদের মধ্যে ১ জনের বয়স ছিল ৮০ বছরের বেশি। এছাড়া ২ জনের বয়স ছিল ৭১ থেকে ৮০ বছরের মধ্যে, ৪ জনের বয়স ছিল ৬১ থেকে ৭০ বছরের মধ্যে, ৫ জনের বয়স ৫১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে, ১ জনের বয়স ৪১ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে, ১ জনের বয়স ৩১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে, ১ জনের বয়স ২১ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে এবং ১ জনের বয়স ছিল ১০ বছরের কম।

বুলেটিনে জানানো হয়, গত এক দিনে দেশের ৪৩টি ল্যাবে নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। নতুন যুক্ত হয়েছে ইউনাইটেড হাসপাতাল।  গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা ভাইরাস শনাক্তে আরো ১১ হাজার ১৩৮টি নমুনা সংগ্রহ করা হয়। পরীক্ষা করা হয় ১০ হাজার ২০৭টি নমুনা। এ নিয়ে দেশে মোট নমুনা পরীক্ষা করা হলো ২ লাখ ৩ হাজার ৮৫২টি।

গত মঙ্গলবারের বুলেটিনে জানানো হয়, করোনায় আক্রান্ত হয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় ২১ জন মারা গেছেন। ৮ হাজার ৪৪৯টি নমুনা পরীক্ষায় করোনা শনাক্ত হয়েছে ১ হাজার ২৫১ জনের দেহে। সেই হিসাবে আগের ২৪ ঘণ্টার তুলনায় গত ২৪ ঘণ্টায় মৃতের সংখ্যা কমলেও যেমন বেড়েছে নমুনা পরীক্ষা, তেমনি হয়েছে সর্বোচ্চ শনাক্তের রেকর্ডও। এর আগে এক দিনে সর্বোচ্চ শনাক্ত হয়েছিল এক হাজার ৬০২ জনের। এ তথ্য জানানো হয় গত ১৮ মের বুলেটিনে।

বুধবারের বুলেটিনে ডা. নাসিমা সুলতানা আরো জানান, করোনা আক্রান্ত রোগী শনাক্ত বিবেচনায় দেশে সুস্থতার হার ১৯ দশমিক ৪৭ শতাংশ এবং মৃত্যুহার ১ দশমিক ৪৭ শতাংশ। বুলেটিনে জানানো হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় আইসোলেশনে নেওয়া হয়েছে আরো ৩০০ জনকে এবং বর্তমানে আইসোলেশনে রয়েছেন ৩ হাজার ৮১৬ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় আইসোলেশন থেকে ছাড় পেয়েছেন ১০০ জন এবং এ পর্যন্ত ছাড় পেয়েছেন এক হাজার ৮৯৩ জন। সারাদেশে আইসোলেশন শয্যা আছে ১৩ হাজার ২৮৪টি। মোট আইসোলেশন শয্যার মধ্যে রাজধানী ঢাকায় ৭ হাজার ২৫০টি এবং ঢাকার বাইরে আছে ৬ হাজার ৩৪টি। সারাদেশে আইসিইউ শয্যা আছে ৩৯৯টি, ডায়ালাইসিস ইউনিট আছে ১০৬টি। গত ২৪ ঘণ্টায় হোম ও প্রাতিষ্ঠানিক মিলিয়ে কোয়ারেন্টাইনে নেওয়া হয়েছে ৪ হাজার ১১ জনকে। এ পর্যন্ত কোয়ারেন্টাইনে নেওয়া হয়েছে ২ লাখ ৫১ হাজার ৫০২ জনকে। গত ২৪ ঘণ্টায় কোয়ারেন্টাইন থেকে ছাড় পেয়েছেন ২ হাজার ২৮৭ জন। এ পর্যন্ত মোট ছাড় পেয়েছেন ১ লাখ ৯৮ হাজার ৫৬২ জন। বর্তমানে হোম ও প্রাতিষ্ঠানিক মিলিয়ে কোয়ারেন্টাইনে রয়েছেন ৫২ হাজার ৯৪১ জন। দেশের বিভিন্ন জেলা-উপজেলাপর্যায়ে প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনের জন্য ৬২৬টি প্রতিষ্ঠান প্রস্তুত রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে তাত্ক্ষণিকভাবে সেবা দেওয়া যাবে ৩১ হাজার ৮৪০ জনকে।