জেলার উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া ঘূর্ণিঝড় আম্ফানের প্রভাবে ঝড়ো হাওয়া ও অতি বৃষ্টিপাতের ফলে ১০ হাজার ৭শ হেক্টর জমির বোরো পাকা ধান জমিতে হেলে পড়ায় ক্ষতির আশঙ্কা করছেন কৃষকরা।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্র জানায়, খাদ্যে উদ্বৃত্ত জেলা জয়পুরহাটে আগাম জাতের বোরো ধানসহ ইতোমধ্যে ৩২ ভাগ ধান কাটা মাড়াই সম্পন্ন হয়েছে। বৈরি আবহাওয়ার কারণে কৃষকদের ধান কাটার পরামর্শ প্রদান করা হয় কৃষি বিভাগ থেকে। এর মধ্যে গত সপ্তাহে পর পর দু’দফা হালকা ঝড়ের মধ্যে পড়লেও বোরো ধানের তেমন ক্ষতি হয়নি। বুধবার রাত থেকে শুরু হওয়া সুপার ঘূর্ণিঝড় আম্ফানের প্রভাবে জয়পুরহাট সদর, পাঁচবিবি, ক্ষেতলাল, আক্কেলপুর ও কালাই উপজেলার ১০ হাজার ৭শ হেক্টর জমির বোরোর পাকা ধান হেলে পড়েছে। এতে কিছুটা হলেও ফলনের ক্ষতি হবে বলে আশঙ্কা করেছেন কৃষকরা।
সদর উপজেলার কোমগ্রাম এলাকার কৃষক সামছুল ইসলাম জানান, তার ৫ বিঘা জমির বোরোর পাকা ধান সম্পূর্ণভাবে হেলে পড়েছে এবং কিছু ধান বৃষ্টিতে ডুবেও গেছে। এ ছাড়াও ঝড়ো হাওয়ার কারণে জেলায় বেশ কিছু জমির ভুট্টাও হেলে পড়েছে।
ধান পানিতে ডুবে না যাওয়ায় তেমন ক্ষতি হবে না বলে মন্তব্য করেন জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ পরিচালক কৃষিবিদ স ম মেফতাহুল বারি। জেলায় ৩০ দশমিক ৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
কৃষি বিভাগ জানায়, আবহাওয়া ভাল থাকায় জেলায় এবারও বোরো ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। জেলার পাঁচ উপজেলায় ধানের ফলন ভাল হয়েছে। এবার বোরো ধানের চাষ হয়েছে প্রায় ৭০ হাজার হেক্টর জমিতে। এতে সাড়ে ৪ লাখ মেট্রিক টন চাল উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধার্য করা হয়েছে। হঠাৎ করেই আবহাওয়া খারাপ হওয়ায় দুশ্চিন্তায় পড়েছেন জেলার বোরো চাষীরা। আবহাওয়া ভাল হলেই আবার পুরোদমে বোরো ধান কাটা মাড়াই শুরু হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন কৃষক ও কৃষি বিভাগ।
ইত্তেফাক/এমআরএম
