ঘূর্ণিঝড় আম্ফান তাণ্ডবে যশোরে প্রাণ গেল ৬ জনের

আপডেট : ২১ মে ২০২০, ১৭:১৭

ঘূর্ণিঝড় আম্ফানের তাণ্ডবে বুধবার (২০ মে) রাতে যশোরে ৬ জন নিহত হয়েছেন।

নিহতরা হলেন জেলার চৌগাছা উপজেলার পৌর এলাকার হুদো চৌগাছার ওয়াজেদ হোসেনের স্ত্রী চায়না বেগম (৪৫) ও মেয়ে রাবেয়া খাতুন (১৩), বাঘারপাড়া উপজেলার দরাজহাট ইউনিয়নের বুদোপুর গ্রামের ছাত্তার মোল্লার স্ত্রী ডলি খাতুন (৪৫) এবং শার্শা উপজেলার গোগা ইউনিয়নের পশ্চিমপাড়া গ্রামের শাহাজাহানের স্ত্রী ময়না খাতুন (৪০), বাগআচড়া ইউনিয়নের জামতলা গ্রামের আব্দুল গফুর পলাশের ছেলে মুক্তার আলী (৬৫) এবং শার্শা ইউনিয়নের মালোপাড়া গ্রামের সুশীল বিশ্বাসের ছেলে গোপাল চন্দ্র বিশ্বাস। চৌগাছার একই ঘটনায় ওয়াজেদ হোসেনের ছেলে আলামিন (২২) আহত হয়েছেন। 

বৃহস্পতিবার বিকেলে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শফিউল আরিফ এসব হতাহতের ঘটনা ইত্তেফাককে নিশ্চিত করেছেন।

চৌগাছায় নিহত মা-মেয়ে এবং আহত ছেলে ঝড়ের সময় ঘরে ছিলেন। রাত ১০টার দিকে ঘরের পাশের একটি গাছ ভেঙে ঘরের ওপর পড়ে। এ সময় চাপা পড়ে মা ও মেয়ে নিহত হন। আর বাঘারপাড়ার নিহত গৃহবধূ নামাজ পড়ার পর কোরআন তেলাওয়াত করছিলেন। ঝড়ে একটি আমগাছের ডাল টিনের ঘরের চালার ওপর ভেঙ্গে পড়লে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। শার্শায় নিহতদের মধ্যে মুক্তার আলী ও গোপাল চন্দ্র বিশ্বাস নিজেদের ঘরের মধ্যেই গাছ ভেঙে পড়লে তাদের মৃত্যু হয়। আর ময়না খাতুন স্বামীর সাথে এক ঘর থেকে আরেক ঘরে যাবার সময় গাছ পড়ে মারা যান। তবে স্বামী বেঁচে যান। 

আরও পড়ুনঃ আম্ফানের আঘাতে বিষখালী নদীর বেড়িবাঁধ ভেঙে ২০ গ্রাম প্লাবিত

এদিকে ঘূর্ণিঝড় আম্ফানের তাণ্ডবে যশোরের বিভিন্ন এলাকা লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে। পড়ে গেছে অসংখ্য কাঁচাঘর। উড়ে গেছে আধাপাকা বাড়ির টিনের চাল। এছাড়া গাছ উপড়ে ও ডাল ভেঙ্গে পড়ায় বিভিন্ন সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন ছিল। যশোর-বেনাপোল সড়কে শতবর্ষী গাছসহ অসংখ্য গাছ উপড়ে পড়ায় বিকাল ৫টা পর্যন্ত জেলা শহরের সাথে বেনাপোলের সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। যোগাযোগ ব্যবস্থা সচল করতে কাজ করছে ফায়ার সার্ভিস। এদিকে ফল ফসলেরও ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। তবে সে ক্ষতির পরিমাণ এখনও নিরুপণ করা সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক।

রাত ১০টার দিকে ঘূর্ণিঝড় আম্ফান যশোরে আঘাত হানে। যশোরস্থ বিমান বাহিনীর আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা যায়, রাত ১২টার দিকে ঝড়ের গতিবেগ ছিল ঘন্টায় ১৩৫ কিলোমিটার। 

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরে উপপরিচালক ড. মোহাম্মদ আক্তারুজ্জামান জানিয়েছেন, যশোরে ৪ হাজার ৭শ হেক্টর জমিতে আম ও লিচু রয়েছে। সবজি রয়েছে ২০ হাজার হেক্টর, পানের বরজ রয়েছে ১১শো হেক্টর। এসব ফল ফসলের কিছু ক্ষতি হবে। তবে তা এখনও নিরুপন করা সম্ভব হয়নি। 

জেলা প্রশাসক মোহাম্মাদ শফিউল আরিফ জানিয়েছেন, আম্ফানের কারণে কি পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে তা এখনও জানা যায়নি। তবে যোগাযোগ ব্যবস্থা সচল করতে ফায়ার সার্ভিস কাজ শুরু করেছে। দ্রুতই সড়কগুলো চলাচলের উপযোগী হবে। 

ইত্তেফাক/ এমএএম