আম্ফান: বরিশাল বিভাগে ৫জনের মৃত্যু

আপডেট : ২১ মে ২০২০, ১৯:২০

বরিশালে ঘূর্ণিঝড় আম্ফানে বেশ কিছু কাঁচা ঘর-বাড়ি, গাছ-পালা, ফসল, বিদ্যুৎ, রাস্তা ও মৎস্য সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তবে বিভাগীয় প্রশাসন ও জেলা প্রশাসনের ক্ষয়ক্ষতি নিরূপনের কাজ চলমান থাকায় সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি। ঘুর্ণিঝড়ে কয়েকটি স্থানে বিদ্যুতের পোস্ট ভেঙ্গে যাওয়ায় কয়েক ঘণ্টা সংযোগ বিচ্ছিন্ন ছিলো। তবে সকাল ৯টার পর থেকে বেশ কিছু স্থানে বিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্বাভাবিক হয়েছে।

বিভাগীয় কমিশনার মুহাম্মদ ইয়ামিন চৌধুরী জানান, ঘূর্ণিঝড়ে বরিশাল বিভাগের বিভিন্ন জেলায় মোট ৫জনের মৃত্যু হয়েছে। এরমধ্যে গাছচাপা পরে দুজন, নৌকা ডুবিতে দুজন এবং দেয়াল চাপা পড়ে একজন মারা যায়। তিনি জানান, বিভাগে ১৫ লাখ ৪৯ হাজার ৩জন মানুষ আশ্রয় কেন্দ্রে আশ্রয় নিয়েছিল। এছাড়া ৩ লাখ ৩০ হাজার ৮৪টি গবাদি পশু আশ্রয় নেয়। বিভাগীয় কমিশনার জানান, ক্ষয়ক্ষতি নিরূপনে দ্রুততার সাথে কাজ চলছে এবং ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। 

বিভাগের ১৯ হাজার মাছের খামার ক্ষতিগ্রস্ত: বরিশাল বিভাগের ৬ জেলায় ১৯ হাজার ২৪টি মাছের খামার, ঘের ও পুকুর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মৎস্য অধিদপ্তরের বরিশাল বিভাগীয় কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মো. আজিজুল হক। তিনি জানান, ক্ষয়ক্ষতির সঠিক হিসেব নিরূপনে আরো সময় লাগবে। তবে প্রাথমিক তথ্যানুযায়ী ঘূর্ণিঝড় আম্ফানে বরিশাল বিভাগে ১৯ হাজার ২৪ টি মাছের খামার, ঘের ও পুকুর আংশিক এবং পুরোপুরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে ১৮ কোটি টাকার মতো ক্ষতিসাধন হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এছাড়া কিছু মাছ ধরার নৌকা ও জাল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

বরিশালে সাড়ে ২৪ হাজার ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত: বরিশাল জেলায় ২৪ হাজার ৪৮০ টি বাড়িঘর বিধ্বস্ত হয়েছে। এরমধ্যে ১৬ হাজার ৩২০টি আংশিক ও ৮ হাজার ১৬০ টি সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া দমকা বাতাসের প্রভাবে কোন কোন স্থানে গাছপালাও উপরে পড়েছে। তবে মাঠে থাকা বেশির ভাগ ধান আগাম কেটে ফেলায় এর ক্ষয়ক্ষতির পরিমান কম বলে জানিয়েছে জেলা প্রশাসক এসএম অজিয়র রহমান।

 

ইত্তেফাক/আরকেজি