জোনাকি
সে এলো চুপিসারে, আঁধারে যেভাবে আসে শিশির
শরীরে তার সন্ধ্যা মেখে সূর্য ডুবালে হৃদয়ের গভীরে
তাই পৃথিবীতে আজ নবান্নের অন্ধকার কিংবা মৃত আলোর কিচিরমিচির।
মৃত কিংবা জীবিত আলোর আইলে দাঁড়িয়ে রইলেন একজন কবি
তিনি মৃতদেহের অন্ধকার কেটে আলোর ফুল ফোটান পৃথিবীর টবে
সেই শবফুলের গন্ধে ভরে ওঠে মানুষের জন্মান্ধ মননয়ন।
তবুও আমি ও তুমি মৃত মানুষ হয়ে মাটির গভীরে মাটি হয়ে বাঁচি
আবার স্মৃতিসন্ধ্যায় ডোম হয়ে শিশিরের জলে ভিজে বলি :
‘হে অন্ধ পৃথিবীর মানুষ তোমরা জানো কি--
ডোমেরা কেন মৃত মানুষের চোখের জল মুছে, মৃত হয়ে কাঁদে?
কিংবা বাসি ফুলের মতো মৃত্যু ঘনিয়ে এলে--
আবার জীবিত হয় তোমাদের মৃতদেহের অন্ধকারে।’
এসব জীবিত ও মৃত শবের উপাখ্যান লিখে রাখেন এক ডোমকবি
যার মাথার ভেতর সহস্র জোনাকি আলো জ্বালে অথবা ফুল হয়ে ফোটে।
খুন্তি
তাদের হাত বৈদ্যুতিক বাল্ব চিবিয়ে খায়
যেমন করে টিকটিকির লেজের আঘাতে অন্ধঘড়ির ঘাড় মটকে যায়।
তার পাশে যূথচারী কয়েকটি উটপাখি রাশি রাশি
পেট্রোল খেয়ে উড়াল দেয় নিঝুম কুয়াশায়।
যেখানে পোষা ফুলের ছোবলে ঘুমিয়ে পড়ে অ্যানাকোন্ডা
যারা একদিন শীৎকার সাঁতার কেটেছিল পাথরগলা জলে।
সুতরাং জলের হৃদয় প্রসঙ্গ আসলেই
সমকামী বেদের এপিটাফে ভেসে যায় ময়ূরপঙ্খী।
সেই সকল ময়ূরপঙ্খী চড়ে আমাদের গাঁয়ে আসে পরপুরুষের পাঁচালি,
তখন আমাদের মাতাগণ হ্যাজাক জ্বেলে জরায়ুতে নিয়েছে হাঁড়িচাঁচা গীত।
তাই আমি এখন সেই জারজ--যার পাঁজরে হাঁটে লাল কাঁকড়া।
বানিয়াশান্তা
গতরাতে পশুর নদী গোটা গ্রাম গিলে ফেলেছে
কোনো বিষধর সাপের মতো ব্যাঙ গিলে ফেলার গল্প এটা নয়।
গল্পটি হল পাখির মতো খুঁটে খাওয়া মানুষের
যাদের প্রেমের ভগ্নাংশ জমা থাকে মৌচাকে
আর সেখানে তোমরা দাবানল লাগিয়ে মধু শিকার করো।
যাদের রক্তের ভেতর প্রতি মুহূর্তে চাবুকের আঘাত শুনতে পাওয়া যায়
যারা ঘর ভাড়া দিতে না পেরে শরীর ভাড়া দেয়
যারা প্রতিরাতে প্রতিমা বিসর্জনের মতো নিজেকে সমর্পণ করে
যাদের মৃতদেহের সৎকারের কোনো বিধান নেই তথাকথিত কোনো ধর্মে
আমি সেই কোনো এক মায়ের গর্ভজাত সন্তান।
আমি আমার প্রিয়তম জননীর জরায়ুর দিব্যি দিয়ে বলতে পারি--
ঢোলেপড়া সূর্যালোকে তোমাদের মতো আমার ছায়াও দীর্ঘায়িত হয়
সবুজ বাতাসে।
মগজ
বৃক্ষের কোনো মগজ নেই
তবুও খাদ্যের অভাব দেখা দিলে নিজের পাতা ঝেড়ে ফেলে।
কিংবা অন্ধ ডাইরেসিয়াসও জানে না—
পাখির মলে লুকিয়ে থাকা বীজ পরগাছা হবে কিনা।
তবে তিনি জানেন যে—
বেশীর ভাগ ফল গাছ থেকে পড়লে পাকা হয়।
অথবা কবর চাষাবাদ করে মানুষ পুঁতলেই
কংস হওয়া যায় না।
তার পূর্বে পড়ে নিতে হয় জেনটাই।
শিল্পের নামে বনসাঁই
উভয় লিঙ্গের কেঁচো ছাড়া আর কিই-বা হতে পারে
তবুও মেঘবালিকা আকাশে উঁড়িয়ে দিয়েছে জেলিফিশ।
আর লাটাই হাতে দাঁড়িয়ে থাকা মগজহীন বালক
ইঁদুর দাঁতে কেটে দিচ্ছে নাশপাতি জরায়ু।
এ কথা ভেবে বন্ধ্যানদের স্রোত--আর কত দূর যেতে পারে।
ইত্তেফাক/আরএ
