সুপার সাইক্লোন আম্পান বুধবার রাতে বাংলাদেশ অতিক্রম করলেও বৃহস্পতিবার দুপুর পর্যন্ত খবর নিয়ে জানা গেছে ভোলা জেলার বেশিরভাগ এলাকার আকাশ এখনো মেঘাচ্ছন্ন । কোথাও থেমে থেমে হালকা বৃষ্টি হচ্ছে । অন্যদিকে ঝড় চলে যাওয়ায় আশ্রয়কেন্দ্র ছাড়ছে মানুষ। উপকূলে বড় ধরনের কোনো ক্ষয়-ক্ষতি হয়নি। আতঙ্ক আর উৎকন্ঠা কেটে স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে জনজীবন।
ঝড়ে আউশ, পাট, চিনা বাদাম ও সয়াবিনের কিছুটা ক্ষতির আশঙ্কা করলেও কৃষি বিভাগের উপপরিচালক হরলাল মধু জানালেন, যে পরিমাণ বৃষ্টি হয়েছে তাতে ফসলের ক্ষতির কোনো সম্ভাবনা নেই। তারপর ও নিরুপণের কাজ চলছে।
জানা গেছে, জেলা সদর ও চরফ্যাশনের কিছু এলাকায় ১০/১৫টি কাচা ও আধাপাকা ঘর এবং দুটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বিধ্বস্ত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার সকাল থেকে জোয়ারের পানিতে ফের প্লাবিত হয়েছে বেরি বাঁধের বাইরের নিচু এলাকাগুলো। এর মধ্যে রয়েছে চরফ্যাশনের ঢালচর, চর পাতিলা, চর নিজাম, মনপুরার কলাতলীরচর, দৌলতখানের মদনপুরসহ বেশ কিছু এলাকা। তবে পানির চাপ কিছুটা কম।
আরও পড়ুন: ট্রেনে চড়ে ঢাকায় যাবে রাজশাহীর আম, খরচ সর্বোচ্চ দেড় টাকা
ভোলা পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) এর নির্বাহী প্রকৌশলী হাসান মাহমুদ জানান, বেড়ি বাঁধের কিছু পয়েন্টে আংশিক ক্ষতি হতে পারে, তবে তার তালিকা তৈরির কাজ চলছে।
ভোলা জেলা প্রশাসক (ডিসি) মাসুদ আলম ছিদ্দিক জানান ঘূর্ণিঝড়ের তাণ্ডবে জেলায় ট্রলার ডুবি ও গাছচাপা পড়ে নিহত দুই পরিবারকে নগদ ২০ হাজার করে ৪০ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছে।
চরফ্যাশনে গাছচাপা পড়ে ছিদ্দিক ও ভোলা সদরের ইলিশা রাজাপুরের নিকট ট্রলার ডুবিতে বোরহানউদ্দিনের রফিকুল ইসলামের পরিবারকে এ টাকা দেয় প্রশাসন।
তিনি আরো বলেন, সকাল থেকেই আশ্রয়কেন্দ্র ছাড়ছে মানুষ এবং জনজীবন স্বাভাবিক হয়ে উঠছে। বৃহস্পতিবার বিকেলের মধ্যে ক্ষয়ক্ষতির তালিকা তৈরি করা হবে।
ইত্তেফাক/এসি
