গোপনে ঈদ কোনাকাটায় গুনতে হচ্ছে জরিমানা

আপডেট : ২২ মে ২০২০, ১৯:১৩

করোনা ভাইরাসের ঝুঁকি এড়াতে রাজশাহী জেলা ও মহানগরের মার্কেট-দোকানপাট বন্ধ রাখতে বলেছে প্রশাসনের। কিন্তু প্রশাসনের নির্দেশ না মেনে এখনও কিছু ব্যবসায়ী কৌশলে দোকান খুলছেন। তারা রাস্তায় অথবা দোকানের পাশে দাঁড়িয়ে থাকছেন। ক্রেতা ধরে দোকানের সাটার তুলে ভেতরে ঢুকিয়ে অথবা মালামাল এনে বিক্রি করছেন।
 
এভাবে বিক্রিতে জড়িত ব্যবসায়ী এমনকি ক্রেতাদের যারা গোপনে ঈদের বেচাকেনা করছেন তাদের জরিমানা করছে জেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালত। করোনার ঝুঁকি এড়াতে শুক্রবার রাজশাহী নগরীর সাহেববাজারে এভাবে বেশ কয়েজনককে জরিমানা করতে দেখা যায়। জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আরাফাত আমান আজিজ দুপুর পর্যন্ত বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালান। 

হাতে শপিং ব্যাগ দেখে সকালে সাহেববাজার এলাকায় এক তরুণের পথ আটকায় পুলিশ। এ সময় তার ব্যাগে পাওয়া যায় একটি নতুন প্যান্ট। ম্যাজিস্ট্রেট আরাফাত আমান ওই তরুণের কাছে জানতে চান কোন দোকান থেকে কিনে আনলেন। কিন্তু ওই তরুণ বলেন, স্যার, দোকানটা বন্ধ করে দিয়েছে। তিনি ঠিকানা জানাতে অপরাগতা প্রকাশ করেন। তাই তাকে ২০০ টাকা জরিমানা করা হয়। একই সময় সাহেববাজার এলাকায় দুই নারীকে হেঁটে যেতে দেখে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আরাফাত আমানের কাছে স্বীকার করেন তারা ঈদের কেনাকাটা করতে এসেছেন। কিন্তু এটি তাদের ব্যক্তিগত ব্যাপারে বলে মন্তব্য করেন। তখন ম্যাজিস্ট্রেট তাদের ৩০০ করে ৬০০ টাকা জরিমানা করেন। এছাড়া সাহেববাজার ওভারব্রিজ সংলগ্ন একটি কাপড়ের দোকান থেকে পোশাক বিক্রির অভিযোগে ভ্রাম্যমাণ আদালত এক ব্যবসায়ীকে এক হাজার টাকা জরিমানা করেন। 

আরও পড়ুন: চাচার বিরুদ্ধে ভাতিজির পর্ণোগ্রাফির মামলা, সাক্ষীদের ধরলো পুলিশ

এভাবে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালানো হয়। তবে সকালে নিউমার্কেটের ভেতর থেকে ব্যবসায়ীদের মালামাল এনে দিতে দেখা গেছে। ব্যবসায়ীরা নিউমার্কেটের গেটের সামনে দাঁড়িয়ে থাকছেন। কেউ সেদিকে গেলে জানতে চাইছেন কী লাগবে। এরপর দোকান থেকে এনে দিচ্ছেন।

করোনা ভাইরাস ছড়িয়ে পড়া রোধে আগেই সারাদেশের মার্কেট-দোকানপাট বন্ধের সিদ্ধান্ত হয়। কিন্তু গত ১০ মে থেকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে দোকানপাট খোলার সিদ্ধান্ত আসে। এরপর সামাজিক দূরত্ব না মেনেই ব্যবসা করছিলেন রাজশাহীর দোকানীরা। এ অবস্থায় গত সোমবার জেলা আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত কোর কমিটির সভায় ওষুধ, জরুরি সেবা, খাবার ও কাঁচাবাজার ছাড়া রাজশাহীর সব দোকানপাট বন্ধের সিদ্ধান্ত হয়।

এরপর গত মঙ্গলবার থেকে রাজশাহী মহানগরীতে অভিযান শুরু করেছে জেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালত। পুলিশ এবং সেনাবাহিনীর সদস্যরাও মাঠে আছেন। বিনাপ্রয়োজনে ঘোরাফেরা করলে জরিমানার পাশাপাশি রাস্তায় ১৫ মিনিট থেকে এক ঘণ্টা পর্যন্ত দাঁড় করিয়ে রেখে শাস্তি দেওয়া হচ্ছে।

ইত্তেফাক/এসি