করোনা পরবর্তী খাদ্যসংকট মোকাবিলা

আপডেট : ২২ মে ২০২০, ২১:৫০

মুহাম্মাদ রিয়াজ উদ্দিন

জমি পতিত না রেখে কৃষিকাজে সর্বোচ্চ ব্যবহারের কথা বলেছেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। করোনা পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশে যেন খাদ্য সংকট তৈরি না হয় সেজন্য নাগরিকদের প্রতি তাঁর এই আহ্বান। জাতিসংঘ এবং বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি ডব্লিউএফপি বলেছে, বিশ্বে করোনা ভাইরাসের প্রভাবে বড়ো আকারের দুর্ভিক্ষের সম্ভাবনা রয়েছে এবং এতে প্রায় তিন কোটি মানুষ অনহারে প্রাণ হারাতে পারে। এর পেছনে কৃষি উত্পাদন হ্রাস এবং অনেক দেশ খাদ্যশস্য রপ্তানি বন্ধ করে দেওয়ার আশঙ্কাকে কারণ হিসেবে দেখানো হয়েছে। এ অবস্থায় কৃষিপ্রধান বাংলাদেশের প্রতিটি জমি চাষযোগ্য করার জন্য আমাদের এখনই পদক্ষেপ নিতে হবে। পতিত জমির সর্বোত্তম ব্যবহারেই আমরা খাদ্য সংকট মোকাবিলা করতে সক্ষম হবো। সংকটকালীন এ সময়ে কৃষি কাঠামো সচল রাখতে শুধু কৃষকই নয়, বরং সবার প্রত্যক্ষ কিংবা পরোক্ষ অংশগ্রহণের অনিবার্য প্রয়োজন দেখে দিয়েছে। বাড়ির আঙিনা, বদ্ধ জলাশয়, পুকুরসহ আবাদযোগ্য যে কোনো জমিই যথাযথ ব্যবহার উপযোগী করে গড়ে তুলতে হবে। আমদানিনির্ভর খাদ্যবস্তু শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনার ব্যাপারে সচেতন হওয়ারও সময় এসেছে।

কৃষকরাই যে খাদ্য উত্পাদন করে সরবরাহ করবে—এমন ধারণা থেকেও আমাদের বেরিয়ে আসার মোক্ষম সময় এখন। নিজ নিজ জমিতে সামর্থ্য অনুযায়ী শাকসবজি উত্পাদন করে নিজেদের জোগান মেটানো সম্ভব। করোনা ভাইরাস প্রাদুর্ভাব দেখা যাওয়ার পর থেকে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে সাধারণ ছুটি চলছে। চাকরিজীবীরা বাড়িতে অবস্থান করছেন। তাঁরা বাড়ির আঙিনায় শাকসবজির গাছ লাগিয়ে প্রধানমন্ত্রীর আহ্বানে সাড়া দিতে পারেন। সকলের উচিত সময় ক্ষেপণ না করে মৌসুম অনুযায়ী সবজি উত্পাদনে সম্পৃক্ত হওয়া। এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি অফিস কৃষক তথা আগ্রহী ব্যক্তিকে বীজ ও অন্যান্য বিষয়ে সহায়তা দিতে পারে। বদ্ধ জলাশয়, পুকুর মাছ চাষের জন্য ব্যবহারে উদ্বুদ্ধ করা যেতে পারে। প্রতিটি কৃষিজমি চাষের আওতায় আনার ব্যবস্থা করতে হবে। কৃষিকাজে উদ্বুদ্ধ করানোর ব্যাপারে গণমাধ্যমের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। গণমাধ্যম প্রচারণা চালাতে পারে—মানুষ যাতে অলস সময় পার না করে সময়টা কাজে লাগানোর চেষ্টা করে। সতেরো কোটি মানুষের দেশে খাদ্য সংকট তৈরি হবে এটা কখনোই প্রত্যাশিত নয়। ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র প্রয়াসের মাধ্যমে খাদ্য উত্পাদন বাড়াতে হবে। দেশের যে কোনো সংকটে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করলেই তা মোকাবিলা করা সম্ভব।

করোনাকালে সতর্ক থাকা সর্বাগ্রে প্রয়োজন। পরিশেষে, দেশের প্রতিটি নাগরিক সাধ্য অনুসারে কৃষিকাজে সম্পৃক্ত হবেন—এটাই সময়ের প্রত্যাশা।

বরিশাল