করোনা ভাইরাস সংক্রমণকে পেছনে ফেলে আবার তেঁতে উঠেছে হংকং। সেখানে নতুন নিরাপত্তামূলক আইন পরিকল্পনা করছে চীন। এমন ঘোষণা দেওয়ার পর থেকেই গণতন্ত্রপন্থিদের মধ্যে ক্ষোভ বাড়তে থাকে। ফলে চীনের ওই পরিকল্পনা ঘোষণা দেওয়ার পর রবিবার প্রথম বিক্ষোভকারীরা চীনের দমননীতির বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করে রাস্তায় নেমে আসে। এ সময় বিক্ষোভকারীদের ওপর কাঁদানে গ্যাস, মরিচের গুঁড়া ছুড়েছে পুলিশ।
এর আগে নতুন এমন আইন চাপিয়ে দেওয়ার সমালোচনা করে যৌথ বিবৃতি দিয়েছেন বিশ্বের সিনিয়র ২০০ রাজনীতিক। বিবৃতি স্বাক্ষরকারীরা বলেছেন, চীনের এই আইন ওই শহরের স্বায়ত্তশাসন, আইনের শাসন ও মৌলিক অধিকারের অবমাননা।
হংকংয়ের নিরাপত্তা ইস্যুতে চীন একটি আইন পাস করতে যাচ্ছে। এই আইনে হংকংয়ে রাষ্ট্রদ্রোহ, বিচ্ছিন্নতাবাদ, ধ্বংসলীলার মতো বিষয় নিষিদ্ধ করার কথা বলা হয়েছে। আইনটি হলে হংকংয়ে কেউ বৈধভাবে নিজেদের অধিকার নিয়ে কথা বলতে পারবেন না। তারা স্বাধীনতার জন্য আন্দোলন করতে পারবেন না। আতঙ্ক দেখা দিয়েছে গুরুত্বপূর্ণ অর্থনীতির কেন্দ্র হংকংয়ে এই আইনের ফলে বিদেশী বিনিয়োগকারীদের ক্ষতি হবে। কিন্তু চীন সেই আতঙ্ককে উড়িয়ে দিয়েছে। তারা ‘কাদা ছোড়াছুড়িতে’ ব্যস্ত দেশগুলোর কড়া সমালোচনা করেছে।
বর্তমানে হংকংয়ের নেতৃত্ব দিচ্ছেন প্রধান নির্বাহী ক্যারি লাম। তাকে দেখা হয় বেইজিংপন্থি রাজনীতিক হিসেবে। তিনি এরই মধ্যে প্রস্তাবিত আইনের প্রতি পূর্ণাঙ্গ সমর্থন দিয়েছেন এবং বলেছেন, এই আইন হলে হংকংয়ের স্বাধীনতা অপরিবর্তিত থাকবে।
গত বছর শেষের দিকে যে ধরনের বিক্ষোভ হয়েছিল হংকংয়ে রাবিবারের বিক্ষোভও সেই একই রকম ছিল। সে সময়ের মতো বিক্ষোভকারী ও পুলিশের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। কেউ কেউ এ সময় কর্মকর্তাদের দিকে ছাতার মতো বস্তু ছুড়ে মেরেছে। গত বছর গণতন্ত্রের পক্ষে বিক্ষোভকারীরা বিক্ষোভ শুরুর পর থেকে সেখানে গ্রেপ্তার করা হয়েছে কমপক্ষে ৮৩০০ মানুষকে।
ইত্তেফাক/বিএএফ
