লাইলাতুল কদরের মাহাত্ম্য ও আমল

আপডেট : ২১ মে ২০২০, ২১:০২

মুফতি হেলাল উদ্দীন হাবিবী

নিশ্চয় আমি কদরের রজনিতে কোরআন নাযিল করেছি। কদরের রজনি সম্বন্ধে আপনি জানেন কি? কদরের রজনি হাজার মাস অপেক্ষা উত্তম। (সুরা কদর, আয়াত:১-৩) এভাবেই মহান আল্লাহ তাআলা পবিত্র কোরআনে এ রাতের শ্রেষ্ঠত্ব সম্পর্কে আলোকপাত করেছেন। লাইলাতুন শব্দের অর্থ রাত বা রজনি। আর কদর শব্দের অর্থ শ্রেষ্ঠত্ব, মর্যাদা, পরিমাণ ইত্যাদি। সুতরাং ‘লাইলাতুল কদর’-এর অর্থ শ্রেষ্ঠ রজনি, মর্যাদাবান রাত। মহান রাব্বুল আলামিন এ রাতের মর্যাদা সম্পর্কে বলেছেন, কদরের রজনি হাজার মাসের চেয়েও উত্তম। (সুরা কদর, আয়াত :৩) এখানে মহান আল্লাহ তাআলা লাইলাতুল কদর বা শবে কদরকে হাজার মাসের সমান বলেননি; বরং হাজার মাস অপেক্ষা উত্তম বলেছেন। তাই আমরা যদি কদরের রজনিকে ১ হাজার মাসের সমানও ধরি, তাহলে এ রাতটি ৮৩ বছর ৪ মাসের সমপরিমাণ হয়। অর্থাত্, যে ব্যক্তি লাইলাতুল কদর পেল এবং তাতে ইবাদত-বন্দেগি করল, সে যেন ৮৩ বছর ৪ মাস ইবাদত করার সমপরিমাণ সওয়াব লাভ করল। তার পরও এ রাত হাজার মাস অপেক্ষা কত গুণ উত্তম(?) এক গুণ, দুই গুণ না বহুগুণ, তা প্রজ্ঞাময় প্রভুই ভালো জানেন।

মহান আল্লাহ তাআলা এ সুরার মাঝে লাইলাতুল কদর বা শবে কদরের চারটি বৈশিষ্ট্য উল্লেখ করেছেন :১. এ রজনিতে কোরআন অবতীর্ণ হয়েছে। ২. এ রাতে জিবরাইল (আ)-এর নেতৃত্বে ফেরেশতারা দুনিয়ায় আগমন করেন। ৩. এ রাত হাজার মাস অপেক্ষা উত্তম। ৪. এ রাতে সুবহে সাদিক পর্যন্ত শান্তি ও নিরাপত্তার বারি বর্ষিত হতে থাকে।

হযরত মুজাহিদ (রহ) এই সুরা কদরের শানেনুজুল প্রসঙ্গে বলেন, প্রিয়নবি (স) একবার বনি ইসরাইলের এক ব্যক্তির আলোচনা প্রসঙ্গে বললেন যে তিনি ১ হাজার মাস পর্যন্ত আল্লাহর পথে জিহাদে অংশগ্রহণ করেছিলেন। সাহাবিরা এতদশ্রবণে যারপরনাই আশ্চর্যান্বিত হলেন। অতঃপর আল্লাহ তাআলা সুরা কদরের প্রথম আয়াত থেকে তৃতীয় আয়াত পর্যন্ত নাযিল করলেন এবং এই আয়াতে কদরের এক রজনির ইবাদতকে উল্লেখিত মুজাহিদের হাজার রাতের ইবাদত অপেক্ষা উত্তম সাব্যস্ত করলেন। (বায়হাকি)

শবে কদর কোন রজনিতে হবে?

লাইলাতুল কদর বা শবে কদর কোন রজনিতে হবে, প্রজ্ঞাময় স্রষ্টা বিশেষ কারণে তা গোপন রেখেছেন এবং মহানবিও (সা) এ বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো তারিখ বর্ণনা করেননি। তবে হযরত আয়েশা (রা) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (স) ইরশাদ করেন, তোমরা মাহে রমজানের শেষ দশকের যে কোনো বিজোড় রজনিতে লাইলাতুল কদরকে অন্বেষণ করো। (বুখারি, মুসনাদে আহমদ)

অধিকাংশ উলামায়ে কেরামের মতে, মাহে রমজানের ২৭ রজনি হলো শবে কদর হওয়ার অধিক সম্ভাবনাময় রাত। তবে যে ব্যক্তি শবে কদরের পুরস্কার নিশ্চিতভাবে অর্জন করতে চায়, তার জন্য মাহে রমজানের শেষ দশকের প্রতিটি বিজোড় রজনিতে জাগ্রত থেকে মহান প্রভুর ইবাদত-বন্দেগিতে মশগুল হওয়া একান্ত বাঞ্ছনীয়।

কারণ রাসুলে কারিম (সা) ইরশাদ করেন, তোমাদের মাঝে একটি মাস এসেছে, যার মধ্যে এমন এক রজনি রয়েছে, যা হাজার মাস অপেক্ষা উত্তম। যে ব্যক্তি উক্ত রজনি থেকে বঞ্চিত হলো, সে যেন যাবতীয় কল্যাণ থেকে বঞ্চিত হলো। (ইবনে মাযাহ্)

   lলেখক :মুফাসিসরে কোরআন, ইসলামি গবেষক ও খতিব